advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বস্তু ধরার বিষয়ে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, কনুই দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করছেন লোকজন। সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় রেলিং ধরা থেকে বিরত থাকছেন। অফিসে প্রবেশের পর পরই জীবাণুনাশক দিয়ে ডেস্ক পরিষ্কার করছেন।

coronavirus pic 01

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বলছে, কোনো বস্তু হাত দিয়ে স্পর্শ করার পর যদি কেউ তার চোখ, নাক ও মুখে হাত দেয় তাহলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসটি আরো বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে থাকে। কিন্তু বার বার হাত ধুয়ে ও যেসব জিনিস বেশি স্পর্শ করা হয় সেসব পরিষ্কার রাখলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কিন্তু আপনি জানেন কি ভাইরাসটি কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে?

বিবিসি বলছে, বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয় যে, ভাইরাসটি ঠিক কতক্ষণ মানবদেহে বেঁচে থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার একই গোত্রের সার্স ও মার্স ভাইরাস লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে নয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আবার ঠাণ্ডা জায়গায় কোনো কোনো ভাইরাস ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাশি দেওয়ার সময় দেহ থেকে যেসব ভাইরাস বের হয় তা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ভাইরাস ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। আর প্লাস্টিকের জিনিসের ওপর দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে। এছাড়া দরজার হাতল, বৈদ্যুতিক সুইচের ওপর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে ভাইরাস। কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না। তাই কোনো কাপড় একদিন ব্যবহার করে দুই থেকে তিন দিন রেখে দিবেন। তারপর আবার ব্যবহার করতে পারবেন।

নির্মূলের উপায় কী?

৬২-৭১% অ্যালকোহল মিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে যেকোনো পদার্থকে করোনামুক্ত করা সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালকোহল মিশ্রিত তরল পদার্থ কয়েক মিনিটেই ভাইরাস মেরে ফেলে। এছাড়া ০.৫ শতাংশ হাইড্রোজেন প্রিঅক্সাইড এবং ০.১% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের মিশ্রণও করোনাভাইরাস দমনে সক্ষম।

করোনাভাইরাস উচ্চ তাপ ও আদ্রতাতে বাঁচতে পারে না। দেখা গেছে, ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সার্স প্রজাতির ভাইরাসগুলো মারা যায়।