advertisement
আপনি দেখছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর কর্তৃক একাত্তর টেলিভিশন বয়কট করার ঘোষণা দেয়ার পর গণমাধ্যমটির বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক পোস্ট শেয়ার হতে থাকে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে অনেকেই তাদের বয়কট করতে থাকে। যার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় গণমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে। রাতারাতি সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এমনকি দেশের আলেম সমাজও চ্যানেলটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

journalist against noorবৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন

সেটির প্রতিবাদে এবং গণমাধ্যম নিয়ে কটূক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সাংবাদিকের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এবার নুরুল হক নূরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। নয়তো তাকে বয়কট করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাংবাদিকরা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নূরকে উদ্দেশ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোটা আন্দোলন, ডাকসু ভিপি নির্বাচনসহ তাদের নিগৃহীত হওয়ার খবরগুলো তুলে ধরার সময় গণমাধ্যম ভালো ছিল। আর এখন ধর্ষণের অভিযোগের খবরগুলো তুলে ধরায় গণমাধ্যমকে বয়কট করতে চাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে কী প্রমাণ করতে চান, আপনি ছাত্রনেতা নাকি কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠীর অংশ?

হনুমানের লেজে আগুন দিলে যা হয়, ঢাবি শিক্ষার্থীরা নূরকে ভিপি করে সেই কাজটিই করেছেন মন্তব্য করে তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে গণমাধ্যম। আর এখন একজন অপরাধী এসে হুট করে গণমাধ্যম বয়কট করতে চাইছেন। এটা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

vp noor 21ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, যে গণমাধ্যম স্বাধীনতার স্বপক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে, সেই গণমাধ্যমকে নিয়ে কটূক্তি এই দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধেই কটূক্তি। নূরদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। নয়তো ডিজিটাল আইনে মামলা হওয়ার পরও নূর কীভাবে এখনো ঘুরে বেড়ায়। সরকারের প্রশাসনেও তাদের মদদদাতা আছে, সবার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি এম এ কুদ্দুস, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাসিমা সোমা প্রমুখ।

sheikh mujib 2020