advertisement
আপনি দেখছেন

ইসলামের প্রথম নির্মিত মসজিদ হলো মসজিদে কুবা। রাসুল (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় এ মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন। আর এটাই হলো ইসলামের প্রথম জুমার নামাজ আদায়। এখানে রাসুল (সা.) নতুন মুসলমানদের জন্য এক চমৎকার হৃদয়বিগলিত ভাষণ দেন। এ ভাষণে তাকওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। মসজিদে কুবা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মসজিদ।

masjid quba

হাদিস শরিফে এ মসজিদে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ মসজিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতে কারিমা নাজিল হয়েছে। 

মক্কা থেকে ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং মদিনার মসজিদে নববি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে এই মসজিদের অবস্থান। এই মসজিদ নির্মাণের সময় সাহাবিদের সঙ্গে রাসুল (সা.) নিজে কায়িক পরিশ্রম করেন। জায়গাটির নাম কুবা। মূলত, জায়গার নামেই মসজিদের নামকরণ করা হয়।

পবিত্র কোরআনে মসজিদে কুবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদটি তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে অবস্থান করা আপনার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতা ভালোবাসে। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ সূরা তাওবা, আয়াত : ১০৮।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের বড় একটি অংশ একমত যে, মদিনার মসজিদে নববি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসলামের প্রথম নির্মিত মসজিদ মসজিদে কুবার কথা বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসিরের সূত্রে আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ.) বলেন, এ আয়াতে তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠত প্রথম মসজিদ বলে মসজিদে কুবাকে বোঝানো হয়েছে।

আল্লামা কাজী আয়াজ (রহ.) বলেন, এ আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তিনি যেন মদিনাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ফলে মক্কায় হুজুর (সা.) এর অবস্থান ভালো হলেও তিনি মদিনায় থেকে যান।

প্রথম মসজিদ এবং পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত মসজিদ হওয়ার কারণে এ মসজিদের আলাদা বৈশিষ্ট এবং ফজিলত রয়েছে। হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মসজিদে কুবায় ২ রাকাত নামাজ আদায় করা একটি ওমরাহ আদায়া করার সমান।’ সুনানে তিরমিজি।

ইবনে মাজার বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে পবিত্র হয়ে মসজিদে কুবায় আসবে এবং ২ রাকাত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তার আমলনামায় একটি ওমরাহ হজের সমান সওয়াব দান করবেন।’

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘মসজিদে কুবা আল্লাহর রসুলের একটি প্রিয় মসজিদ ছিল। তিনি প্রতি শনিবারে মসজিদে কুবায় আসতেন এবং ২ রাকাত নামাজ আদায় করতেন।’ বুখারি ও মুসলিম।