advertisement
আপনি দেখছেন

করোনা মহামারির উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনে এবার মানবদেহে বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হয়েছে। এই ভাইরাসের স্ট্রেইন এইচ৫এন৬ (H5N6) মানুষের শরীরে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এমন অবস্থায় দেশটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

bird flu in chinaবার্ড ফ্লু পরীক্ষা, ফাইল ছবি

চীনা গণমাধ্যমগুলো জানায়, দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে যে ব্যক্তির শরীরে বার্ড ফ্লু ধরা পড়েছে, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাজহং শহরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি থাকতেন পোল্ট্রি ফার্মের কাছাকাছি। সেখান থেকেই তার শরীরে ভাইরাল স্ট্রেইনটি প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবদেহে বার্ড ফ্লু ভাইরাল শনাক্তের কথা এই প্রথমবার স্বীকার করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগেও দেশটিতে একজনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হওয়ার খবর এলেও তা অস্বীকার করে বেইজিংয়ের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন।

bird flu in chinaপোল্ট্রি ফার্ম, ফাইল ছবি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবদেহে করোনার মতোই দ্রুত ছড়াতে পারে বার্ড ফ্লু ভাইরাস। এই রোগে আক্রান্তের উপসর্গও প্রায় করোনার মতোই। বিশেষ ধরনের এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পাখির পাশাপাশি মানুষসহ অন্য পশুর শরীরেও ছড়াতে পারে।

এদিকে, ভারতে বার্ড ফ্লুর যে স্ট্রেইনটি ছড়িয়েছে, তা এইচ৫এন১ ও এইচ৭এন৯ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে মৃত পাখির নমুনা স্ট্রেইন দুটি খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত এই ভাইরাসের বাহক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় পাখিকে।

bird flu outbreak in chinaবার্ড ফ্লু পরীক্ষা, ফাইল ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, ১৯৯৭ সালে মানুষের শরীরে প্রথম বার্ড ফ্লু চিহ্নিত করা হয়। তখন মৃত পাখির সংস্পর্শে আসা মানুষ সেই ভাইরাল স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন। তবে চীনে শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের ধরনটি ভিন্নতর। এটি মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৬-১৭ সালে বার্ড ফ্লুর এইচ৭এন৯ (H7N9) স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়ে ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে এই ভাইরাস আর মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়নি এবারের আগ পর্যন্ত।