advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিত্য নতুন রেকর্ড গড়ছে। এরমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশে (গতকালের হিসাব) পৌঁছেছে। জনসাধারণ সচেতন ও প্রতিরোধবিধি না মারলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাওয়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

corona in controlকরোনা প্রতিরোধ, প্রতীকী ছবি

তারা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় সবার আগে সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানত ৩টি পদ্ধতি মেনে চলার কথা জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান উপদেষ্টা।

একটি গণমাধ্যম ডা. মুশতাক হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিল, সংক্রমণের লাগাম টানতে এই মুহূর্তে জনসাধারণের করণীয় কী? জববে যে ৩টি পদ্ধতির কথা বলেন তিনি, সেগুলো হলো- করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা, সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান।

dr mushtaq hossain iedcrডা. মুশতাক হোসেন, ফাইল ছবি

প্রথম পদ্ধতি: করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা, যার মাধ্যমে একটা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে সবাইকে। এ ক্ষেত্রে আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে থাকা রোগীরা চিকিৎসার মধ্যে থাকছে। বাসায় থাকা রোগীদের নিতে হবে টেলিমেডিসিনের আওতায়, যাতে বিপদ সংকেত অনুযায়ী হাসপাতালে যেতে পারে।

এ ছাড়া বাড়িতে অবস্থান করা করোনা আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জীবিকা নির্বাহ নিয়ে সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের ঘরে রাখতে সহায়তা দিতে হবে।

mask wash sneezing phone cleanস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ফাইল ছবি

দ্বিতীয় পদ্ধতি: সবাইকে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে, এর কোনো বিকল্প নেই এই মুহূর্তে।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দেখতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বরদের নেতৃত্বে এলাকাভিত্তিক কমিটি করা যেতে পারে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিতদের তদারকির দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

তৃতীয় পদ্ধতি: সবাইকে গণটিকাদানের আওতায় আনা। এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় এ কর্মসূচির ব্যাপারে প্রচারাভিযান করা যেতে পারে। এর ফলে টিকা পাওয়ার পরই যেন সবার টিকাদান নিশ্চিত করা যায়।

corona tickaটিকাদান কর্মসূচি, ফাইল ছবি

জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই তিনটি পদ্ধতি মানলে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টসহ যে কারণেই সংক্রমণ বাড়ুক না কেন, অবশ্যই তার রাশ টানতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সাধারণ মানুষেরও সংক্রমণ প্রতিরোধে পদ্ধতি তিনটি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব পদ্ধতি যেখানে মানা হচ্ছে, সেখানে সংক্রমণের হার অনেক কম। তাই করোনা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে এই ৩টি মেনে চলতে হবে সবাইকে।