advertisement
আপনি দেখছেন

টেস্ট ক্রিকেটে দুঃসময় চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। সবশেষ ছয় টেস্টের পাঁচটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার। যার একটিও যায়নি পঞ্চম দিনে। জিম্বাবুয়ে যেন আশার আলো হয়েই এসেছে টাইগারদের কাছে। সেটা আবার নিরাশার ছাপ রাখল প্রথম দিনেই। ঢাকা টেস্ট যে মুমিনুল হকদের জন্য অগ্নিপরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠছে এদিনই তা বুঝিয়ে দিল জিম্বাবুইয়ানরা; শুষে নিল মুমিনুল হকদের শক্তির প্রায় সবটুকু।

masvaure punches gloves with ervine

আজ একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনের পুরোটা সময় বাংলাদেশকে ভোগাল জিম্বাবুয়ে। এদিন টাইগারদের সাফল্য বলতে ছয় উইকেট। তবে নাগালে রাখা যায়নি সফরকারীদের রানের চাকা। দিনের খেলা শেষে প্রথম ইনিংসে দুশো ছাড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। করেছে ২২৮ রান। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে গেছেন ক্রেইগ আরভিন।

নতুন অধিনায়ক শেন উইলিয়ামসের পরিবর্তিত হিসেবে তার কাঁধেই পড়েছে নেতৃত্বের জোয়াল। আরভিনও অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন নির্বাচকদের। সাতসকালে দারুণ শুরু করা বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে তাতেই। ৩৩০ মিনিট উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে আরভিন দিনভর পরীক্ষা দিলেন বাংলাদেশি বোলারদের।

বাংলাদেশের হতাশার দিনে উজ্জ্বল নাঈম হাসান। পেসার রুবেল হোসেনের জায়গায় একাদশে ফিরেই আজ চার উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। তন্মধ্যে ছিল দিনের প্রান্তভাগে আরভিনের উইকেট। প্রতিপক্ষ ভারপ্রাপ্ত দলপতির উইকেটটাই গোধূলিবেলায় বাংলাদেশকে অনেক বড় একটা স্বস্তির উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে।

প্রথম দিনের আরেকটি ইতিবাচক দিক বলতে পেসার আবু জায়েদ রাহির দুটি শিকার। একাদশে সুযোগ পাওয়া অন্য পেসার ইবাদত হোসেন ১৭ ওভার হাত ঘুরিয়ে থাকলেন উইকেটশূন্য। কুড়ি ওভার বোলিং করা স্পিনার তাইজুল ইসলামের হতাশাটাও একই। তবে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে বাংলাদেশের জেতার নতুন মানসিকতা তৈরি হওয়াটা বড় একটা ব্যাপার।

ঘরের মাঠে স্পিন ফাঁদ তৈরি করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মন্ত্রে এতদিন উজ্জীবিত ছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এলা টাইগাররা। যা রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা ফেলে দিল মুমিনুলদের। তিন সংস্করণ মিলিয়ে দুই দলের শততম ম্যাচটা যে একপেশে হচ্ছে না সেটারও প্রছন্ন একটা আভাস মিলে গেল তাতে। দ্বিতীয় দিন জিম্বাবুয়েকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াই হয়ে উঠল বড় চ্যালেঞ্জ।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে বল হাতে নেওয়া বাংলাদেশকে দিনের প্রথম উপলক্ষ্যটা এনে দিয়েছেন  আবু জায়েদ। দলীয় সাত রানে কেভিন কাসুজাকে ফেরান তিনি। ‘সকালই পুরো দিনের পূর্বাভাস’- প্রবাদটার স্বার্থকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাশা বাড়তে থাকে টাইগারদের। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার প্রিন্স মাসভারে ও অধিনায়ক আরভিনের ব্যাটই স্বাগতিক বোলারদের হতাশার উৎস হয়ে উঠল।

দিন শেষে হতাশাটা আরো গভীর চলে গেছে ৩২ রানে আরভিন জীবন পাওয়ায়। নাঈমের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ ফেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যহার করলেন সফরকারী অধিনায়ক। ক্যাচ মিসের মাসুল দিল বাংলাদেশ। অবশেষে মাসভারেকে আউট করে ১১১ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙলেন সেই নাঈমই। ডানহাতি অফ স্পিনারের জোড়া ধাক্কায় দারুণভাবে বাংলাদেশও ফিরে আসল ম্যাচে।

কিন্তু ফেরার কাজটা কঠিন করে দিলেন সেই আরভিন। সতীর্থ মাসরাভে ৬৪ রানে ফিরে গেলেও একপ্রান্তে অবিচল থাকলেন তিনি। নন-স্ট্রাকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখলেন ব্রেন্ডন টেলর (১০), সিকান্দার রাজা (১৮) ও টিমিচেন (৭) মারুমা আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষ বিকেলে তাদের পথ ধরলেন তিনিও। টেস্ট ক্যারিয়ারের ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করা আরভিনকে ১০৭ রানে ফেরান নাঈম।