advertisement
আপনি পড়ছেন

কারাগার থেকে পালানো খুবই কঠিন একটি কাজ। চাইলেই যে কেউ এটি করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন বুদ্ধি, ধৈর্য্য, শ্রম ও ভাগ্য। কারণ জেল থেকে পালাতে হলে আসামিকে প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগারের বন্দিদশা থেকে বের হতে হয়। তবে এরপরও এমন কিছু মানুষ আছে যারা এ জটিল কাজটিও সাধন করে দেখিয়েছেন। তেমনি একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাই জি ফান।

indonesia jailজেল থেকে পালালো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ছবি- সংগৃহীত

গত সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে অবস্থিত তাংগেরাং জেল থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যায় ৫৩ বছর বয়সী এ চীনা আসামি। তবে একদিনে তিনি এই সুড়ঙ্গ খোঁড়েননি। প্রায় ৬ মাস ধরে একটু একটু করে সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছিলেন তিনি। কাই জি ফানের এমন কাণ্ডে হতবাক ওই কারাগারের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

তাংগেরাংয়ের পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, ২০১৭ সালে ১১০ কেজি মেথামফেটামিন মাদক পাচারকালে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কাই জি ফান। পরে আদালত এর জন্য তার মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেন। এরপর থেকে তাংগেরাংয়ের ওই কারাগারেই বন্দি ছিলেন তিনি। গত সোমবার তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

tunnel jailসুড়ঙ্গ খুঁড়ে জেল থেকে পালালো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ছবি- সংগৃহীত

কারাগার কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, কাই জি ফান ৬ মাস ধরে কারাগারে তার সেলের নিচে ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়েছিলো। ওই সুড়ঙ্গটি গিয়ে মিশেছে একটি নালার সঙ্গে। এই সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পালানোর আগে কাই অন্য আসামিদেরও তাকে সঙ্গ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা এতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কারাগার কর্তৃপক্ষ কাই জি ফানের সেল থেকে একটি শাবল, স্ক্রু ডাইভার ও ছেনি উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব যন্ত্রপাতি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছেন কাই।

কাই জি ফানের জেল পালানো ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একবার এই কারগার থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে রড দিয়ে বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে কারাগার থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার তার ভাগ্য প্রসন্ন ছিল না। তাই তো পালানোর তিন দিনের মাথায় পূর্ব জাভা থেকে তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়।