advertisement
আপনি দেখছেন

বছর ঘুরে ত্যাগের মহিমা নিয়ে আবার এলো পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এই ঈদে ধনী-গরিব নির্বিশেষ সবাই চেষ্টা করেন নিজের সাধ্যমতো পশু কোরবানি দিতে। কেউ হয়তো গরু বা মহিষ কোরবানি দেন, কেউ আবার ছাগল বা ভেড়া। সামর্থ্যবান অনেকে উট বা দুম্বাও কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেকের আবার সামর্থ্য না থাকায় কোরবানি দেন শরিকে।

red meat 2যেভাবে সংরক্ষণ করবেন কোরবানির মাংস- প্রতীকী ছবি

যে যেভাবেই কোরবানি দিক না কেন, মাংস সংরক্ষণ করতে হয় প্রায় সবাইকেই। কারণ একদিকে যেমন কোরবানির পশুর মাংস পুরোটা একদিনে খেয়ে শেষ করা যায় না, তেমনি অনেকেই আবার মাংস সংরক্ষণ করে খেতে পছন্দ করেন। তাই প্রায় সকলকেই মাংস সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।

বর্তমান যুগে অনেকের বাসায়ই ফ্রিজ রয়েছে। তাই মাংস সংরক্ষণ নিয়ে তাদের তেমন একটা ভাবতে হয় না। তারপরও সংরক্ষিত মাংস ভালো ও সঠিক স্বাদ ধরে রাখতে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। আর যাদের বাসায় ফ্রিজ নেই, তারা মাংস সংরক্ষণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিন্তু চাইলে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে তারাও মাংস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

ফ্রিজে যেভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন

red meatযেভাবে সংরক্ষণ করবেন কোরবানির মাংস- প্রতীকী ছবি

যারা মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে চান তারা পশু কোরবানির পর প্রথমে মাংসকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন। এতে পরবর্তী সময় চর্বি ছাড়াতে সুবিধা হয়। কোনোভাবেই রক্তসহ মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত না। এতে মাংস নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি ফ্রিজে দুর্গন্ধ ছড়ানো ও রক্ত লেগে নোংরা হতে পারে। তাই মাংস কাটার পর আগে তরল রক্ত ভালোভাবে ধুয়ে ঝরিয়ে নিন। তারপর প্যাকেট করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

অনেকেই মাংস পানি দিয়ে ধুয়ে ফ্রিজে রাখতে চান না। তারা ফ্রিজে রাখার আগে কিছুক্ষণ ফ্যানের বাতাসে মাংস শুকিয়ে নিতে পারেন। পশু জবাইয়ের পর পরই মাংস ফ্রিজে না রাখাই উত্তম। কারণ পশু জবাইয়ের পর ৩-৪ ঘণ্টা মাংস শক্ত থাকে। এরপর সেটি নরম হতে শুরু করে। তাই পশু জবাইয়ের ৩-৪ ঘণ্টা পর মাংস ফ্রিজে রাখা ভালো।

red meat 3যেভাবে সংরক্ষণ করবেন কোরবানির মাংস- প্রতীকী ছবি

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত ১৮-২২ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মাংস সংরক্ষণ করা উচিত। এতে মাংস দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া মাংসের স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখতে এতে লবণ, মশলা ও ভিনেগার মাখিয়ে তারপর ফ্রিজে রাখতে পারেন।

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের আরেকটি স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজ পদ্ধতি হলো- সিদ্ধ করে পানি ঝড়িয়ে সংরক্ষণ করা। এক্ষেত্রে প্রথমে একটি বড় হাড়িতে লবণ ও হলুদ দিয়ে মাংসের বড় টুকরা সিদ্ধ করুন। মাংস হালকা সিদ্ধ হলে সেটি চালুন কিংবা কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখুন। এত সিদ্ধ করা মাংস থেকে পানি ঝড়ে যাবে। এরপর মাংস ঠাণ্ডা হলে প্যাকেট করে ফ্রিজে রেখে দিন। এই মাংস পাটায় ছেঁচে রান্না করলে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আর এটি স্বাস্থ্যসম্মতও।

অনেকেই কোরবানির পশুর কলিজা, ভুড়ি, মগজ, মাথা, পায়া খেতে পছন্দ করেন। তারা পশুর এসব অংশ লবণ ও হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। পরে নিজের ইচ্ছামতো বের করে রান্না করতে পারেন। যারা মাংস দিয়ে কাবাব বানাতে চান, তারা আগে থেকেই মাংসে মশলা মাখিয়ে তারপর ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন। এভাবে মাংস অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

তবে মাংস ফ্রিজে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোটা পলিথিন ব্যবহার করা। এতে করে একদিকে যেমন ফ্রিজে গন্ধ ছড়ায় না, তেমনি অন্যদিকে এক প্যাকেটের মশলার গন্ধ অন্য প্যাকেটে যাবে না। আর এর ফলে ফ্রিজ থেকে মাংস বের করতেও সুবিধা হয়।

যারা একসঙ্গে অনেক মাংস রান্না করে ফ্রিজে রাখতে চান, তারা অবশ্যই ঠাণ্ডা হওয়ার পর মাংস প্যাকেট করবেন। তা না হলে মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রান্না করা মাংস ঠাণ্ডা হওয়ার পর বক্সে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

যাদের ফ্রিজ নেই তারা যেভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন

আমাদের দেশে এখনো অনেকের বাসায় ফ্রিজ নেই। তাই কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা নিয়ে তারা অনেকটা দুশ্চিন্তায় থাকেন। তবে তারাও কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। যেমন-

মাংস কড়া রোদে শুকিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ জন্য মাংস কাটার পর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টানা কড়া রোদে শুকাতে হবে। প্রথমে কয়দিন প্রতিদিনই এভাবে মাংস শুকাতে হবে। এরপর একদিন পর পর মাংস শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে অনেদিক পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে। কিন্তু যদি প্রতিদিন কড়া রোদে শুকানো সম্ভব না হয়, তাহলে এ পদ্ধতি না ব্যবহার করাই শ্রেয়। এতে করে মাংস নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক।

রোদে শুকানো ছাড়াও মাংস জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে একবার ভালো তাপমাত্রায় (১০০ সেন্টিগ্রেড) মাংস সিদ্ধ করুন। এরপর প্রতিদিন দিনে দুইবার নিয়ম করে সেই মাংস জ্বাল দিন। এভাবে মাংস অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।

sheikh mujib 2020