advertisement
আপনি দেখছেন

প্রযুক্তির তাক লাগানো একটি আবিষ্কারের খবর এলো। যখন করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীর প্রায় উল্টে যাওয়ার দশা, তখনই ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) একদল গবেষক এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির উইজ ইন্সটিটিউট ফর বায়োলজিক্যালি ইন্সপায়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এলো এমন এক মাস্ক, যা পরিধানকারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত কি না তা চিহ্নিত করতে পারবে।

a mask can detect covid19

এ রকম একটি মাস্কে তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি কিভাবে সম্পন্ন হলো— তা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার বায়োটেকনোলোজি জার্নালে। “Wearable materials with embedded synthetic biology sensors for biomolecule detection” শীর্ষক গবেষণায় তাক লাগানো মাস্কটির বিষয়ে বিষদ বর্ণনা করা হয়েছে।

এই মাস্কে কেএন৯৫ মানের বায়োসেন্সর যোগ করা হয়েছে। যার ফলে মাস্কটি কোনো ব্যক্তির শ্বাসে কোভিড-১৯ ভাইরাস আছে কি না তা চিহ্নিত করতে পারে, এবং এই প্রক্রিয়ায় কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি জানা যায় মাত্র ৯০ মিনিটে।

গবেষকরা বলছেন, পরিধানকারি একটি বোতাম চেপে সেন্সরগুলো সক্রিয় করতে পারেন, এবং এরপর রিডআউট স্ট্রিপে ফলাফল পাওয়া যাবে ৯০ মিনিটের মধ্যে। শুধু তাই নয়, এই মাস্কের কোভিড-১৯ চিহ্নিতকরণের সঠিকতার হার পিসিআর-ভিত্তিক টেস্টের মতোই।

উইজ ইন্সটিটিউটের গবেষক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক পিটার নুয়েন বলেন, তাদের গবেষণা দলটি প্রথমে একটি পুরো ডায়াগনস্টিক ল্যাবকে একটি ছোট এবং সিনথেটিক বায়োলোজি-ভিত্তিক সেন্সরে নিয়ে আসে, যা যে কোনো মাস্কে কাজ করতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, অ্যান্টিজেন টেস্টের মতো কম খরচের টেস্টে পিসিআর-এর মতো উচ্চ মানের ফল এতে পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, “ফেস মাস্কের বাইরে আমাদের বায়োসেন্সরটি অন্য যে কোনো পরিধেয় বস্ত্রে সেট করা সম্ভব, এবং তা যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, বিষাক্ত পদার্থ এবং কেমিক্যালের উপস্থিতিও চিহ্নিত করতে সক্ষম।”

এই গবেষণার আরো একজন গবেষক নিনা ডনগিয়া মনে করেন, এই বায়োসেন্সরটি বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে কাজ করা গবেষকদের পোশাকে, সম্মুখ সারিতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মিদের পোশাকে এবং আর্মিদের ইউনিফর্মেও ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে তারা নার্ভ গ্যাস বা এ ধরনের কোনো ক্ষতিকর পদার্থের সামনে পড়ে গেলে তা জানতে পারেন।

গবেষক দলটি এখন উৎপাদনকারি পার্টনার খুঁজছে, যারা মাস্কটি উৎপাদন করতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। গবেষকরা বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন মহামারির সময়ে তারা মাস্কটি যতো বেশি সম্ভব মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে চান।