advertisement
আপনি পড়ছেন

প্রতিদিন ঠিক সকাল ৭টার দিকে পুরো গ্রামে হুট করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এ সমস্যায় ভুগছিলেন গ্রামবাসীরা। সমস্যা নিরসনে গ্রামজুড়ে পরিবর্তন করা হয় ইন্টারনেটের তার। তাও মেলেনি সমাধান। বড় বড় প্রকৌশলীরাও আট-ঘাট বেঁধে নেমে হয়েছেন নাস্তানাবুদ। করতে পারেননি কোনো কূল-কিনারা। প্রকৌশলীরা যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন, তখনই খুঁজে পেলেন এ অদ্ভুত সমস্যার কারণ।

old televisionটেলিভিশন- প্রতীকী ছবি

প্রতিদিন সকালে গ্রামজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে আসলে একটি পুরানো টেলিভিশন দায়ী। গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়িতে থাকা এ টেলিভিশন যখন চালু করা হয় তখন এর থেকে বের হওয়া সিগনাল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রবাহে বাধা প্রধান করে। টেলিভিশনটি প্রতিদিন সকাল ৭টার দিকেই চালু করার হতো। আর এ কারণেই সকাল বেলা হুট করে গ্রামজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।

এ অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের ওয়েলস অঙ্গাজ্যের পয়েজ কাউন্টির আবারহোসান গ্রামে। এ অঞ্চলটি খুবই নিরিবিলি। গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। বিষয়টি তারা ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনরিচকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা এ সমস্যার কোনো কারণ বা সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি।

wales villigeযুক্তরাজ্যের ওয়েলস অঙ্গাজ্যের পয়েজ কাউন্টির আবারহোসান গ্রাম। ছবি- সংগৃহীত

দীর্ঘ দেড় বছর এভাবে কাটার পর এ সমস্যার সমাধানে নামেন বড় বড় প্রকৌশলীরা। তারা প্রথমেই গ্রামজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগের পুরানো তার বদলে নতুন তার লাগান। কিন্তু তাতেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। আর প্রকৌশলীরাও প্রায় হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। এমন সময় তারা শেষ চেষ্টা হিসেবে গ্রামজুড়ে ইলেক্ট্রনিক নয়েজ শনাক্তের পরিকল্পনা করেন। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। পুরো গ্রাম চষে ফেলেন তারা। আর তখনই বুঝতে পারেন একটি পুরানো টেলিভিশনের কারণেই গ্রামজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওই গ্রামের এক বাসিন্দা প্রতিদিন সকাল ৭টার দিকে তার পুরানো টেলিভিশনটি চালু করেন। আর ওই টেলিভিশন থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তরঙ্গ গিয়ে বাধা প্রদান করতো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তরঙ্গকে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী মাইকেল জোনস বলেন, ওই পরিবারকে এ সমস্যার বিষয়ে জানানোর পর তারা টেলিভিশনটি আর ব্যবহার না করার জন্য রাজি হয়েছেন। ফলে এখন আর গ্রামটিতে ইন্টারনেট সংযোগের কোনো সমস্যা নেই।