advertisement
আপনি দেখছেন

মরণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাব পৃথিবীতে আগামী কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংস্থাটির প্রধান টেডরস আধানম গেব্রিয়াসুস শুক্রবার সংস্থার জরুরি কমিটির এক বৈঠকে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

tedros adhanom gebriasus who টেডরস আধানম গেব্রিয়াসুস

গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম ভাইরাসটির উত্থান হয়। এর পর তা আস্তে আস্তে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ১ কোটি ৭৫ লাখের বেশি মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। ডব্লিউএইচও এমন সময় এ শঙ্কা প্রকাশ করলো যখন বিগত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব আবার বৃদ্ধির দিকে। তাছড়া অনেক দেশেই ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসে আবারো ছড়িয়ে পড়ছে।

ভয়ংকর এই মহামারি থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে দিনরাত কাজ করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা। এরই অংশ হিসেবে দেড় শতাধিক ওষুধ কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গবেষণার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। কেউ কেউ দাবি করেছে, চলতি বছরের মধ্যেই ভ্যাকসিন বাজারে আসবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২১ সালের আগে কোনো ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

covid 19 virus imageকরোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

সে বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে গেব্রিয়াসিস বলেন, অবশ্য কোভিড-১৯ নিয়ে গবেষণায় অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তার পরও অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি, ফলে মানুষ এখনো ঝুঁকিতে আছে।

তিনি আরো বলেন, এ রকম মহামারি সাধারণত শতাব্দীতে একবারই দেখা যায়। আর এর প্রভাব আগামী কয়েক দশক পর্যন্ত থেকে যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলছেন, পৃথিবী থেকে সহজে বিদায় নেবে না করোনাভাইরাস। তাই একে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। তার মানে এই নয় যে, মহামারির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যাবে। বরং যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণ সমাজের অনেকেই করোনাভাইরাসের ব্যাপারে অসতর্ক হয়ে পড়েছে। সংক্রমণের যে উর্ধ্বগতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, তার জন্য অনেকটাই দায়ী এই তরুণ সম্প্রদায়।

ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেন, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, তরুণরা কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত। বরং যাদের বয়স কম তারাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে ও মারা যেতে পারে।

sheikh mujib 2020