advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ফেস মাস্ক ব্যবহার করা শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারে। কিন্তু এতে ভাইরাস ঠেকানো গেলেও ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে ফেসিয়াল রেকগনিশন নির্ভর প্রযুক্তিসেবা।

face recognition companies are in trouble

আইফোন টেন থেকে অ্যাপল চালু করেছে শুধু মুখ দেখে ফোন আনলক করার সুবিধা। বহু অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এই সেবা আছে। এ ছাড়া অফিসের উপস্থিতি, বাসা-বাড়ির দরজা খোলাসহ আরো নানান কাজে মুখ দেখে প্রযুক্তি সেবা নেওয়া যায়। কিন্তু নিয়মিত মাস্ক পরার ফলে এই সেবায় দেখা দিয়ে মারাত্মক সমস্যা।

সফটওয়ার ডেভেলপারদের তাই খুঁজতে হচ্ছে বিকল্প পথ। এরই মধ্যে চোখ, দুই চোখের মধ্যকার অস্থি চিহ্নিত করার মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন সেবার পরিধি বাড়ানো যায় কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়ে গেছে।

করোনাভাইরাসের থাবা পৃথিবীতে আসার আগে, ফেসিয়াল রিকগনিশন সেবা অফিস, স্কুল, বাসা, শপিংমল, রেস্টুরেন্টসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই প্রযুক্তি সুফলও পেতে শুরু করেছিলো পৃথিবী। কিন্তু হঠাৎ করেই এই সেবা ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে।

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অবশ্য এর মধ্যেই দাবি করেছে যে, তাদের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি মুখের অর্ধেক খোলা থাকলেও মানুষ চিনে ফেলতে পারছে এবং এর নির্ভুলতার হারও বেশ ভালো।

অ্যাপল জানিয়েছে, তারা আইফোনের নতুন অপারেটিং সিস্টেমে মাস্ক পরা ব্যক্তির জন্য কিভাবে ফেসিয়াল রিকগনিশন কাজ করবে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। কিন্তু গুগল এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রতিষ্ঠান এসএএফআর-এর পণ্য ব্যবস্থাপনার জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিক হেইজ এ বিষয়ে বলেন, “নানা রকমের বায়োমেট্রিক তথ্য আমাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে উপস্থাপন করে। কিন্তু কেউ যখন মাস্ক পরে, তখন প্রচুর ডাটা আড়ালে পড়ে যায়। ফলে একজন মানুষকে অন্যজন থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রতিষ্ঠান ফেসওয়াচ দাবি করেছে, শিগগিরই তারা এমন প্রযুক্তি উন্মুক্ত করতে যাচ্ছেন, যার মাধ্যমে মাস্ক পরা ব্যক্তিকেও সহজে সনাক্ত করা যাবে। শুধু তাই নয়, তারা মুখ অন্য কোনো কারণে আবৃত থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে সনাক্ত করার উপায় বের করার চেষ্টা করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যারা ধর্মীয় কারণে মুখ ঢেকে রাখেন; যেমন মুসলিম নারীরা নিকাব পরেন, তাদেরকেও মুখ থেকে চিহ্নিত করার উপায় তারা বের করছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চোখ ও ভুরু থেকে যে বায়োমেট্রিক ডাটা পাওয়া যায়, তাতেও কোনো ব্যক্তিকে সনাক্ত করা সম্ভব।

প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র স্টুয়ার্ট গ্রিনফিল্ড বলেন, “সরকারের উচিত সবার জন্য ফেসমাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা। এটি নিশ্চিত করা গেলেই ফেসিয়াল রিকগনিশন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কোনো না কোনো উপায় বের করে ফেলবে।”

তিনি দাবি করেন, মুখের কিছু অংশ আছে যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় না। এমন অংশের ডাটার মাধ্যমে যে কোনো অবস্থায় একজন লোককে চিহ্নিত করা সম্ভব। তিনি বলেছেন, ফেইসওয়াচ নতুন অ্যালগরিদমে এই সমস্যা সমাধান করে ফেলবে।