advertisement
আপনি দেখছেন

লকডাউনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ফুরিয়ে যায় জমানো অর্থ। তাই উপায় না পেয়ে অসুস্থ বাবাকে সাইকেলের পেছেনে বসিয়ে ১২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন এক দলিত কিশোরী। এটি একদিকে যেমন তার শারীরিক সক্ষমতা বিষয় ছিল, তেমনি ছিল পথ হারানোর ঝুঁকিও। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিদে কোনো ধরনের খাবার বা পানির বন্দোবস্ত করা ছাড়াই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন ১৫ বছরের এ কিশোরী।

girls cross 12 km in cycleঅসুস্থ বাবাকে নিয়ে সাইকেলে ১২শ কি. মি. পাড়ি দিলেন কিশোরী

সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটে ভারতে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া জ্যোতি কুমারী তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দিল্লি থেকে সাইকেল চালিয়ে যান বিহারের দারভাঙ্গা গ্রামে। দিনরাত সাইকেল চালিয়ে ৬ দিনে ১২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি। পথে ছিল সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা ঝুঁকি। ছিল শারীরিক শক্তির বিষয়ও। তারপরও হার মানেনি তিনি। কোনো ধরনের বিপদ ছাড়াই নিরাপদে গ্রামের বাড়ি পৌঁছান বাবা-মেয়ে।

গ্রামে পৌঁছানোর পর পরই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় বাবা-মেয়ে। জানা যায়, জ্যোতির বাবা দিল্লিতে রিকশা চালাতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে জারি করা লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় তার কাজ। তাই মালিকের কাছে রিকশা জমা দিয়ে দেন। এরমধ্যে পায়েও আঘাত পান তিনি।

এদিকে বাড়ির মালিক বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। তাই উপায়ান্তু না দেখে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেনে বাবা-মেয়ে। প্রথমে বাড়ি যাওয়া জন্য এক ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেন তারা। কিন্তু চালক এর জন্য ৬ হাজার রুপি ভাড়া চায়। এত অর্থ না থাকায় সাইকেলেই বাড়ির পথ ধরেন তারা।

জ্যোতি জানান, বাড়ি যাবার জন্য ৫০০ রুপি দিয়ে একটি সাইকেল কেনেন তিনি। এরপর গত ১০ মে অসুস্থ বাবাকে পেছনে বসিয়ে দিল্লি থেকে রওনা দেন। টানা ছয়দিন সাইকেল চালিয়ে গত ১৬ মে বাড়ি পৌঁছান তারা। পথে শুধু রাতে কোনো পেট্রোল পাম্পে ২-৩ ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিতেন। আর কোথাও কোনো ত্রাণ সাহয্য পেলে সেটা দিয়েছে খুদা মিটিয়েছেন। কারণ দিল্লি ছাড়ার সময় তাদের কাছে ছিল মাত্র ৬০০ রুপি।