advertisement
আপনি দেখছেন

রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এর শেষ দশকে পদার্পণ করেছি আমরা। “লাইলাতুল কদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর।” “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সুরা কদর)

al quaran study ramadan

হাজার মাস একজন সাধারণ মানুষের গোটা জীবনের সমান। তাতে অবিরাম ইবাদতে লিপ্ত থাকার-সওয়াব অর্জনের সময় এসে গেছে। কি করবো এই সময়? হাদীসে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন রাত জাগতেন, পরিবারের সবাইকে জাগাতেন, কোমড় বেঁধে ইবাদতে রত হতেন। রাতগুলো জীবন্ত করে তুলতেন, আমরাও তা-ই করবো সাধ্যমতো ইনশাল্লাহ। সালাফ বা প্রাথমিক জামানার সম্মানিত পূর্বসূরীরা এই রাতগুলোতে সলাত, যিকির, দোয়া, কুরআন অধ্যয়ন, সাদাকা প্রভৃতি নেক কাজে নিয়োজিত থাকতেন। আমরাও সাধ্যমতো সেগুলো আদায় করি।

কুরআন অধ্যয়নের সহায়িকা হিসেবে আমাদের এ যাবত আলোচনার আজ শেষ পর্ব। আশা করি, আল্লাহ চাহেন তো এতে পাঠকরা কুরআন অধ্যয়নে আরো আগ্রহী হবেন এবং অধ্যয়নের সহযোগী কিছু না কিছু উপকার তারা এতে পাবেন। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে পুনরায় বাকী সময় বেশি বেশি কুরআন চর্চার তাগিদ রইলো। বরং কুরআন চর্চাকে আমরা সবাই আমাদের প্রাত্যহিক জরুরী কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেই। দোয়া কবুলের এ সময় নিজের ও পরিবারের জন্য এবং জাতির সকলের ঈমান, ইলম, হেদায়াত ও কল্যাণকর নেক হায়াতের জন্য সবাই দোয়া করি। বিশ্ব মানবের হেদায়াত ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করি। করোনা হতে মুক্তি ও সুন্দর-প্রাণবন্ত-পবিত্র জীবনের জন্য দোয়া করি। এই লেখক এবং এই পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সকলকে দোয়ায় শরীক রাখার জন্যও সবিনয় অনুরোধ রইলো।

এক নজরে কুরআন অধ্যয়নের জরুরী কিছু পয়েন্ট

১. নিয়তের বিশুদ্ধতা: কেন কুরআন পড়ছেন শুরুতেই ঠিক করে নিন। অন্যের সাথে তর্ক করার জন্য বা পাণ্ডিত্য জাহির করার জন্য হলে সংশোধন জরুরী। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করুন কেন আপনি এ প্রচেষ্টা করছেন। নিজের ঈমান, আমল ও বুঝ সংশোধন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এটাই কুরআন চর্চার মূল লক্ষ্য হতে হবে। নইলে তা যথাযথ হবে না। কিয়ামতের দিন সবার আগে যে তিন শ্রেণীর মানুষের বিচার করে তাদের জাহান্নামে ফেলা হবে, তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হলো লোক দেখানো আলেম। মানুষের সাথে বিতর্ক, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও আলিম হিসেবে পরিচিতির জন্য সে ইলম তলব করেছিল।

২. হঠাৎ উৎসাহের ব্যাপারে সাবধান: একটা কথা আছে- ‘ফস করিয়া জ্বলিয়া উঠিয়া দপ করিয়া নিভিয়া গেল।’ হঠাৎ একসঙ্গে বেশি পাঠের টার্গেট নিবেন না। আমার এক সাথীকে দেখতাম, প্রতি বছর টার্গেট নিত ওই বছর কুরআন তাফসীরসহ খতম করার; আরো কিছু দ্বীনি কিতাব-পত্র শেষ করার। কিন্তু শেষ অবধি কোনোটাই হতো না। এটা সম্ভব না, উচিতও না। মনে রাখা যায় না। আত্মম্ভরিতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।

বরং ছোট ছোট টার্গেট নিন। Aim small miss small. ছোট ছোট টার্গেট নিলে কয়েকটা হয়তো ছুটে যাবে। কিন্তু আবার কয়েকটা সম্পন্নও হবে। এতে উৎসাহ নষ্ট হবে না। নতুন করে আবার একই রকম টার্গেট নিন।

আরেক ভাইকে দেখতাম- প্রতি রমজানে অর্থসহ কুরআন পড়ে নিতেন। কিন্তু তারপর কি পড়লেন কিছুই বলতে পারতেন না। তার স্বভাবগত দুর্বলতাগুলি রয়েই যেত। পরিবর্তন দেখা যেত কমই। আস্তে আস্তে সময় নিয়ে পাঠের উপর গুরুত্ব দিন। রমজানে বুঝে-শুনে খতম দেয়া উত্তম ও জরুরী। তবে একটু সময় নিয়ে পড়া ভাল। গড়গড় করে পড়ে গেলাম হরহর করে ভুলে গেলাম এতে লাভ খুব কম। তবে বারবার পড়তে থাকলে আস্তে আস্তে এ সমস্যা কেটে আসবে ইনশাল্লাহ। অর্থসহ পড়ার একটা টার্গেট, আর তাফসীর পড়ার ভিন্ন টার্গেট থাকলে ভাল।

আজকাল সুন্দর সুন্দর কিছু কার্যকর পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। যেমন- Three P নিয়ম:

১. Planing (পরিকল্পনা গ্রহণ): বলা হয়, You fail to plan, you plan to fail. অর্থাৎ আপনি পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থ হলেন মানে ব্যর্থ হওয়ার জন্য পরিকল্পনা করলেন। তাই একটা পরিকল্পনা থাকা দরকার। পরিকল্পনাটা ব্যক্তিগত নোট বইতে লিখে নিলে আরো ভাল হয়।

২. Preparing (প্রস্তুতি গ্রহণ): অধ্যয়নের জন্য ব্যক্তিগত কুরআনের কপি, মার্কার, সময় নির্ধারণ ইত্যাদি এর মধ্যে পড়বে।

৩. Practicing (অনুশীলন): নিয়মিত কাজগুলি করা, ধরে রাখা, আস্তে আস্তে মূল লক্ষ্যের দিকে আগানো এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

টার্গেট করার ক্ষেত্রে SMART goals পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে।

S- Specific- সুনির্দিষ্ট- যতটা সম্ভব সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিন। যেমন- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ (উদাহরণস্বরূপ- এক রুকু) অর্থ ও তাফসীরসহ নিয়মিত কুরআন পড়বো। এই বছর সুরা বাকারা তাফসীরসহ শেষ করবো ইত্যাদি।

M – Measurable- পরিমাপযোগ্য- ফলাফল পরিমাপ করা যায় এমন লক্ষ্য ঠিক করুন। ‘এ বছর অনেক পড়বো’- এ ধরনের না। যেমন- প্রতি মাসে সুরা বাকারার নির্দিষ্ট অংশ পড়বো। মাস শেষে মিলিয়ে দেখুন তা কতটুকু হলো। প্রয়োজনে টার্গেট সংশোধন করুন, না হয় পরবর্তী মাসগুলোতে একটু বাড়তি পড়ে টার্গেট পূরণ করে নিন।

A –Attainable- অর্জনযোগ্য- অর্জন করা যায়, বাস্তবায়ন করা সম্ভব এমন টার্গেট নিন। ওই যে ভাইয়ের কথা বললাম তার মতো না।

R – Relevant- প্রাসঙ্গিক- কেন এ প্রচেষ্টা? যা করছেন তা যেন আপনার লক্ষ্যের সাথে প্রাসঙ্গিক হয়, সহায়ক হয়; বাস্তবসম্মত হয়, যথাযথ রিসোর্স থাকে এবং ফলাফল কেন্দ্রীক হয়।

T – Time bound- সময় নির্ধারিত- কোনটা কতটুকু সময়ের মধ্যে করবেন তার একটা সময় নির্ধারিত থাকলে এবং সে ব্যাপারে সিরিয়াস হলে আপনার কুরআন অধ্যয়ন দ্রুত আগাবে ইনশাল্লাহ।

কুরআনকে পারা, মঞ্জিল ইত্যাদিতে ভাগ করার মধ্যে এ রকম একটা হিকমত পাই আমরা।

৩০ পারা- যেন ৩০ দিনে বা এক মাসে খতম করা যায়।

৭ মঞ্জিল- যেন ৭ দিনে খতম করার টার্গেট পূরণ করা যায়।

প্রত্যেকে নিজের উপযোগী করে সিদ্ধান্ত নিবেন। একটা কথা- অনেকে কুরআন পড়ার আদবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বলেছেন। একটা আদব হলো খতম হয়ে গেলে পুনরায় শুরু করা। আবার পড়া, বারবার পড়া। কারণ কুরআন শব্দের অর্থই যে তা-ই: ‘বারবার পঠিত গ্রন্থ’।

৩. গুনাহর কাজ ও অর্থহীন কাজ বর্জন: ইমাম শাফেয়ী তার উস্তাদের কাছে অনুযোগ করেন যে, তিনি পড়ছেন কিন্তু মনে রাখতে পারছেন না। উস্তাদ নসীহত করলেন, শাফেয়ী পাপ কাজ ছেড়ে দাও, এই ইলম হল আল্লাহর নূর, কোনো গুনাহগার তা আয়ত্ব করতে পারে না।

বড় শক্ত কথা। বিশেষত: আমাদের যামানায়। ইমাম শাফেয়ী, চিন্তা করুন। তাকে দিয়ে কি রকম গুনাহর কাজ হতে পারে? তার মতো মানুষ তো খুব কমই জন্মেছে। আর আমরা সারা দিন Tv. সিরিয়াল, নেট, বেগানা নারী, আরো কতকিছু যা উচ্চারণ করলাম না। সবচেয়ে বেশি বোধহয় সময় নষ্ট করা। মা-বোনেরা Tv-তে সিরিয়াল দেখাকে যতটা সিরিয়াসলি নেন, তার সিকি ভাগ যদি দ্বীন, সংসার ও সন্তানদের জন্য নিতেন তাহলে বোধ করি আজ আমাদের এই অবস্থা হতো না। সহসা সবকিছু পরিবর্তন হয়তো সম্ভব নয়। তা কেউ বলতেও পারে না, ইসলামও আমাদের সেটা বলে না। তবে নিজেদের জন্য ক্ষতিকর কাজগুলি সবাই জানি। হ্যাঁ, গুনাহর কাজ মানেই নিজের জন্য ক্ষতিকর কাজ। এজন্যই আল্লাহ বারবার গুনাহকে ‘বান্দার নিজের উপর জুলুম’ বলে সম্বোধন করেছেন। আস্তে আস্তে সেগুলোর লাগাম টেনে ধরি।

৪. দোয়া: কুরআন অধ্যয়নে দোয়া খুবই জরুরী। ইলম, বুঝ, হিকমত, তাওফীক, মেধা, হিম্মত, ইচ্ছাশক্তি সবই আল্লাহর দান। তাঁর কাছেই দোয়া করি। তিনি নিজেই তাঁর নবীকে কুরআন পাঠের সময় দোয়া করতে বলেছেন- “রব্বি যিদনী ইলমা” “হে আমার রব, আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করুন, ইলম বাড়িয়ে দিন।” (ত্বহা ২০: ১১৪)

মুসা (আ.) দোয়া করেছেন- “হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আর আমার কাজকর্ম সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।" (ত্বহা ২০: ২৫-২৮)

ইব্রাহীম (আ.) বলেছেন,

"রব্বি হাবলী হুকমাও ওয়া আলহিক্বনী বিস সোলেহীন।" "হে আমার রব! আমাকে হিকমত (তথা গভীর জ্ঞান) দান করুন এবং সৎকর্ম পরায়নদের শামিল করুন।” (শু'আরা ২৬: ৮৩)

নবী (সা.) দোয়া করেছেন:

"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ই'লমান নাফিআ’, ওয়া রিযক্বান তাইয়্যেবা, ওয়া আমালা মুতাক্বাব্বালা।"

"হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে চাচ্ছি উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুল হয় এমন আমল।"

আপনিও দোয়া করুন, মন খুলে, প্রাণ খুলে। মসনুন দোয়াগুলি পড়ুন, নিজের ভাষায় বলুন- চোখের পানি ফেলে তাঁর কাছে ইলম ও হেদায়াতের জন্য। আপনার এই অধম ভাইয়ের জন্য বলবেন মেহেরবানী করে।

৫. কুরআনকে আপনার সাথে কথা বলতে দিন: নামাযে বান্দা তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে।(বুখারী) আর যখন বান্দা কুরআন পড়ে তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সাথে কথা বলেন। কুরআনকে আপনার সাথে কথা বলতে দিন। চিন্তা করুন যে বিষয়ে বলা হলো তা নিয়ে।

৬. কুরআনকে প্রশ্ন করুন: প্রশ্ন করুন কেন সে এ কথা বলছে। প্রশ্ন করুন আবরাহাকে আল্লাহ পাক ধ্বংস করলেন (সূরা ফীল) এটা জেনে আপনার কি কি লাভ? শুধুই কি-

>একটি ঐতিহাসিক তথ্য

>আল্লাহর কুদরতের মহানিশানীগুলোর একটি

>নবী (সা.)-এর জন্মের শুভ পূর্বাভাস

>নাকি বিশ্বের সব স্বৈরাচারদের জন্য হুঁশিয়ারী আর মুমিনদের জন্য শুভ সংবাদ।

দেখবেন এসবই এর মধ্যে আছে। আরো আছে অধিক।

প্রশ্ন করুন “আয়াতুল কুরসী” কেন কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত-

>রাতে ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য যাতে শয়তান রাতে বিরক্ত না করে

>ফরয নামাযের পর পাঠের জন্য যাতে মুমিন নিশ্চিন্তে জান্নাতী হতে পারে

>বাকি কালেমা তাইয়্যেবা ও তাওহীদের বিস্তৃত ব্যাখ্যা এবং সত্যিকার ক্ষমতার মালিক যে একমাত্র আল্লাহ তার প্রমাণ এবং গদি সমস্যার সমাধান।

দেখবেন এসবই বরং আরো অনেক ইলমের আধার এই আয়াত। প্রশ্ন করুন, উত্তর খুঁজুন। আল্লাহ জীবন সমস্যার সব সমাধান এই কুরআনে রেখে দিয়েছেন।(সুরা ফুরকান ২৫: ৩৩)

৭. মুখস্থ করুন: নামাযের জন্য তো কুরআনের কিছু আয়াত মুখস্থ করতেই হবে। এর পরিমাণ অল্প অল্প করে হলেও বাড়াতে চেষ্টা করুন। আপনার বয়স বেশি বা সময় কম? ঘাবরাবেন না। আমার এক সাথী ভাই ছিলেন। তিনি প্রায় ৭৫ বছর বয়সে তেলাওয়াত সহীহ করে বনানী বাজার মসজিদে দারস দিয়েছেন। বয়স কোনো কিছুকেই আটকাতে পারে না। সময়ের অভাব? এগুলো অনেক সময়ই শয়তানের ওয়াসওয়াসা। যতটুকু সময় পান ততটুকুতেই চেষ্টা করুন। বার বার করুন। দোয়া করুন রব্বুল আলামীনের কাছে। তিনি সহজ করে দিবেন-

"হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করে দিয়েছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর যখন আপনি ইচ্ছা করেন, তখন কঠিনকেও সহজ করে দেন।" (সহীহ ইবনে হিব্বান), (হিসনুল মুসলিম ৪৩ নং দোয়া)।

উদাহরণস্বরূপ একটা টার্গেট করুন, কুরআনের দোয়াগুলি যতদূর সম্ভব শিখে ফেলবেন। যেমন-

# বাবা আদমের দোয়া: (আরাফ ৭: ২৩)

# সবচেয়ে সামগ্রিক দোয়া: (বাকারা ২: ২০১)

# ঈমান সংরক্ষণের জন্য দোয়া: (আলে-ইমরান ৩: ৮)

# নেককার জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য দোয়া: (আলে-ইমরান ৩: ৩৮, ফুরকান ২৫: ৭৪)

# ঈমানী নূরের পূর্ণতার জন্য দোয়া: (তাহরীম ৬৬: ৮)

# জান্নাতে আল্লাহর নিকটবর্তী থাকার দোয়া: (তাহরীম ৬৬: ১১)

# গুনাহ মাফি ও দ্বীনের বিজয়ের জন্য দোয়া: (বাকারা ২: ২৮৬)

এ রকম অনেক দোয়া আছে পাক কালামে। এর অনকগুলিই আপনি হয়তো পারেন। আবার কোনো কোনোটা এখনো শেখা বাকী। আস্তে আস্তে শিখে ফেলুন। নামাযে পাঠ করুন। দোয়ায় ব্যবহার করুন। কার্যকারিতার একটা বিষয় হলো এগুলো স্বয়ং আমাদের মালিক আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।

আরেকটা বিষয়, কয়েকটা দোয়া শিখে আমল শুরু করলে দেখবেন কুরআন-হাদীসের বলা দোয়াগুলিও সহজ হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য আয়াত মুখস্থ করাও সহজ হয়ে যাবে। আল্লাহ পাক সহজ করে দিবেন।

৮. কুরআনের ভাষা শিক্ষা: কুরআনের মজা, নামাযে খুশুখুযু ও মনোযোগের জন্য কুরআনের ভাষা শিক্ষাটা খুবই উপকারী। কত কিছুই তো শিখলাম আমরা জীবনে। একটু চেষ্টা করলে কুরআনের ভাষাটাও কুরআন বুঝার উপযোগী পরিমাণ শিখে ফেলতে পারবো ইনশাল্লাহ, ঘাপরাবেন না, চাপ নিবেন না। কুরআন বুঝা ও মানার জন্য ভাষাটা অপরিহার্য নয়, সহায়ক। অনেক সহায়ক। খুব ভালো ভালো প্রোগ্রাম আছে। একটি প্রোগ্রাম এমন- কুরআনের ১২৫টি শব্দের অর্থ শিখে ফেললে কুরআন মজীদের প্রায় ৫০ ভাগের বেশির অর্থ শিখে ফেলবেন। এ শব্দগুলো কালামে পাকে প্রায় ৪০ হাজার বার এসেছে। সময় করতে পারলে সহজ একটা প্রোগ্রামে ঢুকে পড়ুন। উচ্চ শিক্ষিত ভাই ও বোনেরা সহজেই আগাতে পারবেন। ইঞ্জিনিয়ারদের দেখেছি খুব সহজেই বিষয়টি আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে। তরুণ-যুবকরা এদিকে উৎসাহ ও আগ্রহ নিন। চেষ্টা করুন। আল্লাহ পাক বরকত দিবেন ইনশাআল্লাহ।

৯. নিজস্ব দারস চালু: নিজে একটা দারস দেয়ার প্রোগ্রাম করে নিন। পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, বন্ধুদের নিয়ে- যেখানে সম্ভব। যা শিখছেন তা আলোচনা করুন। খুব ঘটা করে দরকার নেই। নিয়মিত বৈঠক করতে পারলে খুবই ভাল। অনিয়মিত হলেও উপকার পাবেন। যা শিখছেন তা অন্যদের বলার মাধ্যমে দাওয়াতের সওয়াব পাবেন, যা এক তুলনাহীন ইবাদত। আপনার দাওয়াতে একজন ব্যক্তির জীবন ঘুরে গেল। তারপর তিনি যত আমল করবেন তার একটা পার্সেন্ট আপনিও পেতে থাকবেন। তিনিও আবার যতজনকে দাওয়াত দিবেন তাদের আমলের সওয়াবের পার্সেন্টও আপনি পেতে থাকবেন। সুবানাল্লাহ!

আর দ্বিতীয় লাভ যেটা, সেটা আরো বড়। তা হলো- ইলম আপনার গভীরে বসে যাবে এবং আপনার আমলকে আরো সুন্দর ও শুদ্ধ করার জন্য সহায়ক হবে। আসুন, এই রমজান হতেই পাকাপোক্ত নিয়ত করে নেই, কুরআনকে জীবনের সাথী বানিয়ে নেই। কুরআনের সাথীদের সাথে মিলে কুরআন শিখি, জানি ও মানি। সিদ্ধান্ত নেই, কুরআনের অধ্যয়নকে জীবনের নিয়মিত আমল হিসেবে গ্রহণ করবো। কুরআনী জিন্দেগী যাপন করবো। কুরআন মানা ও বাস্তবায়নকে জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করবো। মহান আল্লাহতা’য়ালা আমাকে ও আপনাকে এর জন্য কবুল করে নিন। আমাদের প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন, আমীন।