advertisement
আপনি দেখছেন

ইসলামী জীবন বিধানে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অর্থনৈতিক ইবাদতের মধ্যে এটি অন্যতম। এই বিধানটি ইসলামের তৃতীয় ভিত্তি বা রুকন। ঈমান ও নামাজের পরই এর স্থান। যেমন কুরআনে এসেছে, যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে ও তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।’ সূরা বাকারা, আয়াত ৩। দান করা ঐচ্ছিক, কিন্তু যাকাত আদায় করা আবশ্যক।

zakat 1

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো।’ সূরা বাকারা, আয়াত, আয়াত ১১০। 

ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে যাকাত আদায়ের উপকারিতা অনেক। মহানবী (সা.) বলেন, ‘দাতা আল্লাহর কাছে প্রিয়। মানুষের কাছে প্রিয়। জান্নাতের কাছাকাছি। জাহান্নাম থেকে দূরে। সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ১৯৬১। আসুন জেনে নেই যাকাতের চারটি অর্থনৈতিক উপকার সম্পর্কে।

যাকাত দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র উপহার দেয়

যাকাত দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র উপহার দেয় ও সম্পদের আবর্তন স্বাভাবিক রাখে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করে। আল্লাহ পাক বলেন, ‘যাতে তোমাদের বিত্তবানদের মাঝেই শুধু সম্পদ জমে না থাকে। সূরা হাশর, আয়াত ৭।

যাকাতে সম্পদ বাড়ে

যাকাত দিলে ধন-সম্পদ বাড়ে। এতে সম্পদে বরকত হয়। বাহ্যত সম্পদ কমে যেতে দেখলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে বৃদ্ধি ঘটে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তোমরা যে যাকাত দাও, প্রকৃতপক্ষে সেই যাকাত তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে।’ সূরা রুম, আয়াত ৩৯।

যাকাত সম্পদ পবিত্র করে

যাকাত ধন-সম্পদকে পবিত্র করে। সম্পদের মধ্যে অন্যের অংশ মিশে গেলে তা কলুষিত হয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যখন তোমার সম্পদের যাকাত দিয়ে দিলে, তখন তুমি সম্পদের খারাপটা দূর করে দিলে।’ মিশকাত শরিফ।

অভিশপ্ত সুদপ্রথা নিমূল করে

যাকাত ব্যবস্থা অভিশপ্ত সুদ প্রথা নির্মূল করতে বিরাট ভূমিকা রাখে। অভাবীরা অভাবে পড়ে সুদের টাকা নেয়। এ জন্য আল্লাহপাক অভাবীদের অধিকার হিসেবে যাকাত ফরজ করেছেন সামর্থবানদের ওপর। সঠিকভাবে যাকাত আদায় করলে সুদপ্রথা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।