advertisement
আপনি দেখছেন

রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের সময় মুমিনদের কখনো হতাশ হতে নেই। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা হতাশ হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না, তোমরা যদি ঈমানদার হও তাহলে তোমরা সফল হবে।’ সূরা আলে ইমরান: ১৩৯। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন তারা খুশি হয়; আবার যখন তাদেরই মন্দ কাজের কারণে তাদের ওপর কোন মুসিবত পতিত হয় তখন তারা নিরাশ হয়ে পড়ে।’ সূরা রূম: ৩৬।

islam

মৃত্যু যেমন সত্য, কেউ তা রোধ করতে পারে না। রোগ-ব্যাধি মুমিনের ঈমান পরীক্ষার কষ্টি পাথর। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে।’ সূরা বাকারা: ১৫৫।

‘আর ভালো এবং মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি।’ সূরা আম্বিয়া: ৩৫।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের আক্রমণে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে মুমিনের জন্য করণীয় হলো আতংকিত না হয়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা।

প্রত্যেকটি বালা-মুসিবত কিংবা রোগ-ব্যাধি আসার পেছনে কোন না কোন রহস্য থাকে। যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আল্লাহতায়ালা এমনিতে বা অযথা কোন কাজ করেন না কিংবা বান্দার ওপর কোন বিষয় চাপিয়ে দেন না।

তিনি রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেছেন, ‘মুসলমানদের ওপর যে সকল যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ বোখারি: ৫২৩৯।

হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেছেন, ‘কোনো ঈমানদার ব্যক্তির শরীরের একটি কাঁটার আঘাত কিংবা তার চেয়ে বড় কোনো আঘাত লাগলে আল্লাহ তায়ালা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা একটি গোনাহ মাফ করে দেন।’ মুসলিম: ৬৩২৮।

দুনিয়াতে যত ধরনের রোগ-ব্যাধি রয়েছে। আল্লাহতায়ালাই মানুষকে প্রত্যেকটি রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। এমন কোন রোগ-ব্যাধি নেই, যে চিকিৎসা পদ্ধতি তিনি মানুষকে শিক্ষা দেননি। রোগ-ব্যাধি যেমন তিনি দিয়ে থাকেন, শেফাও তিনিই করে থাকেন। তিনিই আমাদের একমাত্র প্রভু। তিনি ছাড়া দ্বিতীয় আর কোন শেফা দানকারী নেই।

হযরত আবি হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা এমন কোন রোগ অবতীর্ণ করেননি যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।’ বোখারি: ৫২৭৬।

হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা:) কে প্লেগ নামক মাহামারি রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, তা হচ্ছে আল্লাহর এক প্রকার আজাব। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তার ওপর প্রেরণ করেন। তবে আল্লাহ মুমিনের জন্য তা রহমত বানিয়ে দিয়েছেন।’ (বোখারি: ৩৩২।)

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি, বালা-মুসিবত ও মহামারি থেকে শিক্ষা নেয়ার তাওফিক দিন।