advertisement
আপনি দেখছেন

মাস্কের ব্যবহারে বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া উল্লেখজনক হারে কমে যায়। হংকংয়ের এক গবেষণা বলছে, মাস্কের ব্যবহারে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

hong kong university microbiologist dr yuen kwok yungহং কং ইউনিভার্সিটির অণুজীব বিজ্ঞানী ডক্টর ইউয়েন কোয়োক-ইয়াং

গবেষণা দলের সদস্য হংকং ইউনিভার্সিটির অণুজীব বিজ্ঞানী ডক্টর ইউয়েন কোয়োক-ইয়াং বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করলো যে বৈশ্বিক এই মহামারিতে মাস্কের ব্যবহার কতো বৃহৎ একটি প্রভাব ফেলেছে।

ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, গবেষণাটি করা হয়েছে একদল হ্যামেষ্টারের ওপর। গবেষকরা এই প্রাণীদের দলটিকে দুই ভাগে ভাগ করে আলাদা খাঁচায় রাখে। এদের মধ্যে একটি দলকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত করা হয়। অন্য দলটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা হয়।

হ্যামস্টারগুলোর ওপর তিনটি পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে গবেষকরা আক্রান্ত প্রাণীদের খাঁচা মাস্ক দিয়ে আবৃত করেন। দ্বিতীয় পরীক্ষায় সুস্থ প্রাণীদের খাঁচায় মাস্ক দেয়া হয়। তৃতীয় পরীক্ষায় কোনো খাঁচাতেই মাস্ক দেয়া হয়নি। প্রতিটি পরীক্ষাতেই দুই খাচার মাঝে একটি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছিল যাতে করে ভাইরাস একদল থেকে অন্যদলে পৌঁছায়।

n95 maskএন৯৫ মাস্ক

গবেষকরা দেখতে পান, আক্রান্ত প্রাণীদের খাঁচায় মাস্ক দেয়ার পর সংক্রমণের হার ৭৫ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় অর্থাৎ যখন সুস্থ হ্যামস্টারগুলোর খাঁচায় মাস্ক দেয়া হল তখন সংক্রমণের মাত্রা ৩৩ শতাংশ কমেছে।

তৃতীয় পরীক্ষায় দেখা গেল সুস্থ প্রাণীদের এক তৃতিয়াংশই এক সপ্তাহর মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে।

গবেষকরা দাবি করছেন, মাস্ক ব্যবহারের পরেও যেসব হ্যামস্টার সংক্রমিত হয়েছে তাদের দেহে তুলনামূলক কম ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ডক্টর ইউয়েন কোয়োক-ইয়াং বলেন, এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে কেউ সংক্রমিত হওয়ার পর মাস্কের ব্যবহার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়। শুধু সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহার করে বাতাসে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া যায়।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই সে পর্যন্ত মাস্কের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাই হবে আমাদের একমাত্র হাতিয়ার।