advertisement
আপনি দেখছেন

শুরু হয়ে গেল বিশেষ টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু বিপিএল। বাইশ গজে ব্যাট-বলের যুদ্ধে অংশ নেওয়া দলগুলোকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এই পর্বে থাকছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। কেমন হলো দলটা? কুমিল্লার সার্বিক বিষয়াদি টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজ পেপারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

comilla warriors

বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল দল কুমিল্লার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস নামে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। গত আসরের শিরোপাও উঠেছে তাদের হাতে। এবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলে কুমিল্লা শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামবে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স নামে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের ওপর একটা বাড়তি চাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। অথচ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স পাশে পায়নি কোনো পৃষ্ঠপোষককে। বাকি ছয়টি দলেরই পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে কোনো না কোনো কোম্পানি। তবে এনিয়ে ভাবনা নেই তাদের। কারণ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অর্থায়ন করছে টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

পৃষ্ঠপোষক না পাওয়া কুমিল্লা দলটা অবশ্য শক্তিশালী হয়েছে। তবে গত আসরের সঙ্গে তুলনায় কিছুটা দুর্বল। গতবার এই দলে ছিলেন তামিম ইকবাল, শোয়েব মালিকের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানরা। নেতৃত্বে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং সেনসেশন স্টিভেন স্মিথ।

এবার জাতীয় দলের আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে দলে টেনেছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। আছেন নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সাব্বির রহমানও। যথারীতি এ বছরও দলটার নেতৃত্বে থাকবেন একজন বিদেশি ক্রিকেটার। তিনি শ্রীলঙ্কার তারকা দাসুন শানাকা।

দল নির্বাচনে মূলত দেশি ক্রিকেটারদের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে কুমিল্লা। প্লেয়ার ড্রাফট থেকে মাত্র চারজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়েছে তারা। তবে সংখ্যা নয়, দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কারণ বিদেশি চারজনই ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য রাখেন।

তারা হলেন মুজিব উর রহমান, ডেউইড মালান, কুশল পেরেরা ও সানাকা। শেষ দুজনের পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শানাকা বাদ পড়েছেন লঙ্কান দল থেকে। পেরেরা খেলবেন টেস্ট সিরিজে। তাই সিলেট পর্বের আগে কুশল পেরেরাকে পাচ্ছে না তারা।

দুশ্চিন্তা ছিল স্থানীয় চার ক্রিকেটার সৌম্য, সুমন, ইয়াসির এবং মাহিদুলকে নিয়েও। এই চারজন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন এসেএ গেমসে। এই চতুষ্টয়কে ছাড়াই প্রস্তুতি পর্ব সেরেছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। তবে তারা না থাকলেও ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে- চারজনই নেপালে ছিলেন খেলার মধ্যে। বিপিএলের প্রস্তুতি তারা সেখান থেকেই নিয়েছেন।

গতবারের চেয়ে দুর্বল হলেও অন্য দলগুলোর তুলনায় কাগজে-কলমে এবারো শিরোপার দাবিদার কুমিল্লা। পেস বোলিংয়ে তাদের ভরসা আবু হায়দার রনি ও আমিন হোসেন। স্পিন বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি আফগান সেনসেশন মুজিব। ব্যাটিং বিভাগে থাকছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার।

সৌম্য, ইয়াসির, মালান, পেরেরা, সাব্বির, শানাকাদের মিলিয়ে ব্যাটিং অর্ডার শক্তিশালীই বলা চলে। এসব ক্রিকেটারকে এক সুতোয় গাঁথার প্রয়াস চালাবেন গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে কোচিং করানো বিদেশি কোচ ওটিস গিবসন। সাফল্য কীভাবে ছিনিয়ে আনতে হয় তা ক্যারিবীয় কোচের ভালোই জানা আছে।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স স্কোয়াড:

দেশি: সৌম্য সরকার, আল আমিন হোসেন, ইয়াসির আলি চৌধুরি, সাব্বির রহমান, সানজামুল ইসলাম, আবু হায়দার রনি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সুমন খান ও ফারদিন হোসেন অনি

বিদেশি: কুসল পেরেরা, মুজিব-উর-রহমান, ডেউইড মালান, দাসুন শানাকা

অধিনায়ক: দাসুন শানাকা

প্রধান কোচ: ওটিস গিবসন

পরিচালনায়: নাঈমুর রহমান দুর্জয়

পৃষ্ঠপোষক: একমাত্র দল হিসেবে পৃষ্ঠপোষক পায়নি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স

সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (২০১৫ ও ২০১৯)

পুরনো নাম: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস