advertisement
আপনি পড়ছেন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলার বহুল আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং একাধিক মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমির মুফতি আব্দুল হাইকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

mufti abdul highমুফতি আব্দুল হাই গ্রেপ্তার

র‍্যাব জানায়, গতকাল বুধবার রাতে র‌্যাব-২ এর একটি দল মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি মৃত্যুদণ্ড ও ২টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সবমিলিয়ে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার অদূরে মুফতি আব্দুল হাইসহ অপরাপর জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখে। এ  ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট মুফতি আব্দুল হাইসহ ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেন আদালত।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের অতর্কিত বোমা হামলায় ১০ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও অনেকে আহত হন। ওই ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। হত্যা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন আদালত ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জনসভা চলাকালে গ্রেনেড হামলা হয়। সেই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং প্রায় তিন শতাধিক গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার সহযোগিতাসহ ২টি পৃথক মামলা দায়ের হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুফতি আব্দুল হাইসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরে বৈদ্যের বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জনকে হত্যা করে এবং কমপক্ষে শতাধিক লোককে আহত করে। সেই ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাই চার্জশীটভুক্ত পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে ২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। কুমিল্লা জেলায় তার বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন জঙ্গিবাদী ঘটনার সাথে হরকাতুল জিহাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে ২০০৬ সালের পর মুফতি আব্দুল হাই আত্মগোপনে চলে যায়। তার পরিবার তখনও নারায়ণগঞ্জেই বসবাস করত। সে কুমিল্লা জেলার গৌরিপুরে তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকে। গৌরিপুর বাজারে তার শ্বশুরের কেরোসিন ও সয়াবিন তেলের ডিলারশিপের ব্যবসা ছিল। সে সারাদিন ব্যবসা দেখাশোনা করে ওই দোকানেই রাত কাটাত।

২০০৯ সাল পর্যন্ত সে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা এভাবেই আত্মগোপনে ছিল। তবে মাঝেমধ্যে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করত। পরবর্তীতে কৌশলে সে তার ও পরিবারের সকলের ঠিকানা পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জে ভোটার হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। স্থানীয় এলাকাবাসী যেন তার পরিচয় জানতে না পারে সে জন্য ঘর থেকে খুব কম বের হতো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তার বর্তমান ঠিকানার বাসাটি এলাকার লোকজনের কাছে তার বড় ছেলের বাসা হিসেবে পরিচিত করায়। গত রাতে র‌্যাব-২ এর একটি অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় আসামির বর্তমান ঠিকানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।