advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 10 মিনিট আগে

ইডেন টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তের ঘটনা। টিভি দর্শকদের জন্য মুরালি কার্তিকের সঙ্গে পিচ রিপোর্ট করছিলেন সুনিল গাভাস্কার। রিপোর্টে পিচ সম্পর্কে না যতো কথা হলো তার চেয়ে বেশি হলো বাংলাদেশকে ভৎসনা। বাংলাদেশ দলকে সরাসরি ‘অর্ডিনারি’ বলেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি।

sunil gavaskar papon mushfiq

মুরালি কার্তিক পিচ নিয়ে প্রশ্ন করলে গাভাস্কার বলেন, ‘পিচ নিয়ে বলার কিছু আসলে নেই। পিচ যেমনই হোক না কেন, তাতে যায়-আসে না। বাংলাদেশ অল্পতেই গুটিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এই দল ‘অর্ডিনারি’, তাদের নিবেদন ‘অর্ডিনারি’, টেকনিক ‘অর্ডিনারি।’

গাভাস্কার বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য খারাপ লাগছে আমার। ক্রিকেটের প্রতি তাদের এতো আবেগ কিন্তু দলের কাছ থেকে তার কী প্রতিদান পাচ্ছে তারা? এই দুই টেস্টে কোনো নিবেদন দেখা গেল না বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের, তাড়নার চিহ্ন চোখে পড়ল না।’

গাভাস্কারের ‘অর্ডিনারি’ শব্দটা হয়তো ভালো লাগবে না অনেকের। কিন্তু সমালোচনার সুরে ভারতীয় অধিনায়ক চিরসত্য কথাটাই বলে দিলেন না কি?

ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে রান করেছে ১৫০, দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩। অপর দিকে ভারত ছয় উইকেট হারিয়েই তোলে ৪৯৩ রান। ইন্দোরে প্রতিরোধের লেশ মাত্র দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে ইডেনেও। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রীর টেস্ট খেলতে নেমে মুমিনুল হকের দল প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১০৬ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানে। দুই টেস্টেই হারতে হয়েছে ইনিংস ব্যবধানে। চার ইনিংস মিলিয়ে কোন বাংলাদেশি সেঞ্চুরি পাননি। হাফই সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র একজন, মুশফিকুর রহিম।

টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজ অনুযায়ী বাংলাদেশের পক্ষে খেলতে পেরেছেন কেবল মুশফিকই। মোহাম্মদ মিঠুন, সাদমান ইসলামদের সঙ্গে অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হকদেরও আনাড়ি ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আউটে ভারতীয় বোলারদের চেয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের অবদানই বেশি!

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবকাঠামো এখনো যে কতোটা দুর্বল এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রিকেটারই যে টেস্টের জন্য প্রস্তুত নয় সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মিঠুন, ইবাদতরা।

ইডেন টেস্টের শেষে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টে যে ভুলগুলো করেছে তা থেকে শিক্ষা নিবে বাংলাদেশ। প্রশ্ন হচ্ছে কবে শোধরাবে বাংলাদেশ? কদিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরেও ঠিক একই কথা বলা হয়েছিল।

sheikh mujib 2020