advertisement
আপনি দেখছেন

শেষ হতে চলেছে সাল ২০১৬। প্রতিবছরের মতো এবারও বছরের শেষে চলছে নানা হিসেব নিকেষ। বিদায়ী এই বছরটি বিজ্ঞানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার সত্যিই অভাবনীয় সাফল্যের পথ উন্মোচন করেছে।

science

এই সাফল্য কখনো মানুষকে আশান্বিত করেছে। দেখিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ। আবার কখনো কখনো আফসোসের আগুনে পুড়িয়েছে অনেককে। আর কয়েকটা দিন আগে কেনো এটা আবিষ্কার হলো না, তা নিয়ে অনেকেই আফসোস করেছেন। তাহলে চলুন দেখে নিই, বিজ্ঞানীরা এ বছর নতুন কী কী উদ্ভাবন করতে পেরেছে।

gravity waves

মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গের হিসাব: চলতি বছরের জুন মাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ রেকর্ড করা সম্ভব হয়েছে৷ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ গবেষণা করে এই বিশ্বের উৎপত্তি ও বিস্তার নিয়ে বহু রহস্যের সমাধান পাওয়া যাবে। ১৯৯২ সালে থেকে বিজ্ঞানীরা এই তরঙ্গ খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।

HIV vaccine

এইচআইভির ভ্যাকসিন: এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সফলতাগুলোর একটি হলো বিজ্ঞানীরা এতোদিনে এইডস প্রতিরোধে আমাদের আশার আলো দেখাতে পেরেছেন। তারা প্রথমবারের মতো এইচআইভি বাইরাস নির্মূল করতে পারে এমন একটি ভ্যাকসিন বানাতে সক্ষম হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে।

three parenting system

তিন বাবা-মায়ের সন্তান: গোটা জীব জগতে সন্তান জন্মদানে একজন নর এবং একজন নারীর অবদান থাকে। কিন্তু এবছর বিজ্ঞানীরা তিনজন নর-নারীর অবদানে একটি সন্তান উৎপাদনে সার্থক হয়েছেন। ২০১৬ সালের মে মাসে মেক্সিকোতে দুই নারীর ডিম্বাণু এবং এক পুরুষের শুক্রাণু নিয়ে একটি সন্তান পৃথিবীতে এসেছে৷ এই থ্রি প্যারেন্টিং সিস্টেমের সুবিধা হলো, মায়ের শরীরে যদি জিনগত কোনো রোগ থাকে, তবে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানটি সেই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে।

DNA

ডিএনএ এডিটিং: মার্কিন একদল বিজ্ঞানী এবছর শুকরের শরীরে মানুষের অঙ্গের বিকাশে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা শুকরের ভ্রুণে মানুষের স্টেমসেল প্রতিস্থাপিত করে ঠিক ২৮ দিন পর শুকরের দেহে সেই স্টেমসেলটি বিকশিত হতে শুরু করে।

carbon di oxide

কার্বন ডাই-অক্সাইডকে পাথরে রূপান্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে বিজ্ঞানীরা উত্তর মেরুর নিকটবর্তী আইসল্যান্ডে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সফলভাবে চুনাপাথরে রূপান্তর করতে সক্ষম হন।

Hilium gas

হিলিয়ামের সন্ধান: চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য আরো একটি সুসংবাদ হলো তানজানিয়ায় বিপুল পরিমান হিলিয়াম গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। মূলত বিমানের টায়ারে ব্যবহৃত এই গ্যাস এমআরআই এবং স্ক্যানিং মেশিনে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

data storage

অফুরন্ত তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র: মার্কিন বিজ্ঞানীরা ন্যানো স্ট্রাকচার ব্যবহার করে একটি ছোট গ্লাস ডিস্ক বানিয়েছেন যা ৩৬০ টেরাবাইট পর্যন্ত ডাটা বা তথ্য সংরক্ষন করে রাখবে। এই ডিস্কের আরেকটি আশ্চর্যকর বৈশিষ্ট হলো, ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও ডিস্কটি গলবে না বা নষ্ট হবে না।

rocket

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট: যুক্তরাষ্ট্রের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স প্রথমবারের মতো এমন একটি রকেট বানাতে সক্ষম হয়েছে যা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে। সমুদ্রে ‘ফ্যালকন ৯’ লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপিত এই রকেটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছে আবার সফলভাবে ফিরে আসে।

self driving car

চালকবিহীন গাড়ি: বিজ্ঞানীরা এমন একটি গাড়ি বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন যেটা কোন চালক ছাড়া একাই চলতে সক্ষম হবে। এবছর তারা তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিগতে সক্ষম হয়েছেন। স্বচালিত এই গাড়ি এখন বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে।

hyperloop

সুপারসনিক গতি: হাইপারলুপ নামে একটি মার্কিন স্টার্টআপ কোম্পানী এবছর এমন একটি বিস্ময়কর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা ব্যবহার করে মার্নুষ ভবিষ্যতে ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্য দিয়ে ঘণ্টায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারবে।

sheikh mujib 2020