advertisement
আপনি পড়ছেন

আল্লাহ তা’লা বলেন, “তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হলে তাদের থেকে ও তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদাত করে তাদের থেকে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁর দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ-কর্মকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।” (সূরা কাহাফ ১৮: ১৬)

holy quran the gift of allahআল কুরআনের জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই, ফাইল ছবি

গত দিন আসহাবে কাহাফের ঘটনায় শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে আলোকপাত করেছি। সেখানে আমরা দেখেছিলাম, কিভাবে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর কুদরতী ব্যবস্থায় তাঁর অভিমুখী এই যুবকদের হেফাজত করেছেন।

যুবকেরা যখন তাদের করণীয় বিষয়ে একমত হলো এবং তাদের জাতির শিরক ও কুফর থেকে হিযরত করে গুহায় আশ্রয় নিল তখন তারা দোয়া করেছিল:

“হে আমাদের রব! তুমি নিজ থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।” (সূরা কাহাফ ১৮: ১০)

লক্ষণীয় যে, তারা ঈমানের পথে অটল থাকার জন্য তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু করণীয় সবটুকু করলো। তারা প্রচন্ড ঝুঁকি নিল। অতঃপর দোয়া করলো। নবী (সা.)-এর আদর্শেও আমরা তা-ই দেখি। ১৩টি বছর মক্কায় প্রবল বিরোধিতার মুখে অটল থেকে ঈমান ও ইসলামের তালিম দিলেন। তারপর হিযরত করে মদীনায় এলেন। অতঃপর তার ও তার সাথীদের পক্ষ থেকে যা কিছু সামর্থ সব নিয়ে বদরে উপস্থিত হয়ে নবী (সা.) সিজদায় পড়ে দোয়া করলেন।

মুসলমানরা সামান্য সামর্থ নিয়ে আল্লাহর কুদরতে বিজয়ী হলেন। এটাই আল্লাহর নীতি। আসহাবে কাহাফের ক্ষেত্রেও তাই দেখি আমরা। শিরক ও কুফরকে তারা শুধু আদর্শিকভাবেই বর্জন করলো না বরং তারা তা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যাওয়ার পরই আল্লাহর সাহায্য আসলো। বর্তমান সময়ে আমরাও দোয়া করছি। কিন্তু শিরক-কুফর ও হারাম বর্জন করতে চাইছি না। আর আশা করছি, আল্লাহ্ তাঁর ফিরিস্তা পাঠিয়ে ইসলামের সমস্ত বিপদ দূর করে দিবেন। কিন্তু:

“আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।” (সূরা রাদ ১৩: ১১)

বর্তমান যুব সমাজ

বর্তমান যুব সমাজ মোটা দাগে ২ ভাগে বিভক্ত। একদিকে ভোগবাদে আক্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত যুবকেরা, অন্যদিকে রয়েছে উন্নততর জীবনের প্রত্যাশী যুব সমাজ। বিশ্বব্যাপী এই যুব-যুবাদের এক বিরাট অংশ ইসলামের দিকে ঝুঁকছে।

আমাদের যুব সমাজের মধ্যেও আমরা উপরের দু’টি ধারা দেখতে পাই। একদিকে বল্গাহীন ভোগবাদে আক্রান্ত, রাজনীতির নামে আদর্শহীন সস্তা টাকা কামানোর নেশায় মত্ত যুবকেরা। অপরদিকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট নব্য যুব-যুবারা। যারা মসজিদে নিয়মিত নামাযে হাজির, পর্দা-পুশিদায় সিরিয়াস, ইসলামী পুস্তক-পুস্তিকা সংগ্রহ ও পাঠে বেশ অগ্রসর। অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও সম্ভাবনাময় এ চিত্র।

এর বিপরীতে এই যুবসমাজকে যথাযথভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া, দ্বীনি বিষয়ে গাইড করা, ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে আমাদের বিদগ্ধ আলেম সমাজ ও ইসলামী দল-সংগঠনগুলির মধ্যে ব্যাপক ঘাটতি। যুব সমাজকে নিয়ে এদের কোন ভিশন আছে বলে বোঝা যায় না। বরং নিজেদের Follower বৃদ্ধিতে ব্যস্ত সবাই। উপরন্তু খুঁটি-নাটি বিতর্ক, পরস্পরের সাথে মন্তব্যে অন্যায় সীমালংঘনের মাধ্যমে এদেরকে আলেম ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলছেন, একই রকম অভব্য আচরণে তাদেরকে অভ্যস্ত করছেন এবং পরিণামে সব মহলের প্রতি আস্থা হারিয়ে এরা অনেকটাই দিকভ্রান্ত। সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম, দ্বীনি ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানসমূহ এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিবেন আশা করছি।

মুসলিম যুব সমাজের প্রতি

চলমান পরিস্থিতিতে কেউ হতাশ হবেন না। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আল্লাহপাক আপনাকে দ্বীনের প্রতি আগ্রহী করে দিয়েছেন, দ্বীনের দিকে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দিয়েছেন এটাই সবচেয়ে বড় আশার কথা। অগ্রজদের থেকে আরো সাহায্য পেলে ভাল হতো। নেই বা কম, কি করা যাবে। সত্যের ব্যাপারে তো আর আপোষ চলবে না, মুসলিম যুবা-যুবাদের জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে নিচের পরামর্শগুলি রইলো-

(১) দায়িত্বের উপলব্ধি:

সর্বপ্রথম দুনিয়ার জীবন সম্বন্ধে সঠিক ধারণা খুব প্রয়োজন। এ জীবন পরীক্ষার। কোন ধরনের অলীক কল্পনা বা ফ্যান্টাসি থাকলে ঝেড়ে ফেলতে হবে। মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা এই পরীক্ষারই অংশ। অতীত নবী-রসূল (আ.) ও তাদের সাথীদের থেকে শুরু করে নবী (সা.) ও তার সাহাবীদের (রা.)ও একই পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। তারা সাহসিকতার সাথে তা পার হয়েছেন, আমরা পারবো না কেন?

“আর কত নবী সংগ্রাম করেছে, তাদের সাথে বহু আল্লাহ্ওয়ালা ছিল। আল্লাহর পথে তাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে তারা হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি এবং নত হয়নি। এই কথা ছাড়া তাদের আর কোন কথা ছিল না: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং কাজে কর্মে সীমালংঘন তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পথ সুদৃঢ় রাখ এবং অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।’ অতঃপর আল্লাহ্ তাদেরকে পার্থিব পুরস্কার এবং উত্তম পারলৌকিক পুরস্কার দান করেন। আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।” (আলে ইমরান ৩: ১৪৩-১৪৮)

মুসলিম যুব সমাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজেদের ঈমান ও ইসলামের হেফাজত। অতঃপর তাদের নিকটজনদের ও জাতিদের ইসলামের পথে অগ্রসর করা ও নেতৃত্ব প্রদান করা। বুঝে নিতে হবে এবং পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে -

- আপনি এ পৃথিবীতে কোথা থেকে এসেছেন?
- কোথায় যাচ্ছেন?
- কেন এসেছেন?

(২) ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন:

ইসলাম সর্ম্পকে সঠিক জ্ঞানের উৎস আল কুরআন ও সহীহ হাদীসকে আকড়ে ধরতে হবে মজবুতভাবে। কুরআন-সুন্নাহর বিপরীতে আলেম-পীর-দরবেশদের বক্তব্য এবং মাযহাবের নামে বাড়াবাড়ি শক্তভাবে বর্জন করতে হবে। নেট থেকে ইসলাম শিখা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্য সহকারে ধারাবাহিক তাফসীরসহ কুরআন অধ্যয়ন, দারস ও হালাকাগুলিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে। যুবকদের মনে রাখতে হবে, যা কিছু নতুন তা-ই যেমন সঠিক নয়। আবার যা কিছু পুরাতন তা-ই বিভ্রান্তি নয়।

সঠিক বেঠিকের মানদন্ড আল-কুরআন ও সহীহ হাদীস। তাই কুরআন সুন্নাহর যথাযথ ও কার্যকর জ্ঞান অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। অনৈসলামী মতবাদগুলি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। ইসলামবিরোধী চিন্তাধারাগুলির অন্যতম সেকুলারিজম। সেকুলারিজমের ধারক বাহকদের চিন্তাধারা সম্পর্কে ড. ইউসুফ আল-কারযাভী বলেন: “তারা এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়: যে রাষ্ট্রের দ্বীন থাকবে না এবং এমন দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে দ্বীনের কোন রাষ্ট্র থাকবে না।”

তাই যুব সমাজের কর্তব্য হবে:

- শুধু কতকগুলি আয়াত-হাদীস মুখস্থ বা বই কিতাব পড়ে ফেলা নয়, ইসলামের আলোকে চিন্তা করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

- খুঁটি-নাটি বিষয়ে বিতর্ক নয়। সবার আগে বিশ্বাসের ভিত মজবুত করার জন্য তাওহীদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

- ফরয-ওয়াজিব ও হারামের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এক যুবক ভাই সেদিন এক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করছেন- রমজানে তাহাজ্জুদের পর বিতর পড়া প্রসঙ্গে। একই সাথে তিনি বললেন, সুবহে সাদেকের প্রায় ঘন্টা দেড়েক পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি খেয়েছেন। তার প্রশ্ন রোজার কোনো সমস্যা হবে নাতো? কারণ তিনি খুবই ক্ষুধার্ত ছিলেন। তার অজ্ঞতা নিয়ে কটাক্ষ নয়, কোনভাবে হেয় করাও নয়। বিষয়টি হল তাহাজ্জুদ সুন্নাত। দ্বীনের মৌলিক ইলম ফরয। ফরয আদায় যার হয়নি, তিনি সুন্নাত-নফলে আজকাল খুবই সক্রিয়। অসুবিধা নেই যদি ফরযে সমস্যা না হয়। কিন্তু বড় রকম জ্ঞানগত সমস্যা থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থা আজ অধিকাংশের। খুঁটি-নাটি বিষয়ের বিতর্ক চলছে, ফরযের বিষয়ে উদাসীন-অজ্ঞ। শায়খরাও এসব বিষয়ে তাদের সতর্ক করছেন না, গাইড করছেন না। যুব সমাজকে নিজ থেকেই সচেতন হবে হবে।

- নবী (স.)-এর আদর্শ বা সুন্নাহ ছাড়া ইসলামী জিন্দেগী যাপন করা সম্ভব নয়। তাই সহীহ হাদীসের পাশাপাশি সীরাতে রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর জ্ঞান অপরিহার্য। নবী (সা.) অনুসরণের আদর্শ সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। তাদের সীরাত বা জীবনী সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন জরুরি। সীরাতে ইবনে হিশাম, আর রাহীকুল মাখতুম, আসহাবে রসূলের জীবন কথা, চার খলিফার জীবনী সম্পর্কিত বইগুলি পাঠ করে নেয়া যেতে পারে।

- জাল-হাদীসের চর্চাকারী ও শিরকী-বিদআতী ওয়ায়েজ, বক্তা, লেখকদের সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে। দলিলবিহীন কথা কোনভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। বক্তা কোথা থেকে কথা বলছেন তা প্রশ্ন করার সাহস অর্জন করতে হবে। যে সব বক্তা ৩/৪ ঘন্টা বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান, একই কথা বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে সময় নষ্ট করেন, চটকদার ভঙ্গি আরবী-ফারসী বয়াত, শুধু বাংলাভাষী শ্রোতাদের মধ্যে একই কথা একবার বাংলায় আরেকবার ইংরেজীতে বলা ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় কাজ করে সময় ক্ষেপণ করে যারা নিজেকে জাহির করতে চান, তাদের ব্যাপারে সাবধান হওয়া খুবই জরুরি। মনে রাখবেন সময়ের চেয়ে কর্মের পরিধি অনেক ব্যাপক। কেউ দ্বীনের নাম করে আপনার সময় নষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

(৩) ইসলামী জিন্দেগী যাপন:

দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের প্রথম লক্ষ্য নিজেকে সংশোধন। সবাই মনে রাখি, অন্যকে বিতর্কে হারিয়ে দেয়ার জন্য যে জ্ঞান অর্জন করা হয় তাতে নিজের কোন ফায়দা নেই। আখিরাতে তার পরিণতি নিশ্চিত জাহান্নাম। অতএব, আত্মসংশোধন ও সংস্কারই জ্ঞান অর্জনের প্রথম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে:

- দ্বীনের ফরয-ওয়াজিবগুলি যথাযথভাবে আদায়ে যত্মবান হতে হবে।

- সুন্নাত আমলগুলি সাধ্যমত পালন করতে হবে। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাগুলির ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্মবান থাকি সবাই।

- হারাম উপার্জন ও হারাম সম্পর্ক উভয়ই বর্জন খুবই জরুরি, হারাম জিনিস আল্লাহপাক কুবুল করেন না।

- সামর্থবানরা দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন। নেককার স্ত্রী ও পরিবার দেখে বিয়ে করুন। বিয়ে অর্ধেক দ্বীন। ক্যারিয়ার বা অন্য কারণে দেরি করবেন না, ইসলামী পরিবার গঠনে আত্মানিয়োগ করুন। পরিবারগুলো ইসলামের কেন্দ্র হিসেবে গঠন করা জরুরি।

(৫) বহুমুখী দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন:

মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা- তারা কিছুই উৎপাদন করে না। কিন্তু সর্বোত্তম মানে ভোগ করতে চায়। সুঁই-টুকু বানাতে পারে না। সর্বাধুনিক মডেলের মোবাইল ব্যবহার করতে চায়। অথচ তার ২% ব্যবহারের যোগ্যতাও তার নেই। কেবল ফোন করা, রিসিভ করা, আর চ্যাটিং ও সেলফি তোলা! এ অবস্থা হতে বেড়িয়ে আসতে হবে। মুসলিম উম্মাহ প্রায় হাজার বছর বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেই।

নবী (সা.) আমাদের সবচেয়ে সুন্দর তথা ইহসানের সাথে কাজ করার এবং ইতকান তথা যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন। যুব সমাজ নিজেদের যোগ্যতা বাড়াতে সচেষ্ট হোন।

চীন, ভারত, আমেরিকা, রাশিয়া বা পাশ্চাত্য আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে- এসব বিলাপ অর্থহীন। যে যার কাজ করতে থাকবে। এর বিপরীতে আমি কি করলাম? অন্যে আমার কাজ করে দিবে না। তাই বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন। পেশাগত ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুন। যেন-তেন প্রকারে কাজ করার অভ্যাস বর্জন করতে হবে। দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে কাজ করি। ভাষা শিখে ফেলুন যে কয়টা পারেন। নিজের ভাষায় কথা বলা ও লেখার যোগ্যতা বাড়ান। কুরআনের ভাষা আরবী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ইংরেজীর দক্ষতা বাড়াতে হবে। পারলে সাথে আরো কোনো ভাষা শিখে ফেলুন। চায়নার প্রভাব দিনদিন বাড়ছে। চীনা ভাষা শিখা যায়। মানুষকে দাওয়াত দিতে হবে, ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্তগুলি ধরতে পারতে হবে। সময় নষ্ট না করলে সব সম্ভব। নিয়তের বিশুদ্ধতা আল্লাহ তা’লার রহমত ও তাওফীক নিয়ে আসবে।

(৬) ইসলামী আখলাক বা চরিত্র গঠন:

বলা হয়- Muslims are the worst sellers of the best product and the non Muslims are the best sellers of the worst products. সত্যিই তো আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ জিনিস আল-ইসলাম আছে, কিন্তু তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমদের যোগ্যতার বড় ঘাটতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্তমান মুসলিমদের আচার-আচরণ ও চরিত্র দেখে মানুষ ইসলাম বিমুখ হয়ে পড়ে। চারিত্রিক গুণাবলী ও দোষসমূহের একটা সুন্দর হাদীস সংকলন রিয়াদুস সালেহীন। এটা অধ্যয়ন করে নিতে পারি আমরা সবাই। কুরআন হাদীসের আলোকে নিজেদের মেলাই। ‘ মুই (আমি) কি হনু রে’ জাতীয় মানসিকতা ঝেড়ে ফেলুন। আপনি আল্লাহর বান্দা, নবী (স.)-এর উম্মত, এবং মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য- নিজেকে নিয়ে এর চেয়ে বেশী কিছু ভাবতে যাবেন না। অন্যের দোষ ধরায় সময় নষ্ট না করে সবাই নিজের গুণ বাড়াতে সচেষ্ট হই। সেটাই ইসলামের কাজে আসবে, আখিরাতে আমার উপকারে আসবে।

(৭) ইসলামী দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণ:

আল্লাহপাক বলেন: "তার থেকে কথায় উত্তম আর কে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং জানিয়ে দেয় যে আমি মুসলিম।" (সুরা হামীম আস-সাজদা ৪১: ৩৩)
জ্ঞান ও যোগ্যতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সমাজ সংশোধনে অগ্রসর হয়ে আসতে হবে। শুধু সমালোচনা ও নেট-জিহাদী নয়- যারা নেটে অপর মুসলিম ভাইয়ের কমেন্টের বিরুদ্ধে তোলপাড় করে ফেলেন। এসব মানসিকতা ও আচরণ ঝেড়ে ফেলুন। দরদি মন নিয়ে আন্তরিকতার সাথে সমাজ সংশোধনে এগিয়ে আসতে হবে। শুরু করতে হবে নিজ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, কলিগ তথা নিকট লোকদের মধ্য হতে। অতঃপর সামনে অগ্রসরের প্রসঙ্গ আসবে। কাজটা কঠিন, তাই যারা এ কাজে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক অংশ নিচ্ছে তাদের সাথে নিজে কাজে শরীক হই। অন্যদের প্রতি সুধারণা রাখি। সদ্ভাব বাড়াই। একটা মিশনারী জাতির সদস্য হিসেবে ধৈর্য্যরে সাথে দাওয়াতী কাজে অংশ নিতে হবে।

(৮) বন্ধু ও সাথী নির্বাচন:

আসহাবে কাহাফের কুকুরটার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই সবার। তার নাম কিতমির। কুকুর তার নানা নোংড়া অভ্যাসের জন্য শরীয়তে নাপাক প্রাণীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এজন্য ঘরে কুকুর রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। রহমতের ফিরিশতারা তবে ঘরে আসবে না। কিন্তু কি আশ্চর্য দেখুন, কিতমির একটা কুকুর হয়েও আল্লাহর কিতাবে জায়গা করে নিয়েছে। সৎ সংসর্গের এটাই সর্বোত্তম উপকারের একটা অন্যতম নমুনা।

যুব সমাজকে বন্ধু ও সাথী নির্বাচনে একই রকম সতর্ক ও choosy হতে হবে। যার সাথে সম্পর্কে দ্বীনের ফায়দা তার সাথে সম্পর্ক গড়ুন। যাকে দেখলে আপনার আল্লাহর কথা মনে হয়, যার সাথে চলাফেরা করলে আপনার ইলম ও আমলের ত্রুটি ও দুর্বলতা ধরা পড়ে, যে আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় সে-ই আপনার প্রকৃত বন্ধু। এই বন্ধুদের খুঁজে বের করুন। তাদের সাথে মিলে দ্বীন শিখুন এবং দ্বীনের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হোন। যারা উঠতে বসতে অন্যদের গালি-গালাজ আর কটাক্ষ করায় ব্যস্ত তাদের বর্জন করুন। এভাবে নেক মানসিকতার সমাবেশ ঘটান। নেক লোকদের সংস্থা-সংগঠন গড়ে তুলুন।

পরিশেষে, যৌবন একটা গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। কিয়ামতের দিন পাঁচ প্রশ্নের একটা হল 'তোমার যৌবনকাল নিয়ে কি করেছ?'। আবার আরশের ছায়াতলে কিয়ামতের দিন যে সাত শ্রেণির মানুষ আশ্রয় পাবে তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হল যৌবনকালে আলাহর ইবাদতে নিবেদিত যুবক। অতএব যুব-যুবারা এই নিয়ামতের সুষ্ঠু ব্যবহারে সচেতন হোন। সমাজ পরিবর্তনে আগ্রহীরা এদের যথাযথ Nurture তথা পরিচর্যা করায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে অগ্রসর হন। যুব সমাজকে বিপথে নেয়ার জন্য স্বার্থানেষী মহলগুলি খুবই সচেতনভাবে পরিকল্পিত কার্যক্রম নিচ্ছে। খেলাধুলা, তথাকথিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, গান-বাজনা-সিনেমা, নেটের ফ্যান্টাসির জগত, পর্নোগ্রাফি, মাদক ইত্যাদি সচেতনভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে বস্তুতান্ত্রিক মানসিকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। BPL, IPL -এ টাকার ছড়াছড়ি- এরই ইঙ্গিত দেয়। এর বিপরীতে সুপরিকল্পিত ও কার্যকর প্রোগ্রাম নিয়ে ইসলামী মহলগুলির এগিয়ে আসতে হবে। যুব সমাজই আমাদের ভবিষ্যৎ। নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।