advertisement
আপনি দেখছেন

অসুস্থ মাকে দেখার জন্য অন্ধকার ঝড়ের রাতে ভয়ঙ্কর দামোদর নদী সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। মাকে ভালোবেসে যুগে যুগে এমন আরো অনেক কীর্তি রেখে গেছেন সন্তানরা। তেমনি এবার মাকে পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য তার ছদ্মবেশ ধরে পরীক্ষা দিতে গেলেন এক সন্তান। যদিও শেষ পর্যন্ত কার্য সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

son take mother getupমায়ের ছদ্মবেশে হেইটার শ্যায়েভ

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মারিয়া শ্যায়েভ নামের এক নারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তিন তিনবার ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি ব্রাজিলের নোভো মুটুম পারান শহরের ৬০ বছর বয়সী এই বাসিন্দা। পরে তাকে পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য এগিয়ে আসেন তার ৪৩ বছর বয়সী ছেলে হেইটার শ্যায়েভ।

মায়ের ছদ্মবেশ নিয়ে চলে যান পরীক্ষা দিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও মারিয়াকে পরীক্ষায় পাস করাতে পারেননি। ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার আগেই ধরা পড়ে যান হেইটার। এরপর তাকে তুলে দেয়া হয় পুলিশের হাতে।

জানা যায়, মায়ের মতো ছদ্মবেশ ধরতে মহিলাদের পোশাকও পরেছিলেন হেইটার। মাথায় পরেছিলেন পরচুলা, নখে লাগিয়েছিলেন নেইলপলিস। এমনকি নিজেকে বয়স্ক দেখানোর জন্য মেকাআপও করেছিলেন মুখে। এরপর পরীক্ষার প্রথম ধাপ পেরিয়ে গাড়ির চালকের আসনেও বসেন তিনি। কিন্তু ঠিক তখনই তাকে দেখে সন্দেহ হয় ড্রাইভিং ইন্সপেক্টরের। আর এতেই ধরা পড়েন হেইটার।

heitor schiaveহেইটার শ্যায়েভ

ড্রাইভিং ইনস্পেক্টর অ্যালাইন মেনডোনকা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষা দেওয়ার সময় ওই ব্যাক্তি খুবই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলেন। সাজ-পোশাকও নিয়েছিলেন মাহিলাদের মতো। কিন্তু লাইসেন্সের জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সঙ্গে তার চেহারার কিছুটা পার্থক্য থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জেরা করতেই জানা যায় মায়ের ছদ্মবেশে পরীক্ষা দিতে এসেছেন তিনি।

পরে প্রতারণার দায়ে হেইটারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি জানান, ছদ্মবেশ ধরে পরীক্ষা দিতে আসার কথা তার মা জানেন না। তাই তাকে শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

তবে হেইটারের এমন কাণ্ড ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানা নেটিজেনরা লেখেন, মাকে ভালোবাসে বলেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে ছেলে।