advertisement
আপনি দেখছেন

আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু, এই করে করে হয়ত কোনো একটা কাজ করাই হচ্ছে না, অথচ সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। খুব প্রয়োজনীয় কাজটাও হয়তো করা হচ্ছে না। মূলকথা আলসেমিতে পেয়ে বসেছে আপনাকে। আলস্য বা অলসতা বংশগতও হতে পারে আবার শারীরিক দুর্বলতার কারণেও হতে পারে। আলসেমিকে সাধারণত মানুষের বড় শত্রু বলেই বিবেচনা করা হয়। তবে সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানাচ্ছে একেবারে ভিন্নকথা।

high intelligence

জার্নাল অব হেলথ সাইকোলজিতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণার ফলাফলের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, যারা মেধাবী ও চিন্তাশীল মানুষ তারা কর্মপটুদের চাইতে অনেক বেশি অলস সময় কাটান। পরিশ্রমীদের মনকে সক্রিয় রাখতে প্রচুর পরিমাণে বাহ্যগত নানা কার্যকলাপে যুক্ত হতে হয় ফলে তারা গভীরতা আছে এমন কোনো বিষয়ে চিন্তায় জড়ান না। অথবা বলা যায় খুব সহজেই বিরক্তবোধ করেন। আবার অন্যদিকে যারা উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন তারা খুব সহজে বিরক্ত হন না। যার কারণে এরা চিন্তা-ভাবনায় বেশি সময় কাটাতে পারেন এবং সহজে বিরক্ত হন না।

অপরদিকে ফ্লোরিডা গালফ কোস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকবৃন্দ প্রায় ত্রিশ বছরের পুরনো একটি ধ্রুপদী পরীক্ষা পদ্ধতি গবেষণাকালে ব্যবহার করেন। গবেষণা চালাতে গিয়ে তারা একদল ছাত্রের মাঝে দুটি বক্তব্য দেন, যার মধ্যে থেকে যে কোন একটি বক্তব্য বাছাই করে সেটির পক্ষে মতামত জানাতে বলেন। বক্তব্য দুটি হল, 'আমি সে ধরনের কাজই খুব পছন্দ করি, যা সমস্যাটির নতুন নতুন সমাধান নিয়ে আসে।' আরেকটি হলো, 'আমি ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই চিন্তা করি।'

গবেষক দলের প্রধান টড ম্যাকেলরয় গবেষণা পরিচালনা করতে গিয়ে ত্রিশ জন করে ছাত্রদের দুটি দল তৈরি করেন। এদের মধ্যে একদলকে চিন্তক এবং অন্যদলকে কর্মী হিসেবে বেছে নেন। এরপর সাতদিন পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রের হাতে একই ধরনের যন্ত্র বসানো হয়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের সার্বক্ষণিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং তাদের শারীরিক কর্মকাণ্ডের তথ্য রেকর্ড করা হয়।এই গবেষণার ফলাফল স্বরূপ দেখা গেছে, কর্মী দলের চাইতে অনেক কম শারীরিক পরিশ্রম করেছে চিন্তক দলটি। গবেষণারটির ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

এখন তবে পাল্টে ফেলতে হতে পারে অলস, আলস্য বা আলসেমির মত শব্দগুলোর অর্থ। অলস বলে আর হীনমন্যতা নয়। কেউ অলস বলে গালাগাল দিলে বরং দু-চার লাইন শুনিয়ে দিন এই লেখা থেকে।