advertisement
আপনি পড়ছেন

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা ঋণ বা ধার দেয়ার সংস্কৃতিতে লাগাম টানতে যাচ্ছে বিটিআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন অপারেটরগুলো মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ৫ টাকার বেশি ঋণ বা ধার দিতে পারবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রাহকদের বিভিন্ন বিড়ম্বনার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

operator btrc

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানায় বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ সেবা ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার ওপর বিটিআরসি'র নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি করতে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গণশুনানিতে করা গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো গ্রাহকদের অজান্তে ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়, গ্রামে নিম্নমানের সেবা প্রদান করে, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কারণে কল ও এসএমএস করে বিরক্ত করে, কলরেট ও ইন্টারনেটের দামে নেই সামঞ্জস্যতা, নিম্নমানের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করে।

গণশুনানিতে অভিযোগকারী হিসেবে ১৬৫ জন গ্রাহক আমন্ত্রণ পান। তার মধ্যে ৩০ থেকে ৩২ জনকে অভিযোগ করার সুযোগ দেয়া হয়।

এ সময় এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো গ্রাহকদের ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার নেয়ার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু ধারের টাকা খরচ করার পর যতবারই ছোট অঙ্কের টাকা রিচার্জ করা হয়, ততবারই সেই টাকা ব্যালেন্স থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে। সাধারণত মানুষ জরুরি প্রয়োজনে টাকা ধার নেয়। তাই এই ধারের পরিমাণ ৫-১০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

গ্রাহকের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ৫ টাকার বেশি ধার বা ঋণ না দেয়ার সিদ্ধান্ত আসে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক ও মহাপরিচালক এ বি এম হুমায়ুন কবিরসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও সমাধানের বিষয়ে মতামত দেন।

গত ২৪ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিটিআরসির ওয়েবসাইটে ১ হাজার ৩১৯টি প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামত জানান ২০২ জন গ্রাহক। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৬৫ জনকে গণশুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা উপস্থিত থেকে মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এছাড়া আমন্ত্রিত অন্য অতিথিদের মধ্য থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন নেয়া হয়।

এছাড়া দ্বিতীয়বারে মতো আয়োজিত গণশুনানিতে অংশ নেয়া জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বিদ্যমান মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে নিয়ে আলাদা আলাদা গণশুনানি করা প্রয়োজন। তার দাবির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

আরেক অংশগ্রহণকারী আমিনুল দাবি করেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা গ্রাহকদের সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে বিটিআরসির কার্যালয় স্থাপন ও গণশুনানির ব্যবস্থা করা দরকার। এ সময় বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।