advertisement
আপনি পড়ছেন

পাহাড় থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয় একটি মেয়ে। ১০ বছর বয়সী মেয়েটির তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও পাহাড়-পর্বত ও হ্রদ ঘেরা অঞ্চলটিতে চিকিৎসদের দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব নয়। কিন্তু প্রযুক্তিবিদ রিচার্ড ব্রাউনিং খবরটি পাওয়ার পর একটি বিশেষ স্যুট গায়ে দিয়ে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে উড়ে গিয়ে চিকিৎসকসহ সেখানে পৌঁছান।

jet sutরোগীদের সেবা দিতে উড়ে যাবেন ডাক্তার। ছবি- সংগৃহীত

এটি হলিউডের সাইন্সফিকশন চলচ্চিত্রের কোনো অংশ নয়। সম্প্রতি বাস্তবেই এমনটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেক ডিস্ট্রিক্ট অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি গ্র্যাভেটি ইন্ডাস্ট্রি এমনই একটি বিশেষ স্যুট তৈরি করেছে, যা পরে মাত্র কয়েক মিনিটে সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর দিয়ে উড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন চিকিৎসকরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, প্রত্যন্ত বা পাহাড়ি অঞ্চলে অসুস্থ বা আহত রোগীদের কাছে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে গত ১ বছর ধরে ব্রিটেনের গ্রেট নর্থ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের (জিএনএএস) সঙ্গে আলোচনা করছে গ্র্যাভেটি ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু এসব অঞ্চলে স্থলপথে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি বিশেষ স্যুট আবিষ্কার করেছে, যা পরে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী ডাক্তাররা বাতাসে উড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

jet sut 2রোগীদের সেবা দিতে উড়ে যাবেন ডাক্তার। ছবি- সংগৃহীত

গ্র্যাভেটি ইন্ডাস্ট্রির তৈরি করা বিশেষ কাম্ব্রিয়ার জেট স্যুটটির কার্যকারিতা যাচাই করতেই প্রথমবারের মতো লেক ডিস্ট্রিক্ট অঞ্চলের ওই আহত মেয়েটিকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে যান প্যারামেডিকরা।

গ্র্যাভেটি ইন্ডাস্ট্রি জানায়, তাদের তৈরি এ বিশেষ স্যুটটি পরে প্যারামেডিকরা আকাশে উড়তে পারবেন এবং যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন। এই স্যুটটির দুই হাতার নিচের অংমে এবং পিঠে ছোট ছোট ইঞ্জিন রয়েছে। যা স্যুট পরিহিত ব্যক্তিকে বাতাসে ভেসে থাকতে সাহায্য করবে এবং শুধু হাত নেড়েই ওই ব্যক্তি তার চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

তারা আরো জানায়, স্বাভাবিকভাবে যে জায়গায় যেতে জরুরি চিকিৎসকদের ২৫ মিনিট সময় লাগে, সেখানে এই বিশেষ স্যুটটি পরে মাত্র ১ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব। স্যুটটি পরার পর এতে পরা সুইচ চাপ দিলেই পরিহিত ব্যক্তি বাতাসে ভাসতে শুরু করবেন। স্যুটটি পরে যে কেউ ঘণ্টায় ৫১ কিলোমিটার বেগে এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়তে পারবেন।

এ বিষয়ে হেলিকপ্টার প্যারামেডিক অ্যাান্ড লসন বলেন, এ স্যুটটি আসলেই অনেক কার্যকর। এটি পরে যে কোনো অঞ্চলে দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছানো যাবে। আর এতে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

তবে স্যুটটি এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি। এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।