advertisement
আপনি দেখছেন

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই ভীতিজাগানিয়া হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে ১৫ হাজারের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বয়স্ক লোকদের মৃত্যুর হার বেশি। সে তুলনায় শিশুরা এই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে কম। তাই বলে কি শিশুদের কোনো ভয় নেই? বিশ্বজুড়ে মা-বাবাদের মনে ঘুরছে শিশুর করোনা ভাইরাস নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নানা দেশের বিশেষজ্ঞরা সেই সব প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন।

coronavirus on children five questions

আপাতত জানা যাচ্ছে যে, শিশুদের জন্য এই ভাইরাস ততোটা ভয়ঙ্কর নয়। কিন্তু করোনা ভাইরাস এখনো মানুষের কাছে এক রহস্যময় জগত। এই ভাইরাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা নেই বিশেষেজ্ঞদের। ফলে এমনও হতে পারে যে এই ভাইরাস হঠাৎ করে শিশুদের জন্যও মারণ ভাইরাসে পরিণত হতে পারে।

শিশুরা কি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা অবশ্যই আক্রান্ত হতে পারে এবং তাদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। যদিও শিশুদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার হার প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু যেহেতু তারা আক্রান্ত হতে পারে, তাদেরকেও সোশ্যাল ডিসট্যান্সের মধ্যে রাখতে হবে এবং হাত ধোয়ার অনুশীলন করে যেতে হবে। মা-বাবাদের এই বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাসে শিশুরা কিভাবে আক্রান্ত হতে পারে?

এখন পর্যন্ত সাধারণ ধারণা হলো শিশুদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ সেভাবে পরিলক্ষিত হয় না বা হলেও খুব সামান্য পরিমাণে। তারপরও দেখা যাচ্ছে বয়স ও অঞ্চল ভেদে একই ধরনের আক্রান্তের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব একেক রকম। সুতরাং এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায়, তার বেশির ভাগই চীন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তাদের একাধিক প্রতিবেদন বলছে যে শিশুদের আক্রান্তের হার খুবই কম। চীন বলছে তাদের দেশে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে মাত্র ২.৪ শতাংশের বয়স ১৯ বছরের নিচে। তীব্র উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে এমন রোগীদের মধ্যেও শিশুদের সংখ্যা খুবই কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এটি একেবারই সামান্য পরিমাণ।

করোনা ভাইরাস কেনো শিশুদের সাথে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে?

এই প্রশ্নের উত্তর আসলে এখন পর্যন্ত অজানা। আমেরিকার সংক্রামক ব্যাধি মোকাবেলা করার প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. জয় সি বাটলার তার এক গবেষণায় বলেছেন, শিশুদের উপর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কেনো কম তা আসলে এখনো এক অজানা বিষয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যাদের স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা, যেমন উচ্চরক্তচাপ, বহুমূত্র রোগ, কিডনি সম্পর্কিত সমস্যা আছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

শিশুর অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে কি ঝুঁকি বেড়ে যায়?

স্বাস্থ্যগত সমস্যা বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা থাকলে ভাইরাল রোগের কারণে রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে পারে। তবে করোনা ভাইরাস যেহেতু পৃথিবীর জন্য একেবারে নতুন কিছু, সুতরাং এটিও শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুর জন্য আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়।

বয়স্ক রোগীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস আছে, করোনা ভাইরাস তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের জন্যও করোনা ভাইরাস একই রকম প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। এতো কিছুর পরও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞগণ মা-বাবাকে শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

শিশুদের বাইরে যাওয়া বা স্কুলে যাওয়া কি বন্ধ রাখা উচিত?

এর মধ্যেই অনেক দেশ বা স্থানীয় প্রশাসন শিশুদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে। আপনার শিশুও যদি বাড়িতে থাকে, তাহলেও তাকে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং অনুশীলন করতে হবে। সুতরাং এই বিষয়ে সব সময় সজাগ থাকতে হবে মা-বাবাদের।

(এই লেখাটি কেবলই তথ্য শেয়ারের উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। এই লেখাকে কোনো মেডিকেল পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আপনার যে কোনো রকম স্বাস্থ্য সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

sheikh mujib 2020