advertisement
আপনি দেখছেন

একবার ঘুমাতে গেলেই কেটে যায় টানা সাত দিন। খাবার খেতে বসলে একাই খেয়ে নেন ১০ জনের খাবার। একবার গোসল করতে গেলে পানি থেকে উঠেন না কয়েক ঘণ্টা। কখনো কখনো গোসল করতে সারাদিনও লেগে যায় তার। গত ২০ বছর ধরে এমন অস্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার বালিরটেক ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ভম্বল শীল নামের ৩৫ বছরের এক যুবক।

vombol sil 3ভম্বল শীল

মানসিকভাবে অসুস্থ এই যুবককে প্রথম দেখায় অস্বাভাবিক মনে হবে না। আর ৮-১০ জন সাধারণ মানুষের মতই তার চলাফেরা ও কথাবার্তা। অন্য মানুষ হয়ে ওঠেন যখন তিনি ঘুমোতে যান। কয়েকদিনের টানা ঘুমের সময় প্রাকৃতিক কর্ম সারতে টয়লেটে গিয়েও ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন ২-৩ দিন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলায় অন্যদের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন ভম্বল। তার এমন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয় ১৪-১৫ বছর বয়স থেকে। একবার গ্রামের মেলা থেকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি ভয় পান। তারপর থেকেই অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন শুরু করেন তিনি। শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হয়, কবিরাজ-ফকিরের কাছেও নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অর্থের অভাবে বেশিদিন চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে পারেনি পরিবার।

vombol silটানা সাতদিন ঘুমিয়ে কাটান তিনি

ভম্বলরা মোট ৪ ভাই ৩ বোন। এর মধ্যে এক ভাই ও দুই বোন প্রতিবেশী দেশ ভারতে থাকে। ভম্বল তার বড় ভাই শংকর শীলের সঙ্গে কৃষ্ণপুর গ্রামে থাকেন। পেশায় নরসুন্দর শংকরের আর্থিক অবস্থাও তেমন একটা ভালো নয়। ছোটভাইকে চিকিৎসা তো দূরে থাক ঠিকমতো খাবারই দিতে পারেন না।

শংকর শীল জানান, মাসের পর মাস বাড়িতেই শুয়ে-বসে কাটিয়ে দেন ভম্বল। এর মধ্যে ঠিকমতো গোসল করে না, খায় না। কখনো কখনো টানা ৭ দিন ঘুমিয়ে কাটায় সে। এমনকি প্রাকৃতিক কর্ম সারতে টয়লেটে গিয়ে সেখানেও ২-৩ দিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। ঘুম ভাঙার পর যখন খেতে বসে তখন একাই খেয়ে নেয় ১০ জনের খাবার।

vombol sil 2গোসল করতে লেগে যায় সারাদিন

তিনি আরো জানান, ভম্বল কখনো কখনো এক মাসেও গোসল করতে যায় না। কিন্তু যখন গোসল করতে যায়, তখন আর পানি থেকে উঠতে চায় না। মাঝে মাঝে পানিতেই সারাদিন কাটিয়ে দেয়। তাকে ওপর কিছু ভর করেছে ধারণা করে কয়েকজন কবিরাজ ফকিরকেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু তার জীবন-যাপনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। একবার পাবনায় অবস্থিত মানসিক হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে সেখানে চিকিৎসা করানো যায়নি।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর ভালো হয়ে যাবে এমন চিন্তা থেকে তাকে বিয়ে করানো হয়েছিল। কিন্তু তার জীবন-যাপনে পরিবর্তন না হওয়ায় বউ বাপের বাড়ি চলে যায়। আর ফিরে আসেনি।

স্থানীয়রা বলছেন, ভম্বল কখনো হাঙ্গামা করে না। তার মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে। অভাবের সংসারে ঠিকমতো খেতে পারে না। এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান হলে সেখানে গিয়ে পেট ভরে খায়। হয়তো সঠিক চিকিৎসা পেলে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে।