advertisement
আপনি দেখছেন

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চই আমি ইহা (আল-কুরআন) নাযিল করেছি মহিমান্বিত রজনীতে (লাইলাতুল কদরে)। আর মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে তুমি কী জান? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সেই রাত্রে ফিরিস্তাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকের কাছে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রাত্রি ভোর হওয়া পর্যন্ত।” (কদর ৯৭ : ১-৫)

laylatul qadr 2021

রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন: "যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে লাইলাতুল কদরে সলাত আদায় করে, তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।" (বুখারী)

কুরআন নাযিলের রাত লাইলাতুল কদর: আল-কুরআন ও হাদীসে রসুল (সা.)-এ মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদরের যে মর্তবা ও ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে তার মূল কারণ এই রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। কারো কারো মতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে বলে কুরআন নাযিল শুরু হওয়া বুঝানো হয়েছে। আবার কারো কারো মতে এই রাত্রে গোটা কুরআন দুনিয়ার আসমানে নাযিল করা হয়েছে। যা পরে আল্লাহর হুকুমে অবস্থা ও প্রেক্ষিত অনুযায়ী জিব্রীল (আ.) রসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট নিয়ে এসেছেন। প্রকৃত ব্যাপার আল্লাহতা’লাই ভালো জানেন। তবে এটা যে লাইলাতুল কদরে সে বিষয়ে যেমন সন্দেহ নেই। তেমনি লাইলাতুল কদর যে রমজান মাসেই তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ বলেন:

"রমজান মাস। এ মাসেই নাযিল হয়েছে আল-কুরআন। যাতে রয়েছে মানব জাতির জন্য হেদায়াত, হেদায়াতের দলিল ও ফুরকান।" (বাকারা ২: ১৮৫)

এই রাতকেই সুরা দুখানে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’:

"হা-মীম। কসম সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি তো ইহা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে; আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা করা হয়, তোমার রবের আদেশক্রমে, আমি তো রসুল প্রেরণ করে থাকি।" (দুখান ৪৪: ১-৪)

মহিমান্বিত রজনী, ভাগ্য রজনী:

"Night of Decree, Night of Power, Night of Destiny – এই লাইলাতুল কদরেরই বিভিন্ন নাম। আর এ মহিমান্বিত রাত যে রমজান মাসেই।

লাইলাতুল কদর কোন রাত:

রসুল (সা.) বলেন,

"লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর রমজানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে।" (বুখারী ২০১৭)

রসুল (সা.)-কে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছিল। কিন্তু দুই ব্যক্তির ঝগড়া তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। ঝগড়া বড়ই খারাপ জিনিস। অথচ কমার নাম নেই আমাদের মধ্যে, করেই যাচ্ছি। কে কত সামান্য বিষয়ে ঝগড়া করতে পারি, বিতর্ক করতে পারি, অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারি তার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। ঝগড়া চলছে ক্ষমতা নিয়ে, সম্পদ নিয়ে; জমি নিয়ে, নারী নিয়ে, জ্ঞান নিয়ে, নামাযে হাত বাধা নিয়ে, হাত তোলা নিয়ে, তারাবী কয় রাকাত তা নিয়ে, কার শায়েখ কত বড় তা নিয়ে।

নবী বললেন, রমজান মাসে ঝগড়া না করতে। ঝগড়াটে লোক গায়ে পড়ে বিবাদ করতে এলে তুমি জড়ি পড়ো না। জানিয়ে দিয়ো তুমি রোজাদার। তার প্ররোচনায় তুমি নেই। আমরা যেন ছাড়তেই পারছি না। আর সোশ্যাল মিডিয়া একটা ঝগড়াটেদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রমজান চলে যাচ্ছে। এখন এসব রাখি। অভ্যাস পাল্টাই। মুমিনদের মধ্যে সদ্ভাব গড়ে তুলি। রোজার শিক্ষা অনুযায়ী আমল করি।

কথা হচ্ছিল লাইলাতুল কদর কবে তা নিয়ে। রসুলুল্লাহকে (সা.) আল্লাহ ভুলিয়ে দিলেন আমাদের কল্যাণের জন্যই। একদিনের বদলে দশ দিন পেলাম আমরা। প্রতি রাতই দোয়া কবুলের সুযোগ নিয়ে আসছে। শেষ রাত সারা বছরই দোয়া কবুলের সময়। তার উপর রমজান মাসের শেষ ১০ দিন। ১০ দিন এক নাগাড়ে ইবাদত করায় শরীর-মন রাত্রির ইবাদতে অভ্যস্ত হবে তারও সুযোগ তৈরি হলো। অন্তত: যারা সারা বছর গাফেল থাকেন তাদের জন্য তো এই দশটি রাত সেই সুযোগ নিয়ে এল। কল্যাণই , কল্যাণ।

আল্লাহ বারিতা'লার সমস্ত সিদ্ধান্তই তাঁর বান্দাদের জন্য কল্যাণকর। এরপরও যারা আরো ব্যস্ত বা দুর্বল তাদের জন্য বেজোড় রাত্রির কথা জানালেন রসুল (সা.)। যারা আরো অক্ষম তাদের জন্য শেষ ৭ রাত, ৫ রাত, ৩ রাত। এমনকি কোনো কোনো বর্ণনায় ২৭শে রাতের কোথাও দেখা যায়। এসবই কেউ যেন মাহরুম বা বঞ্চিত না হয় তার ব্যবস্থা। আল্লাহর মহিমান্বিত দরবারে সবার জন্যই স্থান আছে, ব্যবস্থা আছে। অনেকই অসুস্থ আছেন। অনকেই আছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যা অবহেলা করা কঠিন গুনাহ। যেমন- ডাক্তাররা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আচ্ছা, আইন শৃঙ্খলা বাহনীর সদস্য ভাই-বোনদের তো অনেক দুর্নাম। তাদের কি নাজাত প্রয়োজন নেই? নেই তার কোনো সম্ভাবনা? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাথার মুকুট হতে পারেন আবু হুরাইরা (রা.), যিনি খিলাফতের সময় বাহরাইনে পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চিন্তা করে দেখুন শ্রেষ্ঠ হাদীস বর্ণনাকারীদের একজন পুলিশ বাহিনীর প্রধান! দুদিক থেকেই বিষয়টি ব্যতিক্রমী। আজকের পুলিশ বাহিনীতে এ রকম ব্যক্তিত্বের কথা যেন চিন্তাই করতে পারছি না। অন্যদিকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজে এ রকম কোনো দায়িত্বপূর্ণ কাজ করবেন তা এক ধরনের আকাশ কুসুম কল্পনায় পরিণত হয়েছে। কল্পনা করতে তো আর দোষ নেই। কল্পনা থেকে চিন্তা আর চিন্তা থেকেই কর্মের জন্ম হয়। আর এমন কথা যা এক সময় সত্য ছিল, যা আবারো সত্য হবে- তা ভাবতে, আশা করতে দোষ কোথায়। এক সময় মুসলিম সেনা কমান্ডার বাছাই করা হতো শ্রেষ্ঠ কুরআন বিশারদদের মধ্য হতে। আমাদের তাহাজ্জুদ গুজার বাহিনী, ক্রুসেডার, তাতারী সবাইকে বিশ্বের তাবৎ প্রান্তে দাবড়িয়ে বেরিয়েছেন। আমাদের কূটনীতিবিদরা রোম- পারস্যের বাদশাহদের ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছেন। মাথা নত করে আসেননি। সেই দিনের প্রত্যাশায় নির্ঘুম আজ বহু আল্লাহ ওলামা। তাদের দোয়া, চোখের পানি আর আকাঙ্ক্ষা তো রব্বে কারীম বৃথা যেতে দিবেন না।

পুলিশ ভাই-বোনদের কথা হচ্ছিল। যাদের সবাই ভয় পায়, কিন্তু পিছনে পিছনে গাল-মন্দ করে, নানা কথা বলে। তাদের দৃষ্টান্ত নেয়া উচিৎ তাবেয়ী মালেক ইবনে দিনার থেকে। যিনি এই উপমহাদেশে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসা প্রাথমিক দায়ীদের একজন। প্রথম জীবনে ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, ছিলেন মদখোর, মাতাল। তারপর এক ঘটনায় তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল। তিনি পরিণত হলেন একজন নামকরা ইসলামিক স্কলারে, আল্লাহর পথে একজন দায়ী হিসেবে সুদূর বসরা থেকে ভারতের কেরালায় দাওয়াত নিয়ে এলেন। এক অভিনব ঘটনা, চিত্তাকর্ষক ও মর্মস্পশী। যে বা যারা পুলিশ বাহিনীর মানুষদের সম্পর্কে কেবলই নেতিবাচক ধারণা রাখেন তাদের জন্য শিক্ষণীয়। যে বা যারা নিজেদের গুনাহর বোঝায় হতাশ বোধ করেন তাদের জন্য পথ প্রদর্শক। সবারই নাজাত লাভের অধিকার আছে, সুযোগ আছে। নেট ব্যবহারকারীরা সহজেই নেটে এই হৃদয় কাড়া কাহিনী পেয়ে যাবেন। আজ এ বিষয়ে আর না। হয়তো অন্য একদিন….।

লাইলাতুল কদর সবার জন্য নাজাতের আর কল্যাণের বার্তা নিয়ে উপস্থিত। দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই। সুযোগ আছে সবার জন্য, অবারিত। চাইলেই পাব, সবাই পাব, কল্যাণকার সব কিছুই পাব। এ দরবার রাজা-ফকির জ্ঞানী-মুর্খ, শক্তিমান-দুর্বল কাউকেই নিরাশ করে না। কেবল চাইলেই হবে।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব

একটা হিসাব দেখেছিলাম এক জায়গায়। রেফারেন্স মনে নেই। আগেই মাফ চেয়ে নিচ্ছি। উপলব্ধির জন্য উল্লেখ করছি মাত্র।

আল্লাহ তা’য়ালা বললেন, ‘লাইলাতুল কদর- হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ হাজার মাসের দুনিয়ারি হিসাব যদি করি আমরা-

>এক রাত সমান দাঁড়ায়- ৮৩.৩৩ চান্দ্র বছর/৮০.৭৭ সৌর বছর। গড়পরতা একজন মানুষের একটা হায়াতের সমান।

>গড়পরতা রাত যদি ১২ ঘণ্টা ধরা হয়, তাহলে এই এক রাতের ১২ ঘণ্টা = ৮৩.৩৩ চান্দ্র বছর/৮০.৭৭ সৌর বছর।

>তাহলে এই রাতে

১ ঘণ্টা = ২৪৫৮ দিন = ৬.৯৪ চান্দ্র বছর/৬.৭৩ সৌর বছর- অর্থাৎ প্রায় ৭ বছর।

>তাহলে এই রাতে

১ মিনিট = প্রায় ৪১ দিন।

১ সেকেন্ড = ১৬.৪ ঘণ্টা।

ধার করা হিসাব। কোনো গড়মিল হলে দোষ নিবেন না। কেবল একটা ধারণা দেয়ার জন্যই এ হিসাব। নইলে আল্লাহ পাক তো বলেছেন- ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ তা নির্ভর করবে- আমার আপনার নিয়ত ও প্রচেষ্টার উপর। মোদ্দা কথা হল এই দশটা রাতের প্রতিটি মুহূর্ত মহামূল্যবান।

আর হ্যাঁ, রাত শুরু হয় সূর্যাস্ত থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত হলেই। অতএব, তখন থেকেই লাইলাতুল কদর শুরু।

লাইলাতুল কদরে কি করবো?

উত্তর- রসুলুল্লাহ (সা.) যা করতেন, সাহাবী (রা.) যা করতেন, সালাফরা তথা পূর্ববর্তী যামানার আদর্শ ব্যক্তিরা যা করতেন।

রসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, এই শেষ দশকে তিনি (সা.) আহইয়াল লাইলা ওয়া আইক্বযা আহলাহু ওয়া জাদ্দা ওয়া শাদ্দাল মি’যার।’

অর্থাৎ “ সারা রাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং নিজেও ইবাদতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন।” (মুসলিম ইতিকাফ অধ্যায়)

‘আহইয়াল লাইল- অনুবাদটি এভাবেও করা যায়- রাত্রিকে জীবন্ত করে তুলতেন। কি অপূর্ব বর্ণনা! ইবাদতে ভরিয়ে তুলতেন রাত্রিকে এমনভাবে যেন তা জিন্দা হয়ে উঠতো।

সালাফরা এই দশ দিন বিভিন্ন আমল করতেন। যেমন-

>নফল সলাত

>যিকির আযকার

>দোয়া

>কুরআন তিলাওয়াত বা অধ্যয়ন

>সাদাকা

আমাদের করণীয়:

১. সলাত: পুরুষরা ফরয নামায জামাতে আদায় করি। করোনাকালে মসজিদে না পারলে যার যার অবস্থানে বা বাড়িতে জামাতের ইন্তেজাম করি।

# নফল-সলাত: তারাবী-তাহজ্জুদ সাধ্যমত, দীর্ঘ কিয়াম, তেলাওয়াত, রুকু-সিজদা- বৈঠকসহ আদায় করি।

# নারী-পুরুষ সবাই সব সলাত সাধ্যমত বুঝে বুঝে আদায় করি। নফল সলাতে সিজদায় ও শেষ বৈঠকে সাধ্যমত বাড়তি দোয়া পড়ি, ইস্তেগফার করি, গুনাহ-খাতার জন্য মাফ চাই।

২. যিকির-আযকার: সকাল-সন্ধ্যার যিকিরগুলোতে যত্মবান হই। সুন্নাহর অনুসরণে কিছু না কিছু বাড়তি যিকির করি। যিকিরগুলো বুঝে বুঝে করতে সচেষ্ট হই।

৩. দোয়া: রসুল (সা.) লাইলাতুল কদরের দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন- “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফ্যুউ’ন তুহিব্বুল আ’ফওয়া, ফা’ফু আ’ন্নী।”

“হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে আপনি ভালবাসেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন।”

আম্মাজান আয়িশা (রা.)- আল্লাহ তা’য়ালা অনেক অনেক রহম করুন। কতই না উত্তম মানুষ ছিলেন তিনি। কতই না কল্যাণ এনে দিয়েছেন তার সন্তানদের জন্য। তিনি প্রশ্ন করাতেই তো এই নেয়ামতের সন্ধান দিলেন নবীজী (সা.)।

উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে, নামাযে, নামাযের বাইরে- দোয়াখানি অর্থ বুঝে বুঝে পড়তে থাকি। সবাইকে পড়তে বলি।

মনে রাখি, হাদীস অনুযায়ী দোয়া তাকদির বদলের হাতিয়ার। হাতিয়ারের কার্যকারিতা তার ব্যবহারকারীর যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। তাই বুঝে শুনে মন লাগিয়ে দোয়াখানি পড়তে থাকি।

৪. কুরআন অধ্যয়ন: এই রাতগুলোতে সাধ্যমতো বেশি বেশি রাতগুলোতে কুরআন অধ্যয়ন করতে চেষ্টা করি। এ ব্যাপারে আগের কয়েক কিস্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আমরা।

৫. সাদাকা: রসুল (সা.) বলেছেন, “সাদাকাহ গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।” এ ব্যাপারটায় অনেকে গাফিলতি করি। প্রত্যেক রাতে সাধ্যমতো সাদাকা করি সবাই। যে যা পারি।

সময় ফুরিয়ে যায়। ফুরিয়ে যাচ্ছে। এক রাত সমান হাজার মাস। হাজার মাস দিবা-রাত্রি অবিরাম ইবাদতের সওয়াবের সুযোগ নিয়ে এসেছে লাইলাতুল কদর। প্রতিটি আমল করি। তাতে আমলে বৈচিত্র আসবে। কেউ হয়তো কোনো আমল বেশি করতে পছন্দ করেন। তবে সবগুলিই করি সাধ্যমতো। আল্লাহ তা’য়ালা তাওফিক দিন। আর হ্যাঁ, দিনের বেলাগুলিও কাজে লাগাই। নেক কাজ যেন কোনো না ছাড়ি। আর রাতের জন্য প্রস্তুতি নেই। কি কি করবো তার পরিকল্পনা করি। কাজ আগিয়ে রাখি। রাতে যেন বাজারে না ঘুরি। একান্ত জরুরী কাজ হলে দিনেই সেরে রাখি। এই রাতগুলোতে নেটে ঘোরাফেরা বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এবং অপ্রয়োজনীয় টেলিফোন সংলাপ বন্ধ রাখি। বন্ধ রাখি টিভি সিরিয়ালগুলো। কিছু মানুষ আছেন কোনো রকম তারাবী পড়ে ধারণা করেন, সারাটা রাত যেন যা মন চায় তা করার অনুমতি পেয়ে গেলেন। নিজেও কোনো ইবাদত করেন না, অন্যকেও বিরক্ত করতে থাকেন। এই ধরনের গুনাহর কাজ সম্পর্কে সাবধান হই। আর অন্যেরা এই ধরনের লোকদের ব্যাপারে সাবধান হোন। আল্লাহ পাক সবাইকে মাফ করুন, কবুল করে নিন।