advertisement
আপনি দেখছেন

লক্ষ্যটা ১৯৮ রানের। নিঃসন্দেহে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কঠিন চ্যালেঞ্জ এটা। কাইরেন পোলার্ড তাণ্ডবে প্রায় পাহাড়সম লক্ষ্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। বুধবার শেষ বলের নাটকে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে তিন উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

mumbai inidians celebrate a thriller win

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও ক্রিস গেইলের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সুবাদে নির্ধারিত ওভারে চার উইকেটে ১৯৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। জবাব দিতে নেমে পোলার্ডের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে থ্রিলার জয় তুলে নেয় মুম্বাই।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে ছয় ম্যাচে এটা মুম্বাইর চতুর্থ জয়। আট পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তিনে উঠে এসেছে মুম্বাই। তাদের সমান পয়েন্টে দুইয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চারে আছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। শেষের দলটি অবশ্য এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

পাঞ্জাবের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দিয়েছেন দুই ওপেনার রাহুল ও গেইল। ১৩.৫ ওভারে ১১৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানবের বিদায়ে। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৬ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন গেইল। ইনিংসে সাতটি ছক্কার পাশাপাশি তিনটি চার মেরেছেন গেইল।

তবে সঙ্গী হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে পাঞ্জাবকে এগিয়ে নেন রাহুল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। পাঞ্জাব ওপেনার তুলে নিয়েছেন স্বপ্নের সেঞ্চুরি। ৬৪ বলে ছয়টি করে চার-ছক্কায় ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন রাহুল। বাকি চার ব্যাটসম্যানের কেউ যেতে পারেননি দুই অংকে।

পাঞ্জাবের ছুড়ে দেওয়া বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে মুম্বাই। ২৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো মুম্বাইর চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে ৯৪ রানে। কুইন্টন ডি কক (২৩ বলে ২৪), সিদ্ধেশ লাদ (১৩ বলে ১৫) ও সূর্যকুমার যাদব (১৫ বলে ২১) আউট হয়েছেন উইকেটে থিতু হওয়ার পর।

দলীয় সংগ্রহ শতক ছোঁয়ার আগেই ১২ ওভার শেষ মুম্বাইর। নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ছাড়া খেলতে নেমে কী পরীক্ষাতেই না পড়েছিল মুম্বাই! নেতৃত্বের জোয়াল যার কাঁধে পড়েছিল সেই পোলার্ডই আজ অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করলেন। খেললেন অধিনায়কোচিত এক ইনিংস। ৩১ বলে ৮৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের খুব সন্নিকটে পৌঁছে দিয়েছিলেন পোলার্ড।

সাজঘরে ফেরার ফেরার আগে টর্নোডো ইনিংসে ১০টি ছক্কা ও তিনটি চার মেরেছেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। পোলার্ডের অবিশ্বাস্য এই ব্যাটিংয়েই কঠিন ম্যাচটা সহজে জয়ের হাতছানি ছিল মুম্বাইর সামনে। শেষ দুই ওভারে ৩২ রান দরকার ছিল মুম্বাইর। পোলার্ড ঝড়ে ১৯তম ওভারে ১৭ রান নেয় তারা।

অঙ্কিত রাজপুতের শেষ ওভারে ১৫ রানের কঠিন সমীকরণ ছিল পোলার্ডদের সামনে। পাঞ্জাব বোলারের প্রথম বলটিই হলো 'নো'। ছক্কা হাঁকান পোলার্ড। পরের বলে আবার চার। এক বলেই ১১ রান হয়ে গেল! পাঁচ বলে চার রানের মামুলি সমীকরণ। পরের বলেই আউট হয়ে যান পোলার্ড। কিন্তু সাজঘরে যাননি তিনি, সীমানা দঁড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে তিনি দেখেছেন সহজ অংকটা মেলাতে কী বেগটাই না পেতে হলো তার দলকে।

নখ কামড়ানো উত্তেজনার ম্যাচটার নিষ্পত্তি হলো শেষ বলে। প্রয়োজনীয় দুই রান নিয়ে ফেলে মুম্বাইর আলজারি জোসেফ। ১৩ বলে দুটি চারে ১৫ রানে দলকে জিতিয়েই উইকেট ছেড়েছেন ক্যারিবীয় এই পেসার। তার সমান বল ও বাউন্ডারিতে ১৯ রানে আউট হয়েছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে গেইল-রাহুলদের ম্লান করে দেওয়া সাইক্লোন ইনিংসের সুবাদে অবধারিতভাবেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন পোলার্ড। ২৪ ছক্কার ম্যাচটা তো সুপার ওভারেরও আভাস দিয়েছিল। তবে যা হয়েছে সেটাই বা কম কীসে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব: ২০ ওভার, ১৯৭/৪
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: ২০ ওভার ১৯৮/৭
ফল: মুম্বাই ইন্ডিয়ার্স তিন উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: কাইরেন পোলার্ড (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)

পাঞ্জাবের পরের ম্যাচ: ১৩ এপ্রিল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু, রাত ৮.৩০টা;
মুম্বাইর পরের ম্যাচ: ১৩ এপ্রিল, রাজস্থান রয়্যালস, বিকেল ৪.৩০টা;
বৃহস্পতিবারের ম্যাচ: রাজস্থান রয়্যালস-চেন্নাই সুপার কিংস, রাত ৮.৩০টা;