advertisement
আপনি দেখছেন

লিওনেল মেসি, ফুটবল বিশ্বের অবিসংবাদিত সম্রাট। অবশ্য তার সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনাটা হরমামেশাই হয়। মেসির মতো রোনালদোও এ সময়ের সেরা ফুটবলার। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলেন, রোনালদো ভালো ফুটবল খেলেন তবে মেসি সেরাদের সেরা। মেসি অন্যগ্রহের। এই দুইজন গ্রেট ফুটবলারের তুলনাটা আপাতত হিসাবের খাতায় তোলা থাক। তবে ঘোর বিরোধীরাও মানবেন, এই মুহূর্তে মেসিই বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় ফুটবলার। যাকে দর্শকরা শুধু ফুটবলীয় দক্ষতা নয় বরং আচার-ব্যবহার সবকিছু মিলিয়েই ভালোবাসেন। 

messi red card

ম্যারাডোনার পর এক মেসির কারণেই প্রায় তিন দশক শিরোপা বঞ্চিত থাকার পরও আর্জেন্টিনার সমর্থক বাড়ছেই। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আর্জেন্টিনা এবং মেসির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।

বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রেফারি মারিও ডিয়াজ দে ভিভার লাল কার্ড দেখিয়েছেন লিওনেল মেসিকে। ফুটবল মাঠে কার্ড দেখার ঘটনা হরমামেশাই ঘটে। কোন খেলোয়াড় অপেশাদার বা অখেলোয়াড় সুলভ আচরণ করলে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন অথবা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বিতাড়িত করেন। কিন্তু মেসিকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমসহ বিশ্বমিডিয়া উত্তাল।

বিশ্ব ফুটবলের এই ভদ্র বালক ক্লাব এবং দেশ মিলিয়ে প্রায় ৮০০ ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন শত শত গোল। তার লাল কার্ড দেখার ঘটনাতো বিরল। সেই ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের সময় একবার রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন মেসি। ১৪ বছর পর আবারো রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। অথচ মেসির সঙ্গে যার তুলনা করা হয় সেই রোনালদো লাল কার্ড দেখেছেন ১১ বার আর হলুদ কার্ড দেখেছেন মেসির দ্বিগুনেরও বেশি। 

এবার আসা যাক মেসি কি কারণে লাল কার্ড পেলেন? কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে মেসিরা এলোমেলো ফুটবল খেললেও শেষ তিন ম্যাচে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে অ্যাগুয়েরো দিবালারা। এরমধ্যে সেমিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সঙ্গে সবচাইতে ভালো খেলেছেন মেসিরা কিন্তু বাজে রেফারিংয়ের কারণে জিততে পারেনি।

সর্বশেষ বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিলির বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারি মারিও ডিয়াজ দে ভিভার মেসিকে লাল কার্ড দেখান। ম্যাচের তখন ৩৭ মিনিট। মেসিবাহিনী ২-০ গোলে এগিয়ে। 'নতুন' আর্জেন্টিনার মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা চিলি। সে সময় দিবালার বাড়ানো বলে চিলির ডিবক্সের মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ে গ্যারি মেডেলকে পেছন থেকে চার্জ করেন মেসি। বল দখলের সময় চিলির অধিনায়ক মেডেল বলটি আউট হোক এমনটাই চাচ্ছিলেন। সে সময় বল নিতে গিয়ে মেডেলের গায়ে হালকা ধাক্কা লাগে। মেসি কি ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়েছেন নাকি অনিচ্ছাকৃত সেটি স্পষ্ট নয়। তবে এরপর যা ঘটলো সেটি অবিশ্বাস্য।

চিলি অধিনায়ক পেছন ফিরেই যা করলেন সেটি যেন ফুটবল সম্প্রীতির বাইরের কিছু। এক কথায় অবিশ্বাস্য। চোখ কচলে বারবার দেখলেও বিশ্বাস না হওয়ার মতো। পেছনে ঘুরেই মেডেল তেড়ে আসেন মেসির দিকে। শরীর দিয়ে ধাক্কাতে শুরু করেন মেসিকে। এমন 'জন্তুর' মতো আক্রমণে কোন পাল্টা জবাব দেননি মেসি। বরং দু হাত তুলে মেডেলের প্রত্যেকটি ধাক্কায় পিছিয়েছেন দু-এক পা করে। এর মধ্যেই ছুটে আসেন রেফারি মারিও ডিয়াজ দে ভিভার। এসেই সরাসরি লাল কার্ড মেসি এবং মেডেলকে! এই দৃশ্য অবতারণার পর মেসি যেন বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। শুধু মেসিই? নাকি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তরাও বিস্ময় জাগানো চোখে তাকিয়ে ছিলেন! খেলার পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন বার।

messi red card 2

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেছে, মেসি হয়তো পেছন থেকে চার্জ করেছেন। কিন্তু লাল কার্ড দেখার মতো কোনো অপরাধ করেননি। এমনকি চিলি অধিনায়ক গ্যারি মেডেলকেও হলুদ কার্ড দেখালেও ফুটবলীয় ব্যকরণে ব্যাঘাত ঘটতো না। আর চুপচাপ থাকা মেসিকে কার্ড দেখানোর কোন প্রশ্নই আসে না। লালকার্ডতো দূরের কথা। কিন্তু রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লঘু পাপে গুরু দণ্ড পেয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে।

বহু ঘটনার এই ম্যাচে তৃতীয়স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে চিলির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২-১ গোলে। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেসির লাল কার্ড। মেসি নিজেও যেন বিষয়টি মানতে পারছেন না। ম্যাচ শেষে পদকও নিতে যাননি। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পদক নিতে যাইনি। কারণ আমাদের অসম্মান ও দুর্নীতির অংশ হওয়া উচিত নয়। আমরা ফাইনালে যেতে পারতাম। দুর্নীতি ও রেফারি আমাদের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচের ঘটনায় আমাদের দুজনকে হলুদ কার্ড দিলেই যথেষ্ট ছিল। সেমিতে রেফারির সমালোচনা করায় হয়তো ফল পেলাম। তবে আমি সত্য বলা থেকে পিছপা হবো না।

এদিকে রেফারির এহেন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেছেন, মেসি যে লাল কার্ড পেল, আমি বুঝতে পারছি না তার অপরাধটা কি? স্কালোনির মতো বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তও মেনে নিতে পারছেন না মেসির বিষাদমাখা মুখ, মহানায়কের এমন প্রস্থান। বিশ্বজুড়ে রব উঠেছে মেসির প্রতি অন্যায় হয়েছে।

{loadtweets}url=1147609533772120066{/loadtweets}

প্রিয় পাঠক, ভিন্নমতে প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু, রচনারীতি ও ভাবনার দায় একান্ত লেখকের। এ বিষয়ে টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপার কোনোভাবে দায়বদ্ধ নয়। আপনাদের ধন্যবাদ।