advertisement
আপনি দেখছেন

পৃথিবীর প্রথম মানুষ বাবা আদম এবং তার স্ত্রী হাওয়াকে (আ.) সৃষ্টি করে আল্লাহ বললেন, ‘হে আদম! তোমরা জান্নাতে আরাম-আয়েশের সঙ্গে থাকো। তবে তোমাদের জন্য একটি বাধা আছে। সাবধান! নিষিদ্ধ বৃক্ষের কাছে যেও না।’ কিন্তু ইবলিসের ধোঁকায় বাবা আদম এবং মা হাওয়া (আ.) যখন নিষিদ্ধ ফল খেলেন, সঙ্গে সঙ্গে খোদায়ী আজাব তাদেরকে ঘিরে ফেলল। তাদের দেহ থেকে পোশাক খসে পড়ল।

al quran

আল্লাহ বললেন, ‘তোমরা সবাই আমার জান্নাত থেকে নেমে যাও। দুনিয়ার জীবনে সঠিক পথে চলার জন্য আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য হেদায়াত পাঠানো হবে। সে হেদায়াত যারা মেনে চলবে তাদের কোনো ভয় কিংবা দুশ্চিন্তা থাকবে না।’ (সূরা বাকারাহ : ৩৮)।

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট যে কথাটি বোঝা যায় তা হলো, আল্লাহর বিধান মানার মধ্যে আরাম-আয়েশ আর শান্তি-শৃঙ্খলার জীবন রয়েছে। আর যখনই মানুষ খোদায়ী দেয়াল টপকে সীমালঙ্ঘন করবে, সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য লজ্জা-লাঞ্চনার জীবন নেমে আসবে।

আয়াত থেকে আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট, দুনিয়ার জীবনে মানুষকে আল্লাহ নিজের বিবেক-বুদ্ধির ওপর ছেড়ে দেবেন না বরং অতি যত্নের সঙ্গে একজন টিউটর (নবী) এবং একটি গাইডবুকও (আসমানী কিতাব) সঙ্গে দিয়ে দেবেন। টিউটর ও গাইড ছাড়াও পাশ করা যায়। আবার টিউটর কিংবা গাইড দুটোর একটা হলেও পাস আটকায় না।

কিন্তু টিউটর এবং গাইডবুক পেয়েও যে পাশ করতে পারে না, নিজের ব্যর্থতার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার মতো তার আর কিছুই থাকে না। আরো মজার ব্যাপার হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রশ্নও আগে থেকে ফাঁস করে দিয়েছেন। এভাবে চললে তোমার জন্য মুক্তি নিশ্চিত আর ওভাবে চললে ধ্বংস নিশ্চিত।

তাছাড়া আল্লাহ মানুষকে এমন কোনো নির্দেশ দেননি যা মানব চরিত্র ও রুচিবিরোধী। সুতরাং সহজ পরীক্ষায় সহজে পাশ করে জান্নাত থেকে আসা মানুষ আবার জান্নাতেই ফিরে যাক, এটাই আল্লাহ তায়ালার মর্জি।

dowa

বাবা আদম এবং মা হাওয়াকে যখন আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তখন আদি মানব-মানবীর মনে প্রচণ্ড ভয়-দুশ্চিন্তা ঢুকে যায়। হায়! বাকি জীবনটা কীভাবে কাটাবো? খাওয়া-পরার কী ব্যবস্থা হবে? জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি কীভাবে অর্জন করবো?

মানুষের মনের এই ভয়কে আল্লাহ এক নিমিষেই নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। আল্লাহ বললেন, আমার গাইড বুক ও টিউটর অনুসরণ করে চললে তোমাদের দুনিয়ার জীবনে খাওয়া-পরা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না এবং আখেরাতের জীবন নিয়েও কোনো ভয় পেতে হবে না।

পবিত্র কোরআনের বেশ কয়েকটি আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যারা মুমিন তাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তা নেই। আবার অনেক আয়াতে মুত্তাকিদের পুরস্কারের ঘোষণা করে আল্লাহ বলেছেন, মুত্তাকি হওয়ার প্রথম লাভ বা উপকার হলো, মুত্তাকির কোনো ভয় নেই, চিন্তাও নেই।’

প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা জরুরি, কেউ যদি মুমিন-মুত্তাকি না হয়, অন্যভাবে বললে আল্লাহর পাঠানো হেদায়াতের অনুসরণ না করে, টিউটর মেনে না চলে তাহলে সে শয়তানের খপ্পরে পড়ে যায়। আর সূরা বনি ইসরাইলে আল্লাহ বলেন, শয়তান তোমাদের দারিদ্রতার ভয় দেখিয়ে জঘন্য সব অপরাধ করার আদেশ করে।

তার মানে দাঁড়াচ্ছে, মুমিনের জীবন দুশ্চিন্তামুক্ত সুখী জীবন। আর কাফেরের জীবন হলো দুঃখে-কষ্টে জর্জরিত দুশ্চিন্তাময় জীবন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুখী-সুন্দর জীবন দান করুন। আমিন।

sheikh mujib 2020