advertisement
আপনি দেখছেন

আপনি যখন আকাশ কিংবা সমুদ্রের দিকে তাকাবেন তখন মনে হবে প্রকৃতিতে নীল রংয়ের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে বিষয়টি কিন্তু তা নয়। আপনি যদি বিশাল পাথরের স্তূপ, বন ও ফুল বাগানের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন নীল রংয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। পশম, পালক ও প্রাণীর চামড়ায়ও নীল রং খুঁজে পাবেন না। কেন?

why blue color less natureনীল রং প্রকৃতিতে কম কেন

এর জবাব রয়েছে রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানের মধ্যে। কিভাবে রং উৎপাদন হয় এবং আমরা রং কিভাবে দেখি সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজলেই রহস্যের সমাধান মিলবে। আমরা রঙ দেখতে সক্ষম, কারণ আমাদের প্রতিটি চোখের মধ্যে ৬ মিলিয়ন থেকে ৭ মিলিয়ন আলোক সংবেদনশীল কোষ রয়েছে যা কোনস নামে পরিচিত। স্বাভাবিক রঙের দৃষ্টিভঙ্গিযুক্ত ব্যক্তির চোখে তিনটি ভিন্ন ধরনের কোনস রয়েছে এবং প্রতিটি কোনসের ধরন আলোর একটি বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল লাল, সবুজ বা নীল।

লাখ লাখ কোনস থেকে আমাদের মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে পৌঁছায়, যা আমরা দেখি তার দ্বারা প্রতিফলিত সব ধরনের আলোর যোগাযোগ হয়। যাকে তখন বিভিন্ন রঙের ছায়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

‘ব্লু: ইন সার্চ অব নেচারস নেয়ারেস্ট কালার’ বইয়ের লেখক কুপফার স্মিদ বলছেন, যখন আমরা একটি রঙিন বস্তুর দিকে তাকাই, যেমন একটি নীলকান্তমণি বা একটি প্রাণবন্ত হাইড্রাঞ্জা ব্লুম, বস্তুটি তার উপর পড়া কিছু সাদা আলো শোষণ করে। বাকি আলো যা প্রতিফলিত হয় তা একটি রঙের আকার ধারণ করে।

কুপফার স্মিদ বলছেন, যখন আপনি একটি কর্নফ্লাওয়ার দেখেন তখন এটিকে নীল দেখায় কারণ এটি বর্ণালীটির লাল অংশ শোষণ করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, ফুলটি নীল দেখায় কারণ সেই রঙটি বর্ণালীটির অংশ যা ফুলটি প্রত্যাখ্যান করে বা শুষে নিতে পারে না।

ওই বিজ্ঞান লেখক বলছেন, দৃশ্যমান বর্ণালীতে লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে, যার অর্থ এতে অন্যান্য রঙের তুলনায় খুব কম শক্তি। একটি ফুলকে নীল দেখানোর জন্য বর্ণালীর লাল অংশকে শোষণ করতে হয়। যার জন্য দরকার হয় একটি অণু তৈরির সক্ষমতা। কিন্তু এই ধরনের অণু তৈরি করা উদ্ভিদের পক্ষে খুবই জটিল। এ কারণেই পৃথিবীর প্রায় তিন লাখ ফুলের উদ্ভিদ প্রজাতির ১০ শতাংশেরও কম নীল ফুল উৎপন্ন হয়।

তিনি বলছেন, নীল প্রাণীর রং রাসায়নিক রঞ্জক থেকে আসে না। বরং প্রাণীরা একটি নীল চেহারা তৈরি করতে পদার্থ বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে। মরফো বংশের নীল ডানাযুক্ত প্রজাপতিগুলোর ডানার স্কেলে জটিল, স্তরযুক্ত ন্যানোস্ট্রাকচার রয়েছে যা আলোর স্তরগুলিকে হস্তান্তর করে- যাতে কিছু রঙ একে অপরকে বাতিল করে দেয় এবং কেবল নীল প্রতিফলিত হয়। পাখির নীল পালক, বিষাক্ত নীল রঙয়ের অক্টোপাসের ঝলকানি রিংগুলোতে একই ধরনের প্রভাব দেখা দেখা যায়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স