advertisement
আপনি দেখছেন

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের ভয়াবহ সিরিজটি এখনো শেষ হয়নি। দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এখনো বাকি আছে। সেই ম্যাচ দুটি জিতলেও সিরিজের আগের অংশের দুর্দদশার ক্ষত সারবে না। এই ক্ষত সারিয়ে তুলতে আগামী কয়েকটা মাস বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে দলের সিনিয়র কয়েকজন ক্রিকেটারদের দিকে। নজর থাকবে প্রধান কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের দিকেও।

bangladesh odi team for south africa announced

প্রধান কোচ: কোনো রকম বিতর্ক ছাড়াই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন চান্দিকা হাথুরুসিংহে। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সব মুহূর্ত এনে দিয়েছেন তিনি। তার অধীনেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেয়েছেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো ক্রিকেটাররা। যদিও এখন তাদের পারফর্মের অবস্থা খুবই নাজুক।

সৌম্য ২০১৫ সালে দারুণ খেলেছেন। চলতি বছরের শুরুতেও বেশ কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের কার্যকরিতার প্রমাণ রেখেছেন। কিন্তু তাকে প্রত্যাশিত ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে কখনোই পাওয়া যায়নি। তারপরও তার প্রতি কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন।

গড়গড়তা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটসম্যান থেকে সাব্বির রহমানকে ওয়ানডে এবং টেস্ট দলে জায়গা দিয়েছেন হাথুরুসিংহে। ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে সুযোগ দিয়ে তার সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। সাব্বির কোথাও কোথাও সফলও হয়েছেন। কিন্তু তার কাছ থেকে যে প্রত্যাশা ছিলো, সেটা তিনি পূরণ করতে ব্যর্থ।

bcb will extend contract of chandika

মোস্তাফিজও ঝলমলে এক আলোর মশাল থেকে হয়ে গেছেন নিবু নিবু এক কুপির মতো। কাঁধের এক অস্ত্রোপচারের পর থেকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন এই বাঁহাতি বোলার। এ তিনজনকে একের পর এক সুযোগ দিয়ে যাচ্ছেন চান্দিকা। তাতে বোর্ডও দিয়েছে সম্মতি। বিশেষ করে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন চান্দিকার কোনো চাওয়াই অপূর্ণ রাখেননি।

এখন দলের বাজে অবস্থায় ঠিক কী পরিকল্পনা নিয়ে চান্দিকা এগোবেন, তার দিকে থাকবে বোর্ডের কড়া দৃষ্টি। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার পর তিনি কিভাবে তরুণদের অনুপ্রাণিত করবেন বা তাদেরকে টিমম্যান হিসেবে পারফর্মার বানিয়ে তুলবেন, তার সেই পদক্ষেপের দিকে থাকবে সমর্থকদের দৃষ্টিও।

reachest bangladesh crikceter is shakib al hasan

সাকিব আল হাসান: কোনো সন্দেহ নেই বাংলাদেশ দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি ছিলেন বিশ্রামে। সে সময় তার অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ। তার বোলিংয়ের শূন্যতার ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সঙ্গে ছিলো তার ব্যাটিংয়ের অভাবও। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ক্রিকেট খাদের কিনার থেকে উঠতে তাকিয়ে থাকবে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের দিকে। ক্যারিয়ারের যে কোনো সময়ের চেয়ে সাকিব এখন বেশি পরিণত। এই সময়েই তার কাছে ক্যারিয়ারের সেরা পারফর্মটা আশা করছে বাংলাদেশ।

mashrafe says there is no excuse after losing odi series against sa

মাশরাফি বিন মর্তুজা: পারফর্মার বিবেচনায় মাশরাফি হয়তো তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা অনেক পিছনে ফেলে এসেছেন। কিন্তু লিডার হিসেবে তিনি এখনো তর্কাতীতভাবে দলের এক নম্বর ব্যক্তি। ২০১৪ সালে দলের টালমাটাল অবস্থায় ওয়ানডের অধিনায়ক হয়ে আসেন তিনি। এরপর ক্রমেই দলকে নিয়ে যান উঁচু থেকে উঁচুতে। সেই উঁচুতে যাওয়ার পথে অধিনায়ক মাশরাফি সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে। যেখানে প্রায় উড়তে থাকা দলটা নেমে গেলো মাটিতে। হয়তো কাদামাটিতেই। আগামী কয়েক মাসে মাশরাফি প্রায় ছিন্নভিন্ন এই দলটাকে কিভাবে জাগিয়ে তুলবেন, সে দিকে থাকবে এখন বিশ্লেষকদের চোখ। অধিনায়ক হিসেবে খুব সম্ভবত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটার মুখে পড়ে গেছেন মাশরাফি।

mushfiq after hitting ton against south africa as first bangladeshi

মুশফিকুর রহিম: টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুশফিক সম্ভবত তার অধ্যায়টা শেষ করে ফেলেছেন। অথবা একটা সিরিজের ব্যর্থতা মানে সব শেষ নয়— এই কথাটা সামনে এনে তাকে আরো কিছু সুযোগ দিতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে অধিনায়ক হিসেবে নয়, মুশফিকের অনেক বড় কাজ বাকি পড়ে আছে ব্যাটসম্যান হিসেবে। টেস্ট সিরিজে দুর্বল অধিনায়কত্বের পর ওয়ানডেতে যেভাবে হেসেছে তার ব্যাট এবং আগেও ব্যাট হাতে তিনি যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তা এ কথা নিয়ে নিশ্চয় কারো আপত্তি নেই যে, মুশফিক তার দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সক্ষম। আগামী কয়েকটা মাস তার জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জিং।

tamim might play second odi against south africa

তামিম ইকবাল: ইনজুরি জর্জর তামিম ইকবাল দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তেমন কোনো ভূমিকাই নিতে পারেননি। পুরোপুরি ফিট থাকলে তিনি গড়ে দিতে পারতেন বাংলাদেশের ভাগ্য। তবে সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। সাকিবের মতো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে পরিণত সময়ে থাকা তামিম ইকবালের জন্য আগামীর সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দলকে সফলতার স্বর্ণালী পথে উঠিয়ে দেয়ার জন্য তামিমকে করতে হবে এমন কিছু, যা করার জন্য গত এক দশক ধরে তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন।

mahmudullah riyad in practice

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ: ব্যাটে-বলে যে কাজটা রিয়াদের করার কথা ছিলো, তা তিনি পারেননি। কিন্তু তার সামর্থ্য এখনো অগাধ ভরসা আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের। আগামী কয়েকটা মাসে তার পারফর্ম্যান্স দেখা হবে আতশ কাচের নিচে ফেলে। মাহমুদুল্লাহ যদি তাকে উতড়াতে না পারেন, আবার যদি দেশকে স্বস্তিদায়ক একটা পরিবেশে এনে দেয়ার জন্য অবদান রাখতে পারেন, তবে তার ভবিষ্যত ক্যারিয়ার নিশ্চিতভাবেই পড়ে যাবে ভয়াবহ হুমকির মুখে। পারফর্মার মাহমুদুল্লাকে এই মুহূর্তের বাংলাদেশের খুবই দরকার।

সব মিলিয়ে তরুণ এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের এক সঙ্গে পারফর্ম করার কঠিন চ্যালেঞ্জ যদি বাংলাদেশ দল যথাযথভাবে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতা তাড়িয়ে ফিরবে বহুদিন। খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দারুণ কিছুই করতে হবে বাংলাদেশকে।