advertisement
আপনি দেখছেন

আল্লাহর রহস্যময় নিয়মে আমরা কেউ বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী, আবার কেউ শূন্য থলের মালিক। কেউ বাস করি রাজপ্রাসাদে, আবার কেউ পড়ে আছি রাস্তাঘাটে। কারো খাবারের মেনুতে বিলাসিতার কোনও কমতি নেই, আবার কেউ এক মুঠো খাবারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও পরোয়া করি না। আল্লাহর কী খেলা! কেউ রাস্তার ফকির। আর কারো ব্যাংকে বেহিসাবি টাকা।

eid mubarak

তবে অঢেল সম্পদের মালিক হলেও কী লাভ, এমন রোগ দেহে বাসা বেঁধেছে যে, মন ভরে বা পেট ভরে খাওয়া বহুদিন তার ভাগ্যে জোটেনি। অথচ যার অঢেল টাকা নেই, একবেলা পেটপুড়ে খাওয়া আর একটু ভালোমন্দ চেখে দেখার কত জনমের স্বপ্ন তার। সুবহানাল্লাহ। প্রভুর লীলাখেলা বোঝার সাধ্য কার?

করোনাকালের যখন সবাই লকডাউনে বন্দি, তখন কত শিশু, নারী আর বৃদ্ধ রাস্তায় ফুটপাতে পড়ে আছে তার কোনো হিসাব নেই। আমরা তো স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখি। আর ওইসব লোক ধুলোবালিতেই সবসময় গড়াগড়ি খাচ্ছে। এসব ভাগ্যহত মানুষ কিন্তু মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেনি, আমাদের মতো এ পৃথিবীতেই তাদের জন্ম, বেড়ে উঠা। তাদেরও আছে হাসি-কান্নার অনুভূতি। ক্ষুধার জ্বালায় তারাও বেদিশা হয়ে এখানে সেখানে দৌড়ে বেড়ায়।

এই করোনাকালে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে আরো দুর্বিষহ-যন্ত্রণাময়। এদের মতো মধ্যবিত্তরাও চরম কষ্ট আর দুর্ভোগে দিন পার করছে। মুখ ফুটে না পারছে বলতে, বুক বেঁধে না পারছে সইতে।

দেশের বিত্তবানদের অসহায় বনি আদমের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার এখন শ্রেষ্ঠ সময়। মহামারি করোনা ভাইরাসকে জয় করতে হবে প্রেম-ভালোবাসা-মমতা দিয়ে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর আত্মীয়-স্বজনকে দাও তাদের অধিকার এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও তোমার সম্পদ থেকে সাহায্য করো। তবে কোনোভাবেই অপচয় কর না।’ সুরা ইসরা, আয়াত ২৬। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ধনীর সম্পদে রয়েছে অভাবীর অধিকার।’ সুরা জারিয়াত, আয়াত ১৯।

করোনাকালের এ ঈদে দুঃখীদের মুখে একটুখানি হাসি ফুটিয়ে তোলা সম্পদশালীদের নৈতিক দায়িত্ব। অন্যকে ক্ষুধার্ত রেখে, দুঃখী রেখে নিজে সুখে থাকে যে তার সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি মুমিন নয় যে পেটপুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে।’ আদাবুল মুফরাদ।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, একজন সাহাবি রাসুল (সা.) কে প্রশ্ন করল, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ কাজ কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, ‘মানুষকে খাওয়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফুটানো।’ বুখারি।

আবার কঠিন হৃদয়ের মানুষকে সতর্ক করে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।’ বুখারি ও মুসলিম। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে, মহান আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো ভাইয়ের কষ্ট বা বিপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার কষ্ট বা বিপদ দূর করে দেবেন।’ বুখারি ও মুসলিম।

বৈশ্বিক বিপর্যয় কভিড-১৯ এ বিধ্বস্ত পৃথিবী। এ কঠিন দুঃসময় কাটিয়ে ‍উঠতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্য, সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও দান-সদকার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া সবার কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর তবে তা ভাল, আর যদি গোপনে দান কর তাহলে আরও ভাল। দানের বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২৭১।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাদের প্রতিদান তাদের রবের কাছে রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৪।