advertisement
আপনি দেখছেন

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা এর চেয়েও তুচ্ছ বিষয় দিয়ে উদাহরণ দিতে অথবা ক্ষমতা দেখাতে লজ্জা করেন না।’ সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৬। আমরা এখন মহাদুর্যোগপূর্ণ সময় পার করছি। অতীতেও এমন দুর্যোগ অনেকবার মানবজাতির উপর এসেছিলো। আল্লাহ পাক দুর্যোগ দেন মানুষ যেন দাম্ভিকতার পোশাক খুলে আনুগত্যের সোনালী পোশাক গায়ে জড়িয়ে নিতে পারে।

corona

সুরা আরাফের ৯৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে রোগ-ব্যাধি অভাব-অনটন ও জান-মালের ক্ষতি দিয়ে সতর্ক করি, যেন তারা আমাকে ভয় করে এবং বিনয়ী জীবনযাপন করে।’

করোনা ভাইরাসের শুরুর দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘কোথায় পৃথিবীর ক্ষমতাধরদের কামান, পরমাণু অস্ত্র, আজ তো কিছুই তো কাজে আসছে না। কোথায় আমাদের ক্ষমতা? সারা বিশ্বের মেধা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই ক্ষুদ্র ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারছি না কেনো।’

মহামারির মহাবিপদ থেকে বাঁচতে চাইলে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ পাপ, অপকর্ম, অবৈধ ক্ষমতার দাপট, ঘুষ, দুর্নীতি সব ধরনের অন্যায় থেকে মহান প্রভুর দরবারে ক্ষমা চেয়ে শুদ্ধ জীবনের সবক নিতে হবে। অনেকেই দায়িত্ব বা ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করেন। তারা না আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় করেন, না মানুষের অধিকার নষ্ট করতে পিছপা হন- এ ধরনের মানুষের জন্যই জমিনে গজব নেমে আসে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিস এবং মানবজাতির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা বহুজাতিকে দুর্যোগ-মহামারি দিয়ে পরীক্ষা করেছেন। যখনই মানুষ আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান ভুলে নিজের মন মতো স্বেচ্ছাচারী জীবনে অভ্যস্ত হয়েছে তখনই তাদের বিপদ দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

আমাদের অনুধাবন করতে হবে, আমরা পাপ করতে করতে সীমা লঙ্ঘনের কোন পর্যায়ে পৌঁছেছি- যে কারণে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ পৃথিবীর মানুষ সামান্য একটি ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারছে না। তবুও আমাদের পাপ ও সীমা লঙ্ঘন থেমে নেই। অবৈধ পথে টাকা কামানো বন্ধ নেই।

অথচ আমরা দেখছি, যে আপনজনদের জন্য জীবনভর তারা অবৈধ পথে টাকা রোজগার করেছে, সে আপনজনরাই মৃত্যুর পর তাদের লাশ ফেলে রেখে ভেগে যাচ্ছে। ভয়ে কাছে আসছে না। হে আল্লাহ! তোমার কাছে ফরিয়াদ, তুমি আমাদের ক্ষমা করো। মহামারির কবল থেকে আমাদের মুক্তি দাও। আমিন।

লেখক: পরিচালক (অব:) রাজউক

sheikh mujib 2020