advertisement
আপনি পড়ছেন

পিটার ওয়েবস্টারের বয়স ৮০ বছর— গত কয়েক বছর ধরে তার কানে সবচেয়ে বেশি আশা বাক্য বোধহয় এটিই! শেষ পর্যন্ত তিনি এমন এক ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন, যাতে বয়স এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরের জন্য তাকে আর কোনো কথা শুনতে না হয়।

peter webster a 80 year old footballer set to retire

পিটার ওয়েবস্টার একজন ফুটবলার। এক সময় অবশ্য ইস্পাতকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু তার ফুটবলার পরিচয়টিই আপাতত বড় হয়ে উঠেছে। যদিও ফুটবলভক্তদের বৃহত্তর সমাজে তার কোনো নামডাক নেই, তারপরও পিটার সবার নজর কেড়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে খেলোয়াড়ি নৈপুণ্যে আলোড়ন তুলতে না পারলেও ৮০ বছর বয়সে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি। অবসরের ঘোষণা না দিলে লোকে হয়তো জানতেই পারতো না যে এতো বছর বয়সেও কেউ ফুটবল খেলে বেড়াচ্ছেন!

ব্রিটিশ এই ফুটবল-পাগল শুক্রবার ৮০ বছর বয়সে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে অবসর নিচ্ছেন। অবসরের আগে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এক সময় আমি আমার দলের জন্য যতোটা অবদান রাখতে পারতাম, এখন আর তা পারি না। আমার মনে হচ্ছে আমি শুধু একটি জার্সি নষ্ট করছি। আমার এখন অবসর নেওয়া উচিত।

পিটার থাকেন অস্ট্রেলিয়ার ওলংগংয়ে। তার জন্ম ইংল্যান্ডের প্রিসটিনে। পরে ১৯৪৮ সালে তিনি ওয়েলশে চলে যান। এরপর ১৯৮১ সালে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়াতে। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ী তিনি।

পিটার পড়াশোনা করেন এমন এক স্কুলে, যেখানে রাগবি ছিলো তুমুল জনপ্রিয় খেলা। তারও তাই রাগবি-পাগল হওয়াই ছিলো স্বাভাবিক। কিন্তু পিটারের মন পড়ে ছিলো ফুটবলে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা শুরু করেন।

অস্ট্রেলিয়া চলে আসার আগে দীর্ঘদিন তিনি ওয়েলশের বিভিন্ন লিগে খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি চমকিত হন। তিনি সর্বশেষ খেলছেন ওলংগং ফিগট্রি ফুটবল ক্লাবে। এখান থেকে ফুটবলার এবং গ্রাউন্ডসম্যান হিসেবে অবসর নিচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ ফুটবল খেলার পাশাপাশি এই ক্লাবের গ্রাউন্ডসম্যান হিসেবও চাকরি করতেন পিটার।

অবসরের ম্যাচের দিন খানিকটা আগে মাঠে আসার পরিকল্পনা করেছেন পিটার, যাতে দুই দলের গোলবারও প্রস্তুত করতে পারেন। শুধু তাই না, প্রতিপক্ষ যাতে তাকে ফুটবলার হিসেবে হালকাভাবে না নেয়, এমন সতর্কবার্তও শুনিয়েছেন পিটার।

স্থানীয় এলাকায় পিটার ফুটবলের এমনই এক কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন যে, তার নামেও একটি লিগ অনুষ্ঠিত হয়, যেটির নাম— পিটার ওয়েবস্টার কাপ।

এতো দীর্ঘ জীবন খেলাধুলার মধ্যে থাকার রহস্য কী— এমন প্রশ্নে পিটার বলেছেন যে খেলে যাওয়াটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এ ছাড়া তিনি প্রচুর দৌড়াতেন এবং সাইক্লিং করতেন।

পিটার বলেছেন, তার নাতী-নাতনিদের মধ্যে অনেকে ফুটবলার হবে, এটাই তার স্বপ্ন। তার স্ত্রী বলেছেন, পিটার এখন আরো বেশি সময় বাড়িতে থাকবে, যা তার জন্য আনন্দদায়ক। অন্য দিকে যে ক্লাব থেকে তিনি অবসর নিচ্ছেন, তার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পিটার তাদের ক্লাবের জন্য যা করেছেন তা এক কথায় “অসামান্য”।