আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 17 মিনিট আগে

শিরোপা অর্জনের চেয়ে ধরে রাখাটাই বেশি কঠিন। সেটা পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চতুর্থ আসরে বুঝল ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। আপ্রাণ চেষ্টা করেও ফাইনালে উঠতে পারল না মোহাম্মদ সামির দল। প্লে-অফ পর্বের প্রথমটাতে জিতলেও পরেরটাতে হেরে বিদায় নিল দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

kamran celebrates after century

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করেছে পেশোয়ার জালমি। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হারলেও ফাইনালের ওঠার দ্বিতীয় সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে তারা। শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদকে ৪৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ড্যারেন স্যামির দল।

দাপুটে এই জয়ে মধুর একটা প্রতিশোধও নেওয়া হলো পেশোয়ার জালমি। গত আসরে এই ইসলামাবাদের কাছে হেরেই যে শিরোপা স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাদের! এনিয়ে দ্বিতীয়বার পিএসএলের ফাইনালে উঠল পেশোয়ার। রোববার করাচির ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মুখোমুখি হবে তারা। দুদিন আগেই এই দলটার কাছে একবার হেরেছে পেশোয়ার।

করাচিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডারের তাণ্ডবে রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার জালমি। নির্ধারিত ওভারে পাঁচ উইকেটে ২১৪ রান করে তারা। দলকে রানপাহাড়ে চড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার কামরান আকমল ও ইমাম-উল-হক।

ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১৩৫ রানের জুটি। ১২.২ ওভারে জুটি ভাঙে ইমাম ৪৮ রানে বিদায় নিলে। ৩৩ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও দুটি ছক্কা মেরেছেন ইমাম। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক কামরান কাল ৪৩ বলে করেছেন ৭৪ রান। তার তাণ্ডবে ছিল ১০টি চার ও তিনটি ছক্কার মার।

পেশোয়ারের দুইশোর্ধ্ব রানে অবদান আছে দুই ক্যারিবীয় কাইরেন পোলার্ড ও ড্যারেন স্যামিরও। ২১ বলে চারটি ছক্কা ও এক চারে ৩৭ রান করেছেন পোলার্ড। দুটি করে চার-ছক্কায় স্যামি খেলেছেন ৩০ রানের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংস। ইসলামাবাদ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ক্যামেরন ডেলপোর্ট নিয়েছেন দুই উইকেট।

২১৫ রানের হিমালয় তুল্য লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো শুরু করলেও চ্যাম্পিয়নরা থমকে গেছে আশা জাগানোর আগেই। ২.২ ওভারে ২৪ রানে বিচ্ছিন্ন হয় তাদের উদ্বোধনী জুটি। দুই রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ডেলপোর্ট ও ওয়ালটন উইকেটের লাগাম টেনে ধরলেও পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি।

আস্কিং রেটের চাপেই শেষ হয়ে গেছে তারা। ২৫ বলে তিনটি চারে ২৮ রান করেছেন ওপেনার ডেলপোর্ট। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী লুক রঞ্চি নয় বলে ১৭ রানে আউট হয়েছেন। ২৯ বলে তিনটি করে চার-ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন চাদউইক ওয়ালটন। ১৫ বলে ১৯ রান এসেছে হুসেইন তালাতের ব্যাট থেকে।

শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ১৪ বলে ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটা শুধু দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। ইনিংসে ৩টি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে নয় উইকেটে ১৬৬ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে ইসলামাবাদ। পেশোয়ারের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান আলি ও ক্রিস জর্ডান। তবে তাণ্ডব দেখানো কামরান আকমল হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পেশোয়ার জালমি: ২১৪/৫
ইসলামাবাদ ইউনাইটেড: ১৬৬/৯
ফল: পেশোয়ার জালমি ৪৮ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: কামরান আকমল (পেশোয়ার জালমি)
ফাইনাল: ১৭ মার্চ ২০১৯