advertisement
আপনি দেখছেন

ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার ক্ষত এখনো দগদগে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্ধুকধারী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলায় পঞ্চাশ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ওই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ফলে আলোচনায় এসেছে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি।

bcb president papon

ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও ক্রিকেটারদের হামলার মুখে না পড়ার শুকরানা জানাতে আজ বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশেষ দোয়া শেষে বিসিবি সভাপতি নামজুল হাসান পাপান বলেন, 'ভবিষ্যতে আর শুধু বিদেশি নিরাপত্তার উপর নির্ভর করা হবে না। প্রয়োজন বুঝে নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।'

পাপন বলেন, 'আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, আমরা যখন সিকিউরিটি নিয়ে কথা বলতে যাই, ওদের ধারণা আমাদের কেউ কিছু করবে না। তবে এই ঘটনার পর সিকিউরিটি ইস্যু সব জায়গায় জোরদার করা হবে। আমাদের তরফ থেকে অবশ্যই, আগে যেটা বলতো তা মেনে নিয়েছি, এমওইউ-তে বলা থাকে সব সিকিউরিটি ওরা দেখবে। ওদের উপর সব ছেড়ে দিতাম। কিন্তু এটা আর ছাড়বো না। সামনে আগের চেয়ে ভালো হবে সিকিউরিটি।’

তিনি বলেন, ‌'আগে তো বিষদ আলোচনা করতাম না। নিউজিল্যান্ডে তিনদিন ছিলাম, সেখানে কোনো পুলিশই দেখিনি। ওই দেশটাই হয়তো এমন। পুলিশ থাকলেও তারা মসজিদে পাহারা দেয়ার কথা চিন্তাই করেনি; কিন্তু নতুন ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাদের যদি মনে হয় বিদেশ থেকে যা দিচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিবো। প্রয়োজনে নিজস্ব সিকিউরিটি পাঠাবো। '

উপমহাদেশে নিরাপত্তার বিষয়টি অন্যভাবে দেখা হয় বলে মনে করেন পাপন। তিনি বলেন, 'অন্য দেশে দেখেন, ক্রিকেট খেলার কথা বলি, ইউকে'তে (ইংল্যান্ড) সিকিউরিটি একদম ভিন্ন। আমাদের মতো সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা আমরা কোথাও দেখি না। আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া যান, নিউজিল্যান্ড বা সাউথ আফ্রিকা যান, ওদের একেক জায়গায় একেক রকম (সিকিউরিটি)। লন্ডনে যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছিলো, সেখানেও সিকিউরিটি বলতে ছিল নামমাত্র। সেখানে পুলিশ-বন্দুক-গাড়ি, এগুলো দেখাই যায় না। এটাই ওদের সিস্টেম। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাও একই রকম। সিঙ্গাপুরে আমার নিজের অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রপতি যায় শুধু একটা মোটরসাইকেল নিয়ে। এটাই ওদের সিস্টেম।’

কিছুদিন পরই একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড যাবার কথা বাংলাদেশ দলের। নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কার্যক্রম কী তবে এই সিরিজ থেকেই শুরু হচ্ছে? এই প্রশ্নে বিসিবি সভাপতির উত্তর, 'এ রকম কোনো চিন্তা এখনো করিনি। আমরা এখন যে কোনো দেশে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চাইবো। সেটা ঠিক মতো প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা দেখতে কাউকে পাঠাবো। সিকিউরিটির লোকই পাঠানো হবে, ব্যাপারটা তা নয়। যে কাউকে পাঠানো হবে। দেখা হবে ওরা যা বলছে, তা ঠিক মতো আছে কি না। এরপর যদি মনে হয় ঠিক নেই, তাহলে আমরা প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নিবো।'

sheikh mujib 2020