advertisement
আপনি দেখছেন

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ঙ্কয় রূপ করছে মরণঘাতক করোনাভাইরাস। এ থেকে রক্ষা পেতে অন্য সব দেশের মত বাংলাদেশেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কোথাও আইসোলেশন, কোথাও লকডডাউন আবার কোথাও হোম কোয়ারেন্টাইন। এসব নির্দেশনার কোনোটি রাসুল (সা.) এর সুন্নাহয়, আবার কোনোটি সাহাবীদের আমলে পাওয়া যায়। আসুন জেনে নিই মহামারি ঠেকাতে রাসুল (সা.) ও সাহাবীদের পদক্ষেপ কী ছিলো। 

corona

হোম কোয়ারেন্টাইন

অর্থ স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকা। বাইরে চলাফেরা থেকে বিরত থাকা। আম্মাজান আয়েশা (রা) বলেন, আমি মহানবী (স) কে মহামারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, ‘মহামারি হলো খোদার এক ধরনের আজাব। যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন, তাদের ওপর তিনি এ আজাব পাঠান। পরবর্তীতে তিনি তা ঈমানদারদের জন্য নিজ অনুগ্রহে রহমত বানিয়ে দেন। তাই কোনো ব্যক্তি যদি মহামারি আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং নিজ ঘরে ধৈর্য সহকারে সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তায়ালা ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে কোনো কিছু তার কিছু করতে পারবে না; তাহলে তার জন্য থাকবে একজন শহীদের সাওয়াব।’ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৬১৮২।

এ হাদিসের দ্বারা বোঝা যায় যে, মহামারি চলাকালে হোম কোয়ারেন্টাইন তথা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান থাকাকালে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা লাভ করা যাবে। তবে শর্ত হলো- সবর ও ধৈর্যের সাথে থাকা। আখেরাতের সাওয়াবের আশা করা। আল্লাহর প্রতি এ ভরসা করা যে, তিনি ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত কোনো কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে বুখারি শরিফের শ্রেষ্ঠতম ভাষ্যকার হযরত হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র) বলেন, হাদিসে উল্লেখিত তিন শর্ত- সবর, সাওয়াবের আশা ও আল্লাহর প্রতি ভরসাসহ যদি মহামারিগ্রস্ত এলাকার কোনো মুসলমান হোম কোয়ারেন্টাইন তথা ঘরে অবস্থান করে, তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। ফাতহুল বারী,  খন্ড১ পৃষ্ঠা ১৯৪।

আইসোলেশন

আইসোলেশন অর্থ বিচ্ছিন্ন থাকা। এর মানে অকারণে বাইরে যাওয়া যাবে না। গণপরিবহনে পারতপক্ষে উঠা যাবে না। আর যারা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন বা সম্ভাব্য রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন বা নিশ্চিতভাবে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাঁরা নিজেদের নিজ ঘরে আলাদা রাখা। নিজেদের স্বাস্থ্য নিজেরা পর্যবেক্ষণ করা।

জনবিচ্ছিন্ন এসব কর্মকৌশল ও নির্দেশনা সাহাবীদের যুগেও পাওয়া যায়। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর যুগে ফিলিস্তিনে মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন মিশর বিজেতা হযরত আমর ইবনুল আস (রা) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ মহামারি মোকাবেলায় সবাইকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে নির্দেশ দেন, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড়ে চলে যাও।

তিনি সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জারি করে বলেন যে, কেউ কারও সঙ্গে মিশতে পারবে না। আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে তারা দীর্ঘ দিন পাহাড়ে আইসোলেশনে থাকেন। তারিখে দিমাশক।

লকডাউন

লকডাউন মানে বন্ধব্যবস্থা। এটা প্রশাসনিক বা সরকারি ব্যবস্থা। এর মানে হলো বিমান বন্ধ, সীমানা বন্ধ, চলাচল বন্ধ, রাস্তাঘাট বন্ধ। ইসলামে এ ধরনের নির্দেশনাও রয়েছে। হাদিসে মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলে প্রবেশ করতে মহানবী (স) নিষেধ করেছেন। তিনি নিজ এলাকায় মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মৃত্যুর ভয়ে এলাকা ছেড়ে পলায়ন করতেও বারণ করেছেন।

তিনি (সা.) বলেছেন, তোমরা যদি কোথাও মহামারির সংবাদ শোনো তাহলে কিছুতেই সেখানে যাবে না। আর যদি তোমাদের বসবাসের শহরে মহামারি দেখা দেয় তাহলে সেখান থেকে পালিয়ে যেও না। মুসলিম, হাদিস নং ৫৯০৭।

মহামারি অঞ্চলে প্রবেশ করা কিংবা মৃত্যুর ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আউনুল মাবুদ, ৮ম খন্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা।