advertisement
আপনি পড়ছেন

পুলিশ সদস্যের হাতের কবজি কেটে পালিয়ে যাওয়া কুখ্যাত সেই কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সহযোগীসহ চট্টগ্রামের লোহাগড়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের সাথে 'গোলাগুলির' ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি ও মাদক।

kabir ahmed chittagongকবির

গতরাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল লোহাগাড়া থানার বড় হাতিয়ার গহীন পাহাড়ি এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মো. কবির আহমদ (৪৩) এবং তার সহযোগী মো. কফিল উদ্দিন (৩০) গ্রেপ্তার করে।

অভিযান চলাকালে কবির তার নিকট থাকা অস্ত্র দিয়ে র‌্যাব সদস্যদেরকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে  কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব ও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত ১৫ মে  সকালে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানার একটি মামলার এজহারভুক্ত আসামি কবির আহমদকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় পুলিশের একটি আভিযানিক দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবির অস্ত্রসহ ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের উপর চড়াও হয়।

প্রথমে সে তার বাসা সনাক্তকারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্য জনি খান তাকে বাধা দিলে কবির তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জনি খানকে সজোরে আঘাত করে। এতে জনি খানের বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পুলিশ সদস্য শাহাদত হোসেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় কবির।

এমতাবস্থায় অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রানদা, একটি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি, ২ টি হাসুয়া, একটি ছুরি, ১৮০ পিস ইয়াবা, ২টি মোবাইল ও  সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

কবিরকে গ্রেপ্তারের বিবরণ দিতে গিয়ে র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ঘটনার পর কবির তার সহযোগী কফিলকে নিয়ে বান্দরবানের দক্ষিণ হাংগর এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপন করে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে কবির তার সহযোগীসহ দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় লোহাগাড়া থানার বড় হাতিয়ার গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। ১৯ মে  র‌্যাব-৭ এর অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, কবির স্থানীয় এলাকার একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখল, মারামারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তার নামে বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারামারিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।