advertisement
আপনি দেখছেন

রোজার হাকিকত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) বলেন, পবিত্র কোরআন থেকে জানা যায়, মানুষ হলো আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে হযরত আদম (আ.) এর ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা বা প্রতিনিধি পাঠাতে যাচ্ছি।’ অন্য আয়াত থেকে জানা যায়, খলিফার মহান দায়িত্ব মানুষ নিজ থেকেই চেয়ে নিয়েছে।

fasting came to create enlightened people

সুরা আহযাবের ৭২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি আসমান-জমিন ও পাহাড় পর্তবের কাছে আমানত পেশ করলাম। সবাই ভয়ের সঙ্গে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করল, কিন্তু মানুষ তা বহন করতে রাজি হলো। নিঃসন্দেহে মানুষ বড়ই অবিবেচক, অবিচারী।’

আলী হাসান নদভী (রহ.) বলেন, মানুষকে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হওয়ার দুর্লভ যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। ফলে মানুষের ভেতর এমন এক বিশেষ শক্তি দেওয়া হয়েছে- সে ঊর্ধ্ব জগতের যাবতীয় গুণাবলী অর্থাৎ প্রেম-প্রীতি, মায়া-মমতা, ধৈর্য-সমমর্মী ইত্যাদি অর্জন করতে পুরোপুরি সক্ষম। একইভাবে যেহেতু সে পৃথিবীতে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবে, তাই পৃথিবীর অন্যান্য সৃষ্টিরাজির চাহিদা ও স্বভাব সম্পর্কেও তার ভালোভাবে জানা থাকা প্রয়োজন।

একদিকে মানুষ যুগে যুগে ভালো গুণাবলী আয়ত্ব করার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে নফস তাকে জড়জগতের ভোগবিলাসের দিকে টেনেছে। এই যে মানুষেরব ভেতর ভালো ও মন্দের লড়াই, এ লড়াইয়ে কে জিতবে? ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন, মানুষের নফস ও রুহের মধ্যে যেটা শক্তিশালী হবে সেটাই জিতবে। এক্ষেত্রে দেখতে হবে রুহ এবং নফস কোনটা কোন পদ্ধতিতে শক্তিশালী ও দুর্বল হয়।

রুহের অস্তিত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘রুহ হচ্ছে আমার রবের বিশেষ নির্দেশ।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়ত ৮৫। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি আদমের দেহে নিজ থেকে রুহ ফুঁকে দিলাম।’ সুরা হিজর, আয়াত ২৯। এ আয়াত দুটো প্রমাণ করে রুহ এসেছে উর্ধ্বজগত তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং আল্লাহর জিকির ও হুকুম-আহকাম পালন করলেই রুহ শক্তিশালী হবে।

ramadan 2

একইভাবে দেহের অস্তিত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে পঁচা কাদার খনখনে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছি।’ সুরা হিজর, আয়াত ২৬। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘তিনি মানুষকে পোড়া মাটির মত শুকনো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।’ সুরা রহমান, আয়াত ১৪। ফলে স্বভাবতই মাটি থেকে উৎপন্ন খাবার খেলে মানুষের দৈহিক ও জৈবিক শক্তি বেড়ে যায় এবং নফস শক্তিশালী হয়।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা দেহের খাবার বন্ধ করে দেয় এবং রুহের খাবারের পমিাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়। এভাবে যখন কিছু দিন চলতে থাকে তখন নফস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রুহ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর রুহ যখন শক্তিশালী হয় তখন ওই বান্দা অলিয়ে কামেল মুত্তাকি বান্দায় পরিণত হয়। এ জন্যই রোজার নির্দেশ দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’ বলে শুরু করেছেন এবং রোজা ফরজের উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে ‘লাআল্লাকুম তাত্তাকুন’ বলে শেষ করেছেন।

অর্থাৎ, ইমানদারদের জন্য সিয়াম হলো তাকওয়ার বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স। এ কোর্স শেষে মুমিন যখন মুত্তাকিতে পরিণত হবে তখন ওই বান্দার দুনিয়ার জীবন অর্থাৎ খাওয়া-পরা, চলা-ফেরা, ইজ্জত সম্মান নিয়ে কোনো ভয় থাকবে না। একইভাবে আখেরাতের শাস্তি-পুরস্কার নিয়েও মনে কোনো দুশ্চিন্তা জাগবে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং মুত্তাকি হয়েছে- তারা আল্লাহর বন্ধু। তাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিান্তাও নেই।’ সুরা ইউনুস, আয়াত ৬২।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মুমিন থেকে মুত্তাকির মাকামে পৌঁছার তাওফিক দিন। আমিন।