advertisement
আপনি পড়ছেন

হিডেন স্পাই ওয়্যারলেস কিট ব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেটের মূলহোতা ইকবাল ও তার অন্যতম ৩ সহযোগীকে বেশকিছু ডিভাইস ও আলামতসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

ikbal syndicateসেই কোটিপতি শিক্ষকের সহযোগীরাও সরকারি চাকুরে!

ইকবাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি বনে গেছেন এই ইকবাল। কোটি কোটি টাকার সম্পদসহ বিলাসবহুল বাড়িও তৈরি করেছেন নিজ এলাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসবকিছুই তিনি করেছেন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস  করে। এ কাজে তিনি হিডেন স্পাই ওয়্যারলেস কিট ব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিতেন এবং চাকুরী প্রার্থীর নিকট থেকে হাতিয়ে নিতেন মোটা অংকের অর্থ।

গতরাতে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতা মো. ইকবাল হোসেন (৪২) এবং তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন- রমিজ মৃধা (৩০), মো. নজরুল ইসলাম (৫০) ও মো. মোদাচ্ছের হোসেন (৬২)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করত। এরপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রত্যাশীদের খুঁজে বের করে ১০-১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো। এভাবে বিগত কয়েকবছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।

র‍্যাবের সরবরাহ করা তথ্যে জানা যায়, নজরুল ১৯৯৪ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরে অফিস সহকারি-কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগদান করেন। নজরুল এবং রমিজের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তারা একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিল। চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে সুম্পর্ক গড়ে উঠে নজরুলের।

এই সুযোগে নজরুল দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের ইকবাল ও রমিজের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিত।  বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সময়, স্থান ও পরীক্ষায় গার্ড খুঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করত নজরুল নিজে।

গ্রেপ্তারকৃত মোদাচ্ছের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সমাজসেবাকর্মী হিসেবে ২০১৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। সে ইকবালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করত। মোদাচ্ছের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে বের করে ইকবাল ও রমিজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিত।

রমিজ এই প্রতারক চক্রের অন্যতম সহযোগী এবং একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকাকালীন ২০২০ সালে ইকবালের সাথে তার পরিচয় হয়। সে সময় রমিজ তার আর্থিক সংকটের কথা ইকবালকে খুলে বলে এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা আছে বলে জানায়।

পরবর্তীতে ইকবাল তাকে (রমিজকে) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় সহযোগিতা করার কথা বলে এই প্রতারক চক্রের সদস্য করে নেয়। ডিজিটাল ডিভাইস সম্পর্কে জ্ঞান কম থাকায় ইকবাল রমিজকে দিয়েই এই কাজ সম্পাদন করাত।