advertisement
আপনি দেখছেন

রাশিয়ার একটি মহাকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) ক্রুদের বিপন্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মহাকাশ ক্ষেপণাস্ত্রটি কক্ষপথে একটি ধ্বংসাবশেষ ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এটি আগামী বছরের জন্য একটি বিপদ তৈরি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। রয়টার্সের রবাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে এএনজেড।

russian anti satellite missileরাশিয়ার মহাকাশ ক্ষেপণাস্ত্র

নাসা জানাচ্ছে, ওই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সাতজন ক্রু রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন জার্মান, চারজন মার্কিন ও দুজন রাশিয়ান মহাকাশচারী। রুশ মহাকাশ ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষার পর সতর্কতা হিসেবে সোমবার দুই ঘণ্টার জন্য ক্রুদের ডকড স্পেসশিপ ক্যাপসুলে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনে দ্রুত পালানোর অনুমতিও দেওয়া হয়।

গবেষণা ল্যাবটি পৃথিবীর ওপর প্রায় ৪০২ কিলোমিটার প্রদক্ষিণ করছিল এবং প্রতি ৯০ মিনিটে ধ্বংসাবশেষ ক্লাস্টারের মধ্য দিয়ে বা তার কাছাকাছি অবস্থান করছিল। কিন্তু পরে নাসা বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন, স্টেশনের অভ্যন্তরে ফিরে আসা ক্রুদের পক্ষে নিরাপদ ছিল। ঝুঁকির মধ্যে ক্রুদের মহাকাশ স্টেশনের বেশ কয়েকটি মডিউলের হ্যাচ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

nasa imageমহাকাশে নাসার স্যাটেলাইট

সংস্থার প্রধান বিল নেলসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, নাসা কক্ষপথে আমাদের ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে এবং তার পরেও ধ্বংসাবশেষের ওপর নজরদারি চালিয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর যে ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে তা কক্ষপথে অন্যান্য উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথের মাধ্যমে প্রজেক্টাইলগুলোর একটি চেইন প্রতিক্রিয়া স্থাপন করে।

নাসার উদ্বেগের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। ইউএস স্পেস কমান্ড জানিয়েছে, রাশিয়ার উপগ্রহ ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫০০টিরও বেশি অরবিটাল ধ্বংসাবশেষ তৈরি করেছে। এগুলোর সংখ্যা সম্ভবত কয়েক হাজার হতে পারে।

স্পেস কমান্ডের প্রধান মার্কিন সেনা জেনারেল জেমস ডিকিনসন বলেছেন, রাশিয়া বিশ্ববাসীর জন্য মহাকাশ ডোমেনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা প্রদর্শন করেছে। ধ্বংসাবশেষগুলো একবছর ধরে মহাকাশে হুমকি হয়ে থাকবে। স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ মিশনও ঝুঁকির মধ্যে রাখবে।