advertisement
আপনি দেখছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের মৃত শরীফ আবদুল্লাহ হারুণের ছেলে আবদুল্লাহ আল হায়দার। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলতে সেগুন গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন প্রায় ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বলপয়েন্ট কলম। যার ওজন প্রায় ৭৮ কেজি।

longest pen

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডসে নাম ওঠাতে শুধু বিশাল লম্বা এই কলমই তৈরি করেননি তিনি। নিজ হাতে এর গায়ে আরবি হরফে খোদাই করে লিখেছেন আল্লাহর ৯৯টি নাম, সপবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফের ১১৪টি সূরার নাম এবং দুটি সূরার চারটি আয়াত।

কলমটিকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বলপয়েন্টের স্বীকৃতি দিতে ইতোমধ্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছেন তিনি।

জানা যায়, পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে হায়দার সবার ছোট। স্নাতক সম্পন্ন করেছেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগে। এরপর থেকে বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডসে নাম তোলার প্রয়াসে বাড়ির ছাদেই তৈরি করেছেন বিশালাকৃতির এ কলম।

longest pen 2

এ বিষয়ে হায়দার জানান, গত ২ জানুয়ারি বলপয়েন্টটি তৈরি কাজ শুরু করেন। কলমটি তৈরির জন্য প্রথমে পার্শ্ববর্তী লালপুর বাজার থেকে ২৮ হাজার টাকায় একটি ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের সেগুন গাছ কেনেন। এরপর এটিকে বাড়ির ছাদে রেখে শুকিয়ে দুইভাগে কাটেন। তারপর কাটা দুই অংশের মধ্যে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং আধা ইঞ্চি প্রস্থের একটি স্টিলের পাইপ ঢুকিয়ে তা আঠা দিয়ে জুড়ে দেন।

তিনি আরো জানান, জেলা শহরের একটি ওয়ার্কশপে কলমটির নিব তৈরি করা হয়। প্রথমে বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হলেও অষ্টমবারের চেষ্টায় নিবটি তৈরি করতে সফল হন তিনি। এতে তাকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপের হেড ট্রেইনার জাহিদ হোসেন।

পুরো কলমের কাঠামো তৈরির পর এতে নিজ হাতে খোদাই করে আরবি হরফে আল্লাহর নাম, পবিত্র কোরআনের সূরা ও আয়াত লেখেন হায়দার। আরবি লেখাগুলো যাচাই করতে তাকে সহযোগিতা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার এলাকার জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং বিরামপুর উত্তরপাড়ার মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নজরুল ইসলাম বিন সাইদ। আরবি হরফে লেখার জন্য ১৫ দিন এর চর্চাও করেন তিনি। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় ২৭ দশমিক ৮ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের কলমটি তৈরির কাজ।

abdulla al haydar pen maker

হায়দার জানান, তার তৈরি কলমটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কলম তৈরি খেতাব এনে দিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে একটি মেইল পাঠান তিনি। মেইলের জবাবে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তাকে ৬১টি শর্ত দেয় এবং আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানায়।

তবে হায়দারের দাবি, গিনেস বুক কর্তৃপক্ষে দেওয়া সবগুলো শর্তই তিনি পূরণ করেছেন।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্ববৃহত বলপয়েন্ট তৈরি কৃতিত্ব রয়েছে ভারতের। ২০১১ সালের দেশটির হায়দ্রাবাদের মুকুনুরি শ্রীনিবাস নামের এক ব্যক্তি ১৮ দশমিক ৫৩ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ৩৭ দশমিক ২৩ কেজি ওজনের একটি বলপয়েন্ট কলম তৈরি করেন।

sheikh mujib 2020