advertisement
আপনি দেখছেন

সাধারণত দুটি উপায়ে শরীরের ভেতর ওষুধ প্রবেশ করানো হয়। একটি হলো- মুখের মাধ্যমে এবং অন্যটি হলো- ইনজেকশনের মাধ্যমে। তবে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ তাদের এমন ধরনের ওষুধ দেওয়া হয় যা শ্বাসনালীর ব্যাস বাড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধা প্রদান করে। যেহেতু ওষুধটি সরাসরি শ্বাসনালীতে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাই মুখ দিয়ে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে এ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। এ জন্য চিকিৎসক ইনহেলার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, কিন্তু রোগী যদি শিশু হয় বা গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভোগেন সেক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়।

side effects of nebulizer

নেবুলাইজারের মাধ্যমে ওষুধ প্রদানের পদ্ধতি ইনহেলারের থেকে ভিন্ন। এক্ষেত্রে নেবুলাইজার মেশিনে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট পাত্রে ওষুধ ঢালতে হয় এবং বিশেষ পদ্ধতিতে সেই তরল ওষুধ বাষ্পে পরিণত করে। গুরুতর শ্বাসকষ্ট দ্রুত নিরাময়ে নেবুলাইজার ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নেবুলাইজার ব্যবহারের ফলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

নেবুলাইজ করার শুরুতে অনেক সময় রোগীর শ্বাসনালী তাৎক্ষণিকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে রোগীর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।

ধূমপানকারীদের জন্য নেবুলাইজার ব্যবহার করার সময় রোগীর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে নেবুলাইজারে ইপ্রাট্রোসিয়াম সলিউশন (নাক ও শ্বাসযন্ত্রের ইন্দ্রীয় বন্ধ করে দেয় এমন ওষুধ) ব্যবহার করা হয়। রোগী যদি গু্লকোমা রোগে আক্রান্ত হয়, তবে রোগীর চোখে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

রোগীর হরমনজনিত সমস্যা থাকলে নেবুলাইজ করার সময় ফেসমাস্ক ব্যবহার এড়ানো উচিত, কারণ এর ফলে মুখের ত্বক এবং চোখে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

বয়স্ক পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজারে ইপ্রাট্রোসিয়াম সলিউশন ব্যবহারের ফলে রোগীর অণ্ডকোষের সমস্যা বেড়ে যায়।

নেবুলাইজার দীর্ঘমেয়াদি কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নয়। সাময়িক সময়ের জন্য রোগীর শ্বাসকষ্ট কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়। তাই অ্যাজমা ও সিওপিডি-রোগীদের নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়।

অনেক সময় নেবুলাইজারে ব্যবহৃত ওষুধ রোগীর শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

নেবুলাইজার মেশিনটি সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা হলে ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে রোগী বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।