advertisement
আপনি দেখছেন

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ইয়া আয়্যুহাল্লাজিনা আমানু! ইজা নুদিয়া লিসসালাতি মিওইয়াওমিল জুমআতি ফাসআও ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জারুল বাই। অর্থ: ওহে তোমরা যারা নিজেদের বিশ্বাসী দাবি করো, যখন জুমার নামাজের আজান শুনবে নামাজের জন্য দৌড়ে চলে এসো। ব্যবসায়-বাণিজ্য অর্থাৎ দুনিয়াবি সব ধ্যান-ধারণা মন থেকে মুছে ফেলো।’

namaz

এ আয়াতের ব্যখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, জুমার নামাজের আজান হলে নামাজের প্রস্তুতি এবং নামাজ সংক্রান্ত কাজ ছাড়া সব ধরনের জরুরি কাজ সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। একান্তই আবশ্যক না হলে অর্থাৎ শরয়ি ওজর না থাকলে জুমার নামাজ বাদ দিয়ে দুনিয়ার ধ্যানে মশগুল থাকা হারাম বলেছেন আইম্মায়ে সালফে সালেহিনরা।

জুমার নামাজের দুটি অংশ। একটি হলো খুতবা। আরেকটি হলো সালাত। সালাত যতটা গুরুত্বপূর্ণ, খুতবাও ঠিক ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ। ফিকহের কিতাবের ভাষায় বলতে গেলে, জুমার দুই রাকাত নামাজ পড়া যেমন ওয়াজিব, তেমনি জুমার খুতবা শোনাও ওয়াজিব। কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন, কেউ যদি জুমার নামাজের খুতবা শুনতে না পারে তাহলে তার জুমা পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে না। অর্থাৎ পূর্ণ জুমা আদায় থেকে সে বঞ্চিত হলো।

তেমনিভাবে ফকিহরা একথাও বলেছেন, কেউ যদি খুতবা চলাকালীন সময়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে কিংবা অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করে যেমন মোবাইল টিপে অথবা অমনোযোগী হয়ে বসে থাকে তাহলেও সে খুতবা নষ্ট করে ফেলল। অর্থাৎ সে পরিপূর্ণ খুতবা শুনল না। এতে করে তার জুমার নামাজটি পরিপূর্ণ হলো না। কোনো কোনো ইমাম এত কঠোরতা প্রয়োগ করেছেন যে, খুতবা পড়ার সময় কথা বলাকে তারা হারাম বলেছেন। কেউ যদি কথা বলে তাহলে তার জুমার নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এমনকি কেউ যদি তার পাশেরজনকে বলে ‘এই! তুমি কথা বলো না’ তাহলেও হারাম হবে এবং জুমা নষ্ট হয়ে যাবে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন ইমাম খুতবার জন্য দাঁড়ায় তখন কোনো কথা বলো না এবং কোনো সালাতও পড়ো না। তুমি যদি তোমার সাথীকে বলো ‘চুপ করো’ তাহলেও তা বেহুদা কথা হিসেবে গণ্য হবে। তাই এ ধরনের কথা বলা থেকেও বিরত থাকো। মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনো।’ বুখারি, মুসলিম এবং মেশকাত শরিফ।