advertisement
আপনি দেখছেন

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন, “আল্লহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত এক কিতাব যার সমস্ত অংশই সুসাঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে একই কথা নানাভাবে বারবার বলা হয়েছে। যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের দেহ এতে রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাদের দেহমন বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। ইহাই আল্লাহর হেদায়াত।” (যুমার ৩৯: ২৩)

al quaran study ramadan

তিনি আরো বলেন,

“আমি এক কল্যাণকর কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো বোঝার চেষ্টা করে। আর বোধশক্তি সম্পন্নরা (এ থেকে) উপদেশ গ্রহণ করবে।” (সাদ ৩৮: ২৯ আয়াত)

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সেই ব্যক্তি কুরআন বুঝে না যে তিন দিনের কম সময়ে তা খতম করে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)

তিনি (সা.) আরো বলেন, “কুরআন তিন শ্রেণীর লোক শিক্ষা করবে: কিছু লোক তা নিয়ে ফখর (অহংকার) করে বেরাবে, কিছু লোক তার মাধ্যমে পেট চালাবে এবং কিছু লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা পাঠ করবে।” (বাইহাকী শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৫৮, শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী- হাদীস সম্ভার ১ম খণ্ড ১৪৭৬)

রসুলে আকরাম (সা.) কুরআন অধ্যয়নে সকল মুসলিমকে তাগাদা দিয়ে বলেন- “কুরআন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনকারী ব্যক্তি ওই সব ফিরিস্তাগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর প্রতি অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়ে সে ব্যক্তির জন্য দু’টি পুরস্কার আছে।” (মুসলিম অধ্যায় ৭, কুরআনের মর্যাদাসমূহ ও এতদসংশ্লিষ্ট বিষয় : ১৭৪৭)

কুরআন বুঝার পাথেয়

এ পর্যায়ে কুরআন অধ্যয়নে সহায়ক কিছু বিষয় আমরা উপস্থাপনের চেষ্টা করবো।

# কুরআনের বিষয়বস্তু

কুরআন পাঠকালে সর্বাগ্রে যে বিষয়টি জানা থাকলে একজন পাঠক বা পাঠিকার জন্য সহজ হয় তা হল- কুরআনের বিষয়বস্তু। নাহলে যে কোনো পূর্বধারণা (pre-conceived idea) কুরআন পাঠকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে এ কথা সত্য যে সত্যের অন্বেষায় বা সত্যের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে যে বা যারাই কুরআন অধ্যয়ন করেছে, কুরআন তাদের কাছে নিজেকে মেলে ধরেছে। মহান আল্লাহ পাক সত্যানুসন্ধী মনের করেন। তিনি তাদের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সে পথে চলাকে সহজ করে দেন। আর যে তার মনের বক্রতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কুরআন পড়ে সে বিভ্রান্ত হয়। এটাই কুরআনে এভাবে বলা হয়েছে—

“ইহা (কুরআন) দ্বারা অনেককেই তিনি বিভ্রান্ত করেন আবার বহু লোককে সৎপথে পরিচালিত করেন। বস্তুত: তিনি পথপরিত্যাগী (ফাসেক) ছাড়া আর কাউকেও বিভ্রান্ত করেন না।” (বাকারা ২: ২৬)

কুরআন পাঠকালে আমরা কি কি বিষয় পাব তা জানা থাকলে একজন পাঠক মোটামুটি সহজে আগাতে পারেন। মোটা দাগে আল-কুরআনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি পাই আমরা:

১. বিশ্বজাহানের স্রষ্টা, প্রভু ও সর্বময় ক্ষমতার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ তা’য়ালার- পরিচয়। বিশ্বজগতে দৃশ্যমান-অদৃশ্য সকল কিছুর একমাত্র স্রষ্টা তিনি। বাকী সবই তাঁর বান্দা মাত্র। আল-কুরআনে আল্লাহপাকের বিস্তারিত পরিচয় বর্ণনা করা হয়েছে। একত্রে একস্থানে এসেছে কখনো কখনো। যেমন- আয়াতুল কুরসী (বাকারা ২: ২৫৫), সুরা হাশরের (৫৯) শেষ তিন আয়াত, সুরা ইখলাস প্রভৃতি অংশে। আবার বিভিন্ন স্থানে প্রাসঙ্গিকভাবে আল্লাহতা’য়ালার সিফাত বা গুণাবলী বা তাঁর বিষয়ে মানুষের বিভ্রান্তির জবাব দেয়া হয়েছে। যেমন- আনআম (৬) ১০৬ আয়াত আল্লাহকে দুনিয়াতে দেখা প্রসঙ্গে- গায়েবের জ্ঞান শুধুমাত্র তাঁরই আছে। আনআম ৬: ৫০ ও ৫৯, আরাফ ৭: ১৮৮, যেসব বিষয় তিনি ছাড়া কেউ জানে না লোকমান ৩১: ৩৪ প্রভৃতি আয়াত।

২. মানুষের পরিচয়। কুরআন মজীদের মূল আলোচ্য বিষয় মানুষ। মানুষ আল্লাহর বান্দা (যারিয়াত ৫১: ৫৬) এবং আল্লাহর খলিফা (বাকারা ২: ৩০), (আনআম ৬: ১৬৫), দুনিয়াতে পরীক্ষার্থী (মুলক ৬৭: ২) এবং আখিরাতের বাসিন্দা। দুনিয়ায় মানুষ কিভাবে আল্লাহর বান্দা ও খলিফা হিসেবে কাজ করবে, কোন কোন বিষয় বিশ্বাস করবে, কি কি বর্জন করবে, ব্যক্তি চরিত্রের কাঙ্ক্ষিত রূপ কি, অনাকাঙ্ক্ষিত দোষগুলি কি কি, পরিবার-সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ-সন্ধি, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, বিশ্বনীতি প্রভৃতিসহ মানবজীবনের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহ পাকের মৌলিক বিধান ও নীতিমালা কুরআনে আলোচিত হয়েছে। সেসব বিষয়ে মানবজাতিকে হেদায়াত দেয়া হয়েছে। ইসলাম চায়, মানবজীবনে ওহীভিত্তিক সংস্কার বা পরিবর্তন নিয়ে আসতে। এর আদর্শ ও পদ্ধতি কুরআনে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কুরআন একাধারে জীবনবিধান ও সেই বিধান কায়েমের পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।

৩. কিভাবে আল্লাহর বিধান মানুষ মানবে তার বাস্তব আদর্শ হিসেবে কুরআন পেশ করে রসুলুল্লাহ (সা.)-কে। আল-কুরআনে আমরা তাই পাই রসুলের পরিচয়, তার দায়িত্ব, দায়িত্বের পরিধি, দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রভৃতি বিষয়। এসেছে রসুলের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও সম্পর্কের বিষয়ে হেদায়াত। রসুল (সা.)-এর পর তার ইসলামী নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ও তাদের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। (নিসা ৪: ৫৯)

৪. আল্লাহর হেদায়াত ও রসুলের আদর্শ অনুযায়ী কুরআনের বিধান না মানার পরিণতি হিসেবে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উদাহরণ এসেছে বারবার। সেই উদ্দেশ্যে আদম (আ.) ও শয়তানের ঘটনা, নুহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), শুয়াইব (আ.), ইব্রাহীম (আ.), মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইল, ঈসা (আ.) প্রমুখ আম্বিয়া (আ.)-এর উল্লেখ ও তাদের দাওয়াতের প্রতি তাদের জাতির প্রতিক্রিয়া ও তার পরিণতির কথা বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

৫. ইসলাম ও মুসলমানদের বন্ধু ও শত্রুর পরিচয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

৬. জীবন-মৃত্যু, প্রাচুর্য-দারিদ্র্য, ভাগ্যের ভাল-মন্দ, রোগ-সুস্থতা, জীবনের উত্থান-পতন প্রভৃতি বিষয়- যা নিয়ে যুগে যুগে সাধারণ মানুষ ও দার্শনিকরা বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে সে ব্যাপারে প্রকৃত বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে।

৭. ইসলামী জীবন যাপনের জন্য আল্লাহ ও আখিরাতের জবাবদিহির চেতনা সম্পন্ন, সুশৃঙ্খল সংযমী মানুষ দরকার। সেই রকম সৎ-সুন্দর পবিত্র চরিত্রের মানুষ গড়ার জন্য আল-কুরআনে ইবাদত-বন্দেগীর নির্দেশনা এবং তার মৌলিক বিধানগুলি দেয়া হয়েছে।

৮. সুন্দর সমাজের জন্য দরকার সব মানুষের উপযোগী ভারসাম্যপূর্ণ আইন-বিধান। কুরআন মজীদে ইসলামী সমাজের মৌলিক আইন ও বিধি-নিষেধগুলি দেয়া হয়েছে।

৯. শুধু কতকগুলি আইন লিখে নিলেই সমাজ-শুদ্ধ-সুন্দর হয়ে যায় না। আমেরিকার উদাহরণ দেখুন, ১৯১৯ সালে আইন করে সেখানে মদ পান নিষেধ করা হয়। যা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হয় সেসময় আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়। ৩ শত জনকে আইন লঙ্ঘনের জন্য দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু তারপরও ১৪ বছর পর ১৯৩৩ সালে জনদাবির মুখে এ জনকল্যাণমূলক আইন আমেরিকার সরকারকে বাতিল করতে হয়। এজন্য সমাজ সংস্কারে কুরআনে শুধু বিধানই দেয়নি, বিধান বাস্তবায়নের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও দেয়া হয়েছে। যেমন- বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সংস্কার, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন যেমন- দুনিয়ার তাৎক্ষণিক নগদ লাভ-ক্ষতির স্থলে চূড়ান্ত ও স্থায়ী আখিরাতের লাভকে গুরুত্ব প্রদান; জীবনধারায় পরিবর্তন যেমন- ইবাদত-বন্দেগী ও তার সময়সূচী; পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে সংস্কার ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ- মদ হারাম করা হয়েছে ৩ দফায় প্রায় ৬ বছরে। ফলশ্রুতিতে মদ হারামের চূড়ান্ত বিধান আসার পর মুসলমানরা তা প্রত্যাখ্যান করেনি, বরং তারা সব রকম মদ ও মাদক ত্যাগ করেছে। অদ্যবধি গোটা বিশ্বে মুসলমানরাই জাতি হিসেবে সবচেয়ে কম মাদক ব্যবহারকারী জাতি।

১০. আন্তঃধর্মীয়-আন্তঃসম্প্রদায় ও আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্ক বিষয়ে কুরআন মজীদে ব্যাপক হেদায়াত এসেছে। ইসলাম সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রত্যাখ্যান করে। আল-কুরআনে অন্য ধর্মের দেব-দেবীদের গালি-গালাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে (আনআম ৬: ১০৮)। জাতিগত শত্রুতা ও বিদ্বেষ পরিহার করে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করতে বলা হয়েছে (মায়িদা ৫: ৮)।

এভাবে আল-কুরআনে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির সব ক্ষেত্রে ও স্তরের জন্য বিধান ও বাস্তবায়নের মূলনীতিগুলি দেয়া হয়েছে।

আল-কুরআন গতানুগতিক ধর্মীয় কিতাব নয়। কুরআন পাঠককে বিষয়টি মনে রাখতে হবে। সিরিয়াস পাঠককে কুরআনই বারবার তা ধরিয়ে দিবে। ভাল হয়- পাঠক বিষয়গুলি শিক্ষার্থীর মতো দাগিয়ে দাগিয়ে চিহ্নিত করে পাঠ করলে।

আগামী কিস্তিতে কুরআন অধ্যয়নের বাকী বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হবে ইনশাল্লাহ।

রমজান মুমিনের শক্তির উৎস

রসুল (সা.) বলেছেন, শক্তিমান বীর পুরুষ সে নয় যে মল্লযুদ্ধে অন্যকে হারিয়ে দিতে পারে, বরং সেই প্রকৃত বীর-শক্তিমান যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বুখারী)

রোজা মুমিনকে সংযমী হতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়। রসুল (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন যে, রোজা অবস্থায় কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাইলে তাকে বলে দাও- আমি রোজাদার। আমি রোজাদার।

সাধারণভাবে ধারণা হতে পারে, না খেয়ে থাকার ফলে রোজায় মানুষের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় মন খিটমিটে ও মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে রোজার লক্ষ্য হল মানুষকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করা। নফসের চাহিদা ও কামনা-বাসনার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। রাগের উৎপত্তি সাধারণত অহমবোধ থেকে, আমিত্ব থেকে। আমিত্ব বর্জন করে লিল্লাহিয়াত তথা পরিপূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির নিকট আত্মসমর্পণই রোজার মূল শিক্ষা।

যা দেখি তা-ই চাই। যা পাই তা-ই খাই- এ মানসিকতার উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য রোজা। আল্লাহর নির্দেশে যে মানুষটা হালাল জিনিস আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের জন্য বর্জন করে পুরো একটি মাস, সে কিভাবে বছরের বাকী সময় আল্লাহর হারাম কোনো জিনিস গ্রহণ করতে পারে? তাই রোজা আসে মুমিনকে শক্তিশালী করতে। ভিতরের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে, আল্লাহর প্রেম ও তাঁর আনুগত্যের অনুভূতিকে শক্তিশালী করতে, মানবতাবোধকে জোরদার করতে।

রসুল (সা.)-এর মক্কী জীবনে কঠিন নির্যাতনের মুখেও কোনো রকম পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বা প্রতিরোধ করতে আল্লাহ পাক নিষেধ করেছিলেন। মদীনায় হিযরতের পর তার অনুমোদন দেয়া হল। দ্বিতীয় হিজরিতে রোজা ফরয করা হয়। সে বছরই ১৭ই রমজান সংঘটিত হল বদর যুদ্ধ। ৩১৩ জন প্রায় অপ্রস্তুত মানুষ হাজার লোকের সুসজ্জিত হামলাকারীদের মিসমার করে দিল। রমজানের শক্তি আমরা আবার দেখি মক্কা বিজয়ের ঘটনায়। তাও সংঘটিত হয় ২০ই রমজান। মুসলিম ইতিহাসের অনেক বড় বড় ঘটনার সাথে রমজানের সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। রক্তপিপাসু তাতারীদের পরাজয় শুরু হয় বিখ্যাত আইনে জালুতের যুদ্ধে। তাও সংঘটিত হয় ৬৫৮ হিজরীর ২৫ রমজান।

রোজা মুমিনের মধ্যে তৈরি করে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার শক্তি। সৃষ্টি করে সংযম ও নিয়ন্ত্রণ- বিরোধিতার মুখে, উস্কানির মুখে। মুমিনকে রোজা রাগ-গোস্বা নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী করে তোলে। চিৎকার করে কথা বললে বা হট্টগোল করলেই শক্তিমত্তার প্রকাশ হয় না। মুমিনের শক্তির মূল উৎস আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক- ‘তাওয়াল্লুক বিল্লাহ’। রমজানে দিনের রোজা ও রাতের ইবাদাতের মাধ্যমে সেই শক্তির উৎসকে মজবুত করে। বর্তমানে সেই উপলব্ধি ও আমলকে জোরদার করা জরুরী হয়ে পড়েছে অনেকগুণ বেশি। মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ-বিভাজন, ইসলামী নেতৃত্বের পারস্পারিক বিদ্বেষ-বিরোধিতা, জনগণের ভোগবাদী ও আত্মকেন্দ্রীক চেতনা আমাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। রোজার মূল শিক্ষার দিকে আমাদের ফিরে যাওয়া দরকার। বদরের ৩১৩ সংখ্যার দিকে নয়। বদরের মানুষগুলোর গুণ, বৈশিষ্ট্য, যোগ্যতা ও তাকওয়ার জরুরত আমাদের।