advertisement
আপনি দেখছেন

মানব পাচার, অর্থ পাচার ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। অপরাধ স্বীকারের পর আটক করা হচ্ছে তার সঙ্গী-সাথীদের। অথচ এই ঘটনার কিছুদিন আগে এমপি পাপুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস.এম আবুল কালাম। চিঠিতে তিনি বলেছেন, পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘বানোয়াট’।

kuwait ambassadorকুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস.এম আবুল কালাম

এমপি পাপুলের আটক থেকে শুরু করে রিমান্ডে নেওয়া এবং তার স্বীকারোক্তি নিয়ে তার পক্ষে টু-শব্দটি করা হয়নি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। অথচ কুয়েতে বসে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তার পক্ষে সাফাই গেয়ে চিঠি লিখলেন! ব্যাপারটিকে ‘রহস্যময়’ আখ্যা দিয়ে সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা বলছেন, পাপুলের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি হতে পারেন রাষ্ট্রদূত নিজেও। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘এমপি পাপুলকে মানব পাচারকারী উল্লেখ করে কুয়েতের গণমাধ্যমগুলোতে যে সংবাদ ছাপা হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এ ব্যাপারে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস পত্রিকার রিপোর্টারকে আমার দপ্তরে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। সে বলেছে, লোকমুখে শুনে এসব সংবাদ তৈরি করা হয়েছে।’

al mp papulকুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল

গত ৭ জুন এমপি পাপুলকে কুয়েতে গ্রেপ্তার করা হয়। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হাতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ থাকার পরও প্রথমে পাপুল দোষ স্বীকার করেননি। তারপর তার সামনে ভুক্তভোগীদের ৭ জনকে হাজির করা হয়। তারা যখন সামনাসামনি এসে প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা বর্ণনা করেন তখন চুপ ছিলেন পাপুল। তার সামনেই ভুক্তভোগীরা অভিযোগ আনলেও তিনি কিছু বলেননি। পরে দেশটির সিআইডির কাছে অপরাধ স্বীকার করে নেন এমপি পাপুল।

রাজনীতির মাঠে না থাকলেও গত নির্বাচনে হঠাৎ করেই লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান পাপুল। মনোনয়ন না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। কিছুদিন পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন জানান। জানা যায়, বিপুল অংকের অর্থ ঘুষ দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।