advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৯৪ জন। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি। ডেঙ্গুর সংক্রমণ শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

dengue patientsভোগান্তিতে ডেঙ্গু রোগীরা, ফাইল ছবি

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা বলছে, এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। করোনা ও ডেঙ্গু- এই দুই মহামারি একসঙ্গে চলমান থাকলে মানবজীবনের জন্য প্রবল হুমকি তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার এন্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই হাসপাতালে গেছেন ১ হাজার ৯২০ জন, যা গেলো বছরের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। তা ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের সংখ্যা শতাধিক হচ্ছে।

aedes denguডেঙ্গু রোগের বাহক এডিশ মশা, ফাইল ছবি

এবার ডেঙ্গু সংক্রমণের হার এত বেশি কেন?

গত বছরে ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, সেই সংখ্যাটা এ বছরের প্রথম সাত মাসেই ২ হাজার ২৯২ জনে পৌঁছেছে। এসব রোগীর মধ্যে মাত্র ৬৭ জন ঢাকার বাইরের রোগী, বাকিরা সবাই ঢাকার বাসিন্দা। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৪২ জন, যার মধ্যে ৬১৮ জনই ঢাকায়।

বলা হচ্ছে, গেলো বছর কম থাকায় এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হবে, তা আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। কেননা, এক বছর পর পর ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে থাকে। এমনটি বলছেন খোদ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কারো জ্বর আসলেই করোনার উপসর্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও সেটি ডেঙ্গুরও লক্ষণ। এ ছাড়া চলতি বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের সংখ্যাও বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সনচেতনতার অভাবকেও দায়ী করছেন তারা।

corona symptomকরোনাভাইরাস, প্রতীকী ছবি

যে কারণে ডেঙ্গু রোগীরা হুমকির মুখে

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, অনেকেই মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় জ্বর আসলেই করোনা হওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গও একই হওয়ায় সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছেন না, সমস্যায় পড়ছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল আসতে দেরি হওয়ায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

একে তো করোনার কারণে হাসপাতালে শয্যা সংকট রয়েছে। তার ওপরে আবার ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল দেরিতে আসায় হাসপাতালে ভর্তি হতে সময় লাগছে। চিকিৎসায় অবহেলিত ও বঞ্চিত হওয়ায় অনেক রোগী বাসায় চলে যাচ্ছেন। ফলে এসব রোগীর জীবন নিয়ে প্রবল হুমকি তৈরি হতে পারে।

এর আগে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৯ সালে, এক লাখের বেশি। সরকারিভাবে সে বছর এতে ১৭৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা অনেক বেশি।